,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকতে পারে ইন্টারনেট» « সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত» « সাতক্ষীরায় নিয়তি কাঁদছে ভাগ্যের কারাগারে যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত» « নিউজ নেটওয়ার্কের আয়োজনে ২য় দফায় ৫ দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন» « দূর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং বাস্তবতা» « ব্রহ্মরাজপুর বাজারে নৌকার স্বপক্ষে প্রচার ও এমপি রবি’র উন্নয়নের লিফলেট বিতরণ» « কালিগঞ্জ টু বাঁশতলা সড়কটি বেহাল দশা : জরুরী সংস্কারের দাবি» « দুর্গাপুজা শান্তিপুর্ণ করতে আইন শৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা» « কেরালকাতা ইউনিয়নের ৩টি গ্রামে ৪২৭টি পরিবারে বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন» « সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করেন দোলন» « সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ’র মতবিনিময়

গাভায় ভ‚য়া এনজিও হাতিয়ে নিলো ১২ লাখ টাকা : ৪ প্রতারক আটক

ফিংড়ী প্রতিনিধি \ প্রতারনার ফাঁদ পেতে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে জামানত নিয়ে চাকুরী ও গৃহ নির্মান ঋণ, হস্ত শিল্প, স্বাস্থ্য সেবা, পন্য ঋণ ও ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি হায় হায় কোম্পানী ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় জনতার সহায়তায় গত শনিবার পুলিশ সংঘবদ্ধ চক্রের ৪ প্রতারককে আটক করেছে। জানা যায়, গত দুই মাস আগে জেলার পারুলিয়া, থানাঘাটা, গাভা, ব্রহ্মরাজপুর বাজার সহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে দি ডার্ক বিজনেস কো-অপারেটিভ লিঃ (গভঃ রেজিঃ নং-২৯৬/১৬) সাইনবোর্ড তুলে অফিসের কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বিভিন্ন পদে উচ্চ বেতনে চাকুরীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে দেয়ালে দেয়ালে সেঁটে দেয়া হয়। এতে করে উচ্চ শিক্ষিত নারী-পুরুষ বেকারত্ব ঘুচাতে লোভনীয় বেতনে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে প্রতিষ্ঠানে চাকুরী নেয়। নিয়োগকৃত ব্যক্তিরা এলাকায় কোম্পানীর নির্ধারিত ভর্তি ফরমে গৃহ নির্মান, হস্ত শিল্প, স্বাস্থ্য সেবা, পন্য ও ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে শুরু করে সঞ্চয় আদায়। বিশেষ করে যাদের এলাকায় গ্রহনযোগ্যতা বা পরিচিতি বেশি এমন ধরনের লোকজনকে টার্গেট করে প্রতিষ্ঠানে বড় বড় পদে নিয়োগ দেয়া হতো। যাতে করে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাসটা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে এভাবেই ধোকা দিয়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করতে থাকে। গত ২৮ দিনে ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা গ্রামের বিকাশ ওরফে প্যাচুর অফিস ভাড়া নিয়ে প্রতারকদের নিয়োগকৃত ২৭ জন কর্মী কয়েকটি অঞ্চল থেকে গৃহ নির্মান, হস্ত শিল্প, স্বাস্থ্য সেবা, পন্য ও ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা সঞ্চয় জমা হিসাবে হাতিয়ে নেয়। গত শনিবার (১০ ফেব্র“য়ারী) ব্রহ্মরাজপুর বাজারের পিন্টু ঘোষের দ্বিতীয় তলায় সদ্য ভাড়া নেয়া দি ডার্ক বিজনেস কো-অপারেটিভ লিঃ এর অফিসে ওই এলাকার কয়েকজন যুবক চাকুরীর জন্য যায়। এ সময় অফিসের লোকজনের কথা-বার্তায় সন্দেহ হলে তারা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ভ‚য়া বলে প্রমানিত হয়। এছাড়া অফিসের লোকজন সবকিছু প্রতারনা বলে স্বীকার করে। এই হায় হায় কোম্পানীর খবর ছড়িয়ে পড়লে গাভা অফিসের লোকজন ও গ্রাহকরা এসে ৪ প্রতারককে ধরে ফেলে। এরা হলেন বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সোনারায় গ্রামের মোঃ মোশাররফ হোসেনের পুত্র মীর জুমলা সুজন ওরফে মোঃ সোহাগ চৌধূরী (৩২), খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার পুরাইকাটি (গজারিয়া) গ্রামের মোঃ আনারুল ইসলামের পুত্র মোঃ হাফিজুর রহমান ওরফে মাসুম (৩০), সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার নলকাছারী বাড়ী গ্রামের মৃত গফুর আলীর পুত্র মোঃ মহরম আলী (৩৫) ও গাইবান্ধা জেলা সদরের বলাবানুনিয়া গ্রামের মতলেবুর রহমানের কন্যা শারমিন সুলতানা (৩০)। আটককৃতদের রাতেই স্থানীয় জনতা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস,আই অচিন্ত্য কুমার অধিকারীর মাধ্যমে সদর থানায় সোপর্দ করে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১১ ফেব্রয়ারী) সকালে সাতক্ষীরা থানায় প্রতারণার শিকার শ’খানেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহক হাজির হয়। এ সময় সাতক্ষীরা থানার ওসি (তদন্ত) শেখ শরিফুল আলম পুরো ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন। এ ঘটনায় ব্যাংদহা গাভা অফিসের টিম লিডার সাতক্ষীরা সদরের বাটকেখালী গ্রামের মোঃ আবুজার রহমানের পুত্র মোঃ ইমরান হোসেন (২৫) বাদী হয়ে আটককৃত ৪জন ও ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামী বানিয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং-২৩, তাং-১১/০২/১৮ ইং। আটককৃত মীর জুমলা সুজন জানায়, মাসুমের সাথে পরিচয়ের সুবাদে সেই তাদেরকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে। মাসুমের চাচাতো দুলাভাই সাতক্ষীরা মাগুরা গ্রামের জনৈক ইসমাইল হোসেন এই চক্রের মূলহোতা। প্রতিদিনের আদায়কৃত প্রায় সব টাকা সেই আমাদের কাছ থেকে গ্রহন করতো। সে নিজেকে পুলিশে চাকুরী করে বলে পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। তাকে ধরলে সব টাকা উদ্ধার সম্ভব। আটক শারমিন সুলতানা জানায়, গত ৬ মাস পূর্বে আগের সংসার ত্যাগ করে সম্পর্কের মাধ্যমে মীর জুমলা সুজনের সাথে সংসার শুরু করি। মাসুম ও তার দুলাভাই ইসমাইল হোসেনের প্রলোভনে পড়ে এই চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ি। তারা ঘটনার সব নায়ক। সব টাকাই তাদের কাছে আছে। আটককৃত মাসুম এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। ইসমাইলের শ্বশুরের নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম। সে সাতক্ষীরা মাগুরা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের পুত্র। অপর একটি সূত্র জানায়, ইসমাইলের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধের শর্তে ভ‚ক্তভোগীদের কাছে তার নিজ নামীয় ব্যাংক হিসাবের একটি চেক প্রদান করেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই অচিন্ত্য কুমার অধিকারী মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মামলার এজাহার কয়েকবার পরিবর্তন করিয়ে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে ফিংড়ী এলাকার কয়েকজন নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষকে জড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ফিংড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান শামসুর রহমান এবং ফিংড়ী ইউনিয়নে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকের বাধাঁর মুখে শেষ পর্যন্ত সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতারণার শিকার অফিস ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা শাহরিয়ার কবির পিন্টু, কালিপদ, ইমরান, সেলিম সহ কয়েকজন জানান, তারা এমনভাবে কার্যক্রম শুরু করে এটা যে এতবড় প্রতারণা তা আমরা কিছুতেই বুঝতে পারিনি। আটক শারমিন সুলতানা একজন স্মাট সুন্দরী হওয়ায় তারা তাকে ঢাকা অফিসের অডিট কর্মকর্তা সাজিয়ে এসি প্রাইভেট গাড়ীতে করে অফিস ভিজিট করাতো। এমন ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ থেকে অল্পতে বেঁচে গেছেন বলেও তারা মন্তব্য করেন। অনেক অসহায় ও গরীব ঘরের শিক্ষিত বেকার ছেলে-মেয়ে চাকুরী নিয়ে এখন মস্তবড় বিপদে পড়েছেন বলেও জানান। গ্রাহকদের চাপের মুখে অনেক কর্মী এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া অনেকে আবার লোকলজ্জার ভয়ে এলাকায় যেতে পারছেন না। ভ‚ক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা তাদের টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে আটকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা সোমবার (১২ ফেব্র“য়ারী) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার তাঁর কার্যালয়ে প্রতারণার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থ ১৬ জন কর্মীর মাঝে বিতরণ করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফিংড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান শামসুর রহমান। সাতক্ষীরা থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহম্মদ জানান, মামলার তদন্তে অপরাধীরা চিহ্নিত হবে। এ সমস্ত প্রতারকরা মানুষকে ঠকিয়ে সর্বশান্ত করছে। তিনি আর্থিক কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরী নেওয়ার আগে চাকুরী প্রার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালভাবে খোঁজ-খবর নেওয়ার কথা বলেন।

Share
[related_post themes="flat" id="241880"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com