,
সংবাদ শিরোনাম :

ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৫০

FNS_12_03_18_N_31

এফএনএস : নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো লিখেছে, ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও নেপাল সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন খুলেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন ছিলেন যাত্রী, বাকিরা ক্রু। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের ৩২ জন, নেপালের ৩৩ জন, চীনের একজন ও মালদ্বীপের একজন যাত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী এবং দুইজন শিশু বলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। ইউএস-বাংলার জনসংযোগ শাখার জিএম কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নেপালে যোগাযোগ রেখেছি। বিস্তারিত তথ্য আমরা পরে জানাতে পারব।” উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেছেন এবং আহতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ২১১ ঢাকার শাহজালাল থেকে রওনা হয় বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে। নেপাল সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ডিজি সঞ্জীব গৌতমের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজ ত্রিভূবনে নামার কথা ছিল রানওয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে। কিন্তু সেটি নামার চেষ্টা করে উত্তর দিক দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতায় পড়েছিলেন। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুরের বরাত দিয়ে নেপালের ইংরেজি দৈনিক দি হিমালয়ান জানায়, উড়োজাহাজটি থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে আটজনকে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের কোনো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছর ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি ফকার এফ-২৭ বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন নিহত হন। ইউএস-বাংলা দুর্ঘটনায় জীবিত ১৯ জনের নাম প্রকাশ : কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির জীবিত ১৯ জন যাত্রীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের নাম- ইমরানা কবির হাসি, কবির হোসেন, মেহেদী হাসান, রিজওয়ানা আব্দুল−াহ স্বর্ণা সাঈদা কামরুন নাহার, শাহরিন আহমেদ, মো. শাহীন বেপারি, মো. রিজওয়ানুল হক, প্রিন্সি ধামি, সামিরা বায়জানকার, কিশোর ত্রিপাটি, হরিপ্রসাদ সুবেদী, দয়ারাম তামরাকার, কিষাণ পান্ডে, আশিস রঞ্জিত, বিনোদ পৌদাল, সনম সখ্য, দিনেশ হুমাগাইন, বসন্ত বহরা। এদের মধ্যে ইমরানা কবির হাসি রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক; ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের বাড়ি গাজীপুরে। কামরুন নাহার স্বর্ণা তার স্ত্রী। ঢাকায় ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ১৯ জনের নাম সাংবাদিকদের জানালে আহতদের অবস্থা কী, সে সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি তখন বলেন, “যেহেতু অ্যাক্সিডেন্টটা বার্নের, এজন্য অনেকে কী অবস্থায় আছেন, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।” কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছেন আহতরা। আহতের সংখ্যা ২২ বলে নেপালের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতান জীবিত আছেন বলে আগেই জানিয়েছিল ইউএস-বাংলা। ক্রুদের মধ্যে ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা রশিদ ও ক্রু খাজা হোসেনের নাম কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া মৃতদের তালিকায় রয়েছে। আরেক ক্রু নাবিলার খবর পাওয়া যায়নি। নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, উড়োজাহাজটির ৫০ আরোহী নিহত হয়েছেন। তবে নিহত অধিকাংশের সবার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিধ্বস্ত বিমানটি আগুন ধরে যাওয়ায় অনেকের লাশ পুড়ে গেছে বলে নেপালি কর্মকর্তারা জানান। ইমরান আসিফ বলেন, “আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের দেশে ফিরিয়ে আনবে ইউএস বাংলা। আগামীকাল ইউএস বাংলা, সিভিল এভিয়েশন ও সংশি−ষ্টরা নেপাল যাবেন।”

Share
[related_post themes="flat" id="245961"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com