,
সংবাদ শিরোনাম :

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করে \ পরিবার নিয়ে দেড় মাস বাড়ি ছাড়া বিশ^জিত

03 Monirampur Bari Sara

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি \ মনিরামপুরের কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন আলীপুর গ্রামের বিশ^জিত হালদার। প্রাণনাশের ভয়ে গত দেড়মাস যাবত বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রীসহ পরিবার নিয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পথে পথে ঘুরছেন। এলাকায় ফিরলেই হত্যা করা হবে এই আশংকায় ঘরে ফেরা হচ্ছে না তাদের। ফলে মানবেতর জীবন কাটছে পরিবারটির। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বিশ্বজিতের স্ত্রী সুইটি হালদারকে নানাভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। চেয়ারম্যানের এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে পরিবারটির উপর। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ও দুই দফা সংবাদ সম্মেলন করেও জীবনের নিরাপত্তা পাচ্ছেন না পরিবারটি। তবে চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র বলছেন, বিশ^জিতের এলাকায় ফেরায় কোন বাধা নেই। বিশ^জিতের অভিযোগ,চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্রের কু-নজর পড়েছিল তার স্ত্রী সুইটি হালদারের ওপর। আলীপুর গ্রামের ভবেন্দ্রনাথের ছেলে পলাশের মাধ্যমে চেয়ারম্যান তার কু-প্রস্তাব পাঠায় সুইটির কাছে। সুইটি চেয়ারম্যানের কথায় সাড়া না দিয়ে বিশ^জিতের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। এই নিয়ে সে পলাশকে সাবধান করতে গেলে শুরু হয় শত্রæতা। বিশ^জিতের শিশু ছেলে অয়ন (৭) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গত ২৮ জানুয়ারী পলাশের বাড়ির লোকজন তার পিছে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে শত্রæতা শুরু করে বলে অভিযোগ। অয়ন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে তার মাকে বিষয়টি জানায়। তখন বিশ^জিতের মা স্মৃতি হালদার নিষেধ করতে গেলে তাকে ধরে মারধর করে পলাশের বাড়ির লোকজন। একই দিনে বিকেলে হেলারঘাটে বিশ^জিতের ওপর হামলা করে তাকে মারপিট করে পলাশের লোকজন। তাতেও থামেনি পলাশ। রাত নয়টার দিকে দলবল নিয়ে আবারও বিশ^জিতের বাড়িতে হামলা করে মারপিট ও ভাংচুর করে। বিষয়টি নিরসনের নামে পরের দিন ৩০ জানুয়ারী সন্ধ্যায় শালিসের ডাক দেয় চেয়ারম্যান। সেখানে হাজির হলে পরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যানের লোকজন বিশ^জিত,তার পিতা নিতাই হালদার,মা স্মৃতি হালদার, স্ত্রী সুইটি হালদার,কাকা তপন হালদারসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে তারা মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পুনরায় হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে স্ত্রী,সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নেয় সে।বিশ^জিত জানান, মারপিটের ঘটনায় ৩০ জানুয়ারী তার বাবা বাদী হয়ে নয় জনকে আসামী করে মনিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পড়ে এসআই প্রশান্তর ওপর। তিনি আসামীদের সামনে পেয়েও গ্রেফতার করেননি। এদিকে নিজের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্রসহ সাত জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন সুইটি হালদার। বিশ^জিত জানান,সেই মামলার তদন্ত করছেন পিবিআই। মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে চেয়ারম্যান তাদের নানাবিধ ভয় দেখিয়ে তার পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ^জিত জানান, গ্রামে বাবা ভ্যান চালাত আর তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। চেয়ারম্যান ও তার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের ভয়ে বসতবাড়ি ফেলে গত দেড়মাস পথে পথে ঘুরছেন। প্রাণনাশের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেননা। এছাড়া চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের ডেকে বিশ্বজিতের পরিবারকে একঘরে করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা গৃহবধু সুইটি হালদার মুঠোফোনে বলেন, আমার স্বামীকে জেলে ঢোকাতে পারলে চেয়ারম্যান শেখরের দির্ঘনিদের চাওয়া-পাওয়া পূরনে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সরেজমিন গিয়ে তার বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সাংবদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আশপাশের লোকজন সরে পড়েন। দুই একজনকে পাওয়া গেলেও তারা কেউ এই ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি।অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র জানান, কে বলেছে,বিশ^জিত বাড়ি ছাড়া। সে নিজেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে ষড়যন্ত্র করার জন্য। তার বাড়ি আসতে কোন বাধা নেই। মনিরামপুর থানার এসআই প্রশান্ত বলেন, আমি থানায় সবে এসেছি। আলীপুরের দুরত্ব থানা থেকে বেশ দূরে। সেখানকার কাউকে আমি চিনি না। আসামিরা সবাই আদালত থেকে জামিন নিয়েছে।

Share
[related_post themes="flat" id="245912"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com