,
সংবাদ শিরোনাম :
» « আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ ॥ তিন স্তরের নিরাপত্তায় থাকবে প্রায় ৭লাখ ফোর্স» « সাতক্ষীরা জেলা সংবাদ পত্র পরিষদের সাথে প্রাক্তন সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজার মত বিনিময়» « সাতক্ষীরায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত» « পুরাতন সাতক্ষীরায় নির্বাচনী সভায় ॥ উন্নয়নের ধারা অভ্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চাইলেন মোস্তাক আহমেদ রবি» « বিচারিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিইসি ॥ মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলায় বিব্রত কমিশন» « নৌকা প্রতীককে বিজয় করার লক্ষ্যে শ্যামনগরে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত» « সাতক্ষীরা-৪ আসনে কুলা প্রতীক প্রার্থীর মতবিনিময়» « টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা» « মুক্তিযুদ্ধে সাতক্ষীরা ঃ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ॥ আশাশুনি কেয়ারগাতি হানাদার বাহিনীকে রুখে দেয় মুক্তিযোদ্ধারা» « সাতক্ষীরায় জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিক লীগের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত» « চাম্পাফুল বাজার টু বদরতলা পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা

মন্ত্রী-এমপিরা খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে প্রচারণায় নামতে পারছেন না ইসি

জি এম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে \ স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিতে কোন পরিবর্তন আনছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্বাচনের প্রচারণায় নামতে পারছেন না আইন প্রণেতা মন্ত্রী-এমপিরা। আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আচরণবিধির পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু দলটির দাবি নাকচ করে বিধি সংশোধন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ইসি বলছে, বিধি সংশোধনের মতো তাদের হাতে সময় নেই। এমনকি যতক্ষণ পর্যন্ত আচরণ বিধি সংশোধন না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সুবিধ ভোগী আইন-প্রণেতাদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। বরং উল্টো এমপি-মন্ত্রীদের তফসিল ঘোষিত সিটি নির্বাচনে সব ধরণের প্রচারণা থেকে বিরত রাখতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। শিগগিরই নির্বাচন শাখা থেকে এ চিঠি পাঠানো হবে। খবর ইসির দায়িত্বশীল সূত্রের। ইসির কর্মকর্তরা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় থাকাবস্থায়ও দলীয় প্রভাব ছিল। তবে, সেটা ছিল পরোক্ষ। কিন্তু দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার পর নিজ দল ও দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে স্থানীয়দের পাশাপাশি কেন্দ্রিয় নেতারাও মাঠে নেমে পড়েন। ভিআইপিরা স্থানীয় নির্বাচনের কোন প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না; কারণ আচরণ বিধিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রচারণার পথ বন্ধ রাখা আছে। এ তালিকায় স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা-বিরোধী দলীয় উপনেতা, মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার ও এমপিরা রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী নাগরিক হওয়ার কারণে তাদের প্রচারণা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত বৃহস্পতিবার তাদের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে এসে এমপিদের সিটি নির্বাচনে প্রচারণায় নামার সুযোগ চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বাইরে এসে সাংবাদিকদের এইচটি ইমাম বলেন, আরপিও নিয়ে বাস্তবে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমরা সেই সমস্যাগুলো আলোচনা করেছি। আচরণবিধি যেন নির্বাচনে বাধার সৃষ্টি না করে। নির্বিঘেœ নির্বাচন করার জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ দিতে যেটুকু দরকার, সেটুকুই যেন তারা রাখেন। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় মন্ত্রীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সিটি করপোরেশনে যেসব এমপি আছেন, নির্বাচনের কারণে এলাকায় যেতে পারেন না। গাজীপুর বা খুলনায় তো অনেক এমপি আছেন। তাদের ওপর যদি ওরকম নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে তারা অচল হয়ে যাবেন। এ জিনিসটি বাস্তবায়নমূলক যেন হয়, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এমপিদের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে তিনি ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জন-প্রতিনিধারা নির্বাচনে প্রচারণা চালান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন। আমাদের জন-প্রতিনিধিদের প্রচারণার সুযোগ চাই। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়েও কথা বলেছে একটি দল। ওনারা জানেন না নির্বাচনে জয়লাভের পরদিন থেকে দলগুলোকে পরের নির্বাচনে প্রচারণার জন্য প্রস্তুত হতে হয়। আর আমাদের দলের সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগের খরচে জনসভা করেছেন, রাষ্ট্রীয় টাকায় নয়। এদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সিইসির বরাত দিয়ে ইসি সচিব বলেন, এগুলো কমিশন সভায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। আইনসঙ্গত বিষয় বিবেচনা করে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সুখকর নয় বলে মনে করেন দেশের নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভিআইপিদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ না থাকার পরও অনেকে উৎসাহী হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মঞ্চে উঠে পড়েন। এতে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী অন্য প্রার্থীদের অধিকার ক্ষুন্ন হয়। সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ থাকে না। এখন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিদের প্রচারণার সুযোগ চেয়ে বিধি সংশোধনের দাবি তুলেছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি অনুযায়ী ইসি আচরণ বিধিতে সংশোধান আনলে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কমিশন। এমনিতেই আচরণ বিধি মেনে চলার প্রবণতা আমাদের দেশের প্রার্থীদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেই। আর অবাধ সুযোগ দেওয়া হলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবেন তারা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, এমপিদের নির্বাচনের প্রচারণায় অংশগ্রহণের জন্য আচরণ বিধি সংশোধনের পরিবর্তে আরো কঠিন শর্ত আরোপ করাই শ্রেয় যাতে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালিন সময় তারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় না যেতে পারেন। এ ধরণের শর্তজুড়ে আচরণ বিধিতে পরিবর্তন আনা হলে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের যে প্রবণতা রয়েছে তা কমে আসবে। এমনকি আচরণ বিধি লঙ্ঘণ করলেও প্রার্থিতা বাতিলের মতো বিধি-বিধান যুক্ত করতে হবে।

Share
[related_post themes="flat" id="250102"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com