,
সংবাদ শিরোনাম :
» « একনেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন» « সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দুঃস্থ পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে টিন বিতরন» « সুলতানপুর উঠান বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরলেন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি» « কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সংবাদ সম্মেলন ॥ আজ সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নজরুল সম্মেলন» « সাতক্ষীরায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় সাবেক ডিসি ও ইউএনও সহ তিন জনের কারাদন্ড» « পারুলিয়া ও কুলিয়ায় সমাবেশে অধ্যাপক ডাঃ আ,ফ,ম রুহুল হক এম,পি» « নজরুল ইসলামের নৌকার স্বপক্ষে পথসভা» « ভাঙ্গনের কবলে মুন্সীগঞ্জ বাজার রোড» « মরহুম চেয়ারম্যান মোশাররফের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া» « জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণকালে বিভাগীয় কমিশনার ॥ শিক্ষার্থীরা আগামীতে বিশ্বকে প্রতিনিধিত্ব করবে» « কুয়েটকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে চাই ॥ কুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন

অগ্নিঝরা মার্চ

Sriti Sudo

এফএনএস : আজ ১৩ মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আহ‚ত অসহযোগ আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন। পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বঙ্গবন্ধুর হাতে। তাঁর অঙ্গুলি হেলনে, নির্দেশনায় চলছে সবকিছু। মুক্তিকামী জনতার আন্দোলন এগিয়ে যাচ্ছে অনিবার্য পরিণতির দিকে। বাঙালীর একটাই স্বপ্ন, চিন্তা-স্বাধীনতা। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে পাক হানাদার শত্র“দের ওপর। একাত্তরের এ দিন সম্পর্কে পত্রিকায় শিরোনাম হয়Ñ “অসহযোগ আন্দোলনের ষষ্ঠ দিবস পরিপূর্ণ সাফল্যের সঙ্গে অতিবাহিত হয়”। এ দিনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতারা পরাজয় নিশ্চিত আঁচ করতে পেরে বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য পাক সরকারের কাছে আহŸান জানায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অনিবার্য, এটা আঁচ করতে পেরেই নানা ধোঁয়াটে পরিবেশ সৃষ্টি করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইয়াহিয়া চক্র। ওদিকে করাচিতে ভুট্টোও পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে রাখার জন্য নতুন করে দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহŸান জানালেন। অসহযোগ আন্দোলনের এক সপ্তাহ পর দেশ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষক সব শ্রেণী পেশার মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা বাংলার দামাল ছেলেদের এই আন্দোলন দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্রের আপাতদৃষ্টিতে নমনীয় মনোভাব বাঙালীরা কিছুতেই নতি স্বীকার না করে ১১৫ নম্বর আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে সে−াগান তোলেÑÑ ‘ওরা কাজে যাবে না।’ এ আদেশে পাকিস্তানী শাসক নির্দেশ দিয়েছিল, ‘যারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করে তারা ১৫ মার্চের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে চাকরি যাবে।’ বঙ্গবন্ধু সঙ্গে সঙ্গেই এ নির্দেশকে উস্কানিমূলক বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এদিন বঙ্গবন্ধু বিবৃতি দিয়ে বলেন, জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম এগিয়ে চলেছে, হুমকির কাছে নতিস্বীকার করবেন না। একাত্তরের এদিন মূলত পাক স্বৈরাচাররা পূর্ব পাকিস্তানের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করতে পারে। তারা চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারাও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা বুঝতে পারেন বাঙালী এবার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেবেই। সেই কারণে তারা এক জরুরী বৈঠক ডাকেন। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতারা অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহŸান জানান। একই দিনে জমিয়াতুল ওলেমা ইসলামিয়া সংসদীয় দলের নেতা মাওলানা মুফতি মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে তিনটি আহŸান জানানো হয়। তা হলোÑ পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার, ২৫ মার্চের আগে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে প্রতিটি গ্রাম, শহর, বন্দর, নগরে চলতে থাকে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন। পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি পর্বে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যবসাবাণিজ্য অচল হয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের ভিত নড়ে ওঠে।

Share
[related_post themes="flat" id="245926"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com