,
সংবাদ শিরোনাম :
» « আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস ॥ বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী» « সাতক্ষীরায় পবিত্র ঈদুল আযহা শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপনের লক্ষে জেলা পুলিশ সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করবে ॥ বিশেষ সভায় পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান» « ভিজিএফর চাউল বিতরণ করেন সংসদ সদস্য» « সর্বত্র ঈদ আনন্দ, ঈদ উৎসব, ঈদ কেনাকাটা ॥ সাতক্ষীরার বিপনী বিতান গুলোতে কেনাকাটার ধুম» « সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত» « সাতক্ষীরায় ভূয়া চিকিৎসক আটক» « ড্রাইভার-হেলফারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ ॥ বদরতলায় ট্রাক চাপায় স্কুলছাত্রী নিহত ॥ জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থল পরিদর্শন» « জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের স্বেচ্ছায় রক্তদান» « খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাধ ভাঙন, চারিদিকে হাহাকার ॥ ৩ দিনেও সংস্কার হয়নি বেড়িবাধ» « ফেনসিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক» « বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোর সংঘর্ষে নিহত ৭

ব্যাংকে বিপুল টাকা অলস ফেলে রেখে ঋণের টাকায় প্রকল্প করে পিডিবি

biddut

এফএনএস : বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিপুল পরিমাণ টাকা অলস পড়ে আছে। কিন্তু সংস্থাটি এবং এর যেসব কোম্পানি রয়েছে তারা দেশের বাইরের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প নির্মাণ করে। বলা হয় সাড়ে চার ভাগ সুদে ওসব ঋণ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় সব কিছু মিলিয়ে ঋণের সুদের হার ৮ ভাগ ছাড়িয়ে যায়। অথচ পিডিবি নিজের টাকা বিনিয়োগ না করে অন্যের কাছে ৩ ভাগ সুদে রেখেছে। আর ৮ ভাগ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংকে পিডিবি ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা অলস ফেলে রেখেছে। আর এমনসব ব্যাংকে ওই টাকা রাখা হয়েছে, যাদের সঙ্গে পিডিবি বছরের পর বছর ধরে কোন লেনদেনও করে না। কেন বিপুল পরিমাণ টাকা অলস ফেলে রাখা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ বিদ্যুত বিভাগ। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এতো বড় আর্থিক গোজামিলের বিষয়ে কোন প্রশ্নই তোলেনি। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশি−ষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশি−ষ্ট সূত্র মতে, পিডিবির ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে ঢাকার পিডিবি সদস্যের (অর্থ) অধীন দফতরে রয়েছে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর বাকি অর্থ বিভিন্ন বিতরণ জোনের অধীনে ব্যাংক হিসাবে পড়ে রয়েছে। প্রতিমাসে পিডিবির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর প্রতিমাসে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয় ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তাতে প্রতিমাসে পিডিবির ঘাটতি থাকে ৩৫০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা। যদি ধরে নেয়া হয় পিডিবি তিন মাসের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (পরিচলন ব্যয়) হাতে রাখতে চায়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাকে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা হাতে রাখতে হয়। কিন্তু সেখানে কেন আরো ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা অলস ফেলে রাখা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, পিডিবির প্রায় সব অর্থই শর্ট টার্ম ডিপোজিটস (এসটিডি) হিসেবে রাখা হয়েছে। ব্যাংক ভেদে এমন আমানতের ওপর সুদের হার আড়াই থেকে ৩ ভাগ। অথচ ওসব টাকা যদি ফিক্সড ডিপোজিট -এফডিআর (নির্দিষ্ট মেয়াদী হিসাব) করে রাখা হতো, তাহলেও পিডিবি আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হতো। এফডিআরে এখন বিভিন্ন ব্যাংক সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ ভাগ পর্যন্ত মুনাফা দিয়ে থাকে। অথচ যেখানে বছরের পর বছর কোন লেনদেন নেই বা বছরে একবার বা দুবার লেনদেন হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানেও এসটিডির পরিবর্তে এফডিআর হিসাবে টাকা রাখা হয়নি। পিডিবি বিদ্যুৎ বিভাগের সব শেষ দেয়া হিসাব অনুযায়ী তাদের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের অধীনে ৬ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা এসটিডি হিসাবে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে এ ব্যাপারে জবাব চাওয়া হয়। সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত পিডিবির লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকায়। এই দুই অর্থবছরে পিডিবি দেখিয়েছে পর্যায়ক্রমে তাদের লোকসান হয়েছে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকার গ্রীষ্মের পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন তেল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছে। পিডিবি ব্যয় বৃদ্ধির আগাম পূর্বাভাস দিয়ে বলছে সেজন্য তাদের ১০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। একক ক্রেতা হিসেবে বেশি দামে বিদ্যুত কিনে কম দামে বিক্রি করায় বছরের পর বছর ধরে পিডিবির দেনার পরিমাণ বাড়ছে। সরকারের তরফ থেকে বাজেটে ভর্তুকি বলা হলেও অর্থ বিভাগ বলছে এটা সহজশর্তের ঋণ (সফট লোন)। যদিও ওই অর্থ পিডিবির তরফ থেকে কখনো পরিশোধ করা হয় না। শুধুমাত্র পিডিবির ব্যালান্সশীটে (আয় ব্যয় বিবরণী) লোকসানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পিডিবির এতো টাকা এভাবে বিনিয়োগ না করে ফেলে রাখা আইনসঙ্গত হয়নি। ওই টাকা ভোক্তার টাকা। পিডিবি ওই টাকা বিনিয়োগ করলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসতো। তাতে ভোক্তা কম দামে বিদ্যুত পেতো। অথচ পিডিবি বেশি সুদে ঋণ নিয়ে প্রকল্প করছে, আর কম সুদে নিজেদের টাকা ফেলে রেখেছে। ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনা করে কাজ করলে এটা সম্ভব ছিল না। এতে বোঝা যায় প্রতিষ্ঠানটির কোন আর্থিক জবাবদিহিতা নেই। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পিডিবির সদস্য (অর্থ) সেলিম আবেদ জানান, পরিকল্পনা হচ্ছে যেসব অলস অর্থ পড়ে আছে, তা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা। তবে প্রথমেই তা দেখা হবে কেন ওসব অর্থ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কোন্ কোন্ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করলে পিডিবি লাভবান হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

Share
[related_post themes="flat" id="241945"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com