,
সংবাদ শিরোনাম :
» « শ্যামনগরে ঘের মালিককে কুপিয়ে হত্যা» « আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাধ ভাঙন ॥ নতুন করে আরও ১০ গ্রাম প্লাবিত» « চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অবহিতকরন কোর্স উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক» « হাওড়দাহে উঠান বৈঠকে মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি ঃ শেখ হাসিনা দেশ কে এগিয়ে নিয়েছেন» « হনুমান আর কুকুরে অসম প্রতিযোগিতা ছোটাছুটি-দৌড়াদৌড়ি» « জলবায়ূ বিষয়ে সমমনা সংগঠনের সাথে সনাকের নেটওয়ার্কিং সভা» « লু স্টুডেন্ট ফোরামের উদ্যোগে গাড়ীর হেড লাইটে কালো স্টিকার» « সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত» « সাংবাদিক ফারুকের মা আর নেই» « সাতক্ষীরায় পূর্ব শত্র“তার জের এক যুবককে কুপিয়ে জখম» « নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে

খালেদ মাহমুদ ‘নোংরা জায়গায়’ থাকতে চান না

01-

এফএনএস স্পোর্টস: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে হারার পর চারপাশে যে ধরনের আলোচনা-সমালোচনার ঝড়, তাতে ভীষণ ক্ষুব্ধ খালেদ মাহমুদ। বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের মতে, জাতীয় দলের জায়গাটা নোংরা হয়ে গেছে। পরের সিরিজে চালিয়ে যেতে চান না কাজ। বিসিবির এই পরিচালক শূলে চড়ালেন সংবাদমাধ্যমকেও। আগামী মাসের শ্রীলঙ্কা সফরের ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফির আগে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সেক্ষেত্রে হয়ত টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ ও সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসলের ম্যানেজমেন্টকেই রেখে দেবে বিসিবি। সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি দলের অনুশীলনের ফাঁকে মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পরের সিরিজেও তার দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়ে মাহমুদ উগরে দিলেন ক্ষোভ। “নিদাহাস কাপে বোর্ড ঠিক করবে (দায়িত্বে কে থাকবে)। কারণ বোর্ডই আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। কাজ করব না, এই কথা আমি কখনোই করতে চাই না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাঙালি কেউ কাজ করলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা। দল হেরে যাওয়ার পরও যে আমি এই দেশে আছি, এটাই বড় কথা। চন্দিকা (হাথুরুসিংহে) যখন প্রথম এলো, আরও বড় বড় কোচ এসেছে, তখনও শুরুতে ফল খারপ হয়েছে। কিন্তু এ রকম হয়নি।” “খারাপ ফলের দায় আমি নিতেই পারি। আমাদের পরিকল্পনায় ভুল থাকতে পারে, আরও কিছু থাকতে পারে। কিন্তু আরও অনেক ঘটনা তো আসে (মিডিয়ায়)। আমার ওপরও অনেক দায় আসে। এটা আমি বোর্ডকে বলব। ব্যক্তিগতভাবে আমি একটুও আগ্রহী নই (চালিয়ে যেতে)। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে আমার কাজ করতে ইচ্ছেই করছে না। নোংরা লাগছে জায়গাটা।” নোংরা জায়গাটা কেমন, সেই ব্যাখ্যা চাওয়া হলে খালেদ মাহমুদ একহাত নিলেন সংবাদমাধ্যমকে। “অন্য কিছু নয়। বলার কিছু নেই। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নোংরা বলতে গেলে যে, মিডিয়ায় যেভাবে বলা হয়ৃ আমাদের ক্রিকেটের একটা বড় অন্তরায় মিডিয়াও। আমরা এত ‘ফিশি’ হয়ে যাচ্ছি আস্তে আস্তে, মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন এখন আমার কাছে।” “মিডিয়ায় এত বেশি আলোচনা হচ্ছেৃ আমার এটা মনে হচ্ছে, এত বছর ধরে ক্রিকেটে আছি, এত গসিপিং, এত কিছুৃ ঠিক আছে, এসব হবেই, ভালো-খারাপ আসবেই। সবকিছুই আসবে। কিন্তু কিছুকিছু জিনিস নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে আমাদের ক্রিকেটের জন্য।” শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট চলার সময় ও পরে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর অন্যতম ছিল একাদশে মোসাদ্দেক হোসেনের জায়গা না পাওয়া। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাজে শটে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ বলে অপরাজিত ৮ রান করেছিলেন মোসাদ্দেক। সেই সময় তিনি আউট হলে চাপে পড়তে পারত দল। কিন্তু মোসাদ্দেক দলের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে সংযত রেখেছিলেন নিজেকে। এরপরও মিরপুর টেস্টে তার বাদ পড়া জন্ম দিয়েছিল অনেক প্রশ্নের। টেস্টের সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিল আবাহনীর ম্যাচ। মোসাদ্দেক খেলেন আবাহনীতে। এই ক্লাবেরও কোচ খালেদ মাহমুদ। বিসিবির বেশ কজন প্রভাবশালী পরিচালকও সম্পৃক্ত এই ক্লাবের সঙ্গে। মোসাদ্দেককে আবাহনীর ম্যাচে পেতেই টেস্ট একাদশে রাখা হয়নি কিনা, এই প্রশ্ন তুলেছিল বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমের ওপর খালেদ মাহমুদের বেশি ক্ষোভ মোসাদ্দেককে বাদ দেওয়ার সমালোচনা নিয়েই। “আমার সিদ্ধান্ত নয়। আমি তো গড নই। আমি একটা খালেদ মাহমুদ সুজন, সামান্য একজন মানুষ। আমার সামর্থ্যও অনেক কম। আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করছি, মানুষ সেটা স্বীকার করুক বা না। আমার মেধা খারাপ হতে পারে, টেকনিক্যালি খারাপ হতে পারি, হয়ত জানি না অনেক কিছু। কিন্তু অন্য বিষয়ে যখন কথা হয়, তখন আমাকে তা অনেক কষ্ট দেয়।” “যখন বলা হয় আমি আবাহনীর প্রধান কোচ, মোসাদ্দেককে খেলাইনি আবাহনীতে খেলানোর জন্যৃ যখন জাতীয় স্বার্থের কথা বলে কেউ এই ধরনের কথা বলে, তখন সত্যিই কষ্ট পাই। কারণ, আমি মনে করি না বাংলাদেশ দলের চেয়ে বেশি আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে স্পর্শ করতে পারে। পারবেও না। এসব কথা যখন বলা হয়, তখন সত্যিই খারাপ লাগে। মনে হয় যে এত বছর ক্রিকেটে থেকে কী লাভ হলো! মোসাদ্দেক ও আবাহনী যদি বাংলাদেশ দলের ম্যাচ হারার কারণ হয়ে যায়, তখন তা আসলেই কঠিন।” দলের প্রয়োজনের কথা ভেবেই মোসাদ্দেকের বদলে সাব্বির রহমানকে খেলানো হয়েছে, দাবি মাহমুদের। “৫৩ বলে ৮ রান করেছে, আমি দেখেছি, আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে। ১৯৮৩ সালে শুরু করেছি খেলা। কে পারে বা কে পারে না, কাকে কখন দরকার, এটা আমরাও বুঝি। আপনারা মিডিয়া হয়ত ভালো বোঝেন আমাদের থেকে, আমরাও বুঝি।” টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের মোড়কে দলের মূল কোচ ও একই সঙ্গে বিসিবি পরিচালক এই সাবেক অধিনায়কের মতে, সংবাদমাধ্যম নিজেদের চাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে চায়। “আমি বলতে চাচ্ছি, আপনারা কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চান। চন্দিকা (হাথুরুসিংহে) চলে গেল কেন? অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করানো হয়েছিল। অনেক কিছু করানো হয়। আমার পেছনে যদি লেগে থাকে এভাবে, তাহলে ভালো করলেও কখনও ভালো হবে না।” “আমি সুজন এত বছর যা করেছি, কখনও শুনিনি ভালো কিছু করেছি। শুধু শুনি খারাপই করেছি। সোশ্যাল মিডিয়া বলেন বা মিডিয়া, আজকে এমনও শুনি যে রাস্তায় গেলে নাকি মারও খেতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য রাস্তায় মার খেতে হলে তো খুব বিব্রতকর ব্যাপার।” ক্ষোভের সঙ্গে কথায় যে অভিমানের সুর, পরে তা ফুটে উঠল আর স্পষ্ট হয়ে। দেশের ক্রিকেটে নিজের অবদান মনে করিয়ে দিয়ে অভিমানের কথাও বললেন। “এত বছর ধরে আমি কাজ করছি, সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করেছি। আমার কেনো স্বার্থ নেই। ক্রিকেট বোর্ডে থাকাটাও আমার কোনো স্বার্থের ব্যাপার নয়। আমি সত্যি বলতে আগ্রহী নই (দায়িত্ব চালিয়ে যেতে)।” “আমি হয়ত বালাদেশের জন্য ভালো কিছু করছি না। যদি ভালো কিছু না করি, তাহলে এখানে থাকার দরকার কী!আমি এখানে কোনো স্বার্থের জন্য আসিনি। কিছু দরকার নেই আমার। আমি খুব ভালো আছি। খুব সুখী আছি। যা চাকরি করি, যতটুক পাই, খুব ভালো আছি।” এক পর্যায়ে অবশ্য বললেন, আবেগপ্রবণ হয়ে অনেক কথা বলছেন তিনি। “আমি হয়তবা ইমোশনাল হয়ে গেছি। আশা ছিল এই সিরিজটা জিতব। ওয়ানডে যেভাবে শুরু করেছিলাম, জেতা উচিত ছিল। সেটা হয়নি।”

Share
[related_post themes="flat" id="241822"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com