,
সংবাদ শিরোনাম :

পাটকেলঘাটা বাজার হারিয়ে যেতে বসেছে তার অতীত জৌলুস

খান হামিদুল ইসলাম পাটকেলঘাটা থেকে\ কালের বিবর্তনে সময়ের চাহিদায় দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পাটকেলঘাটা বাজার উন্নয়নের ছোয়া না লেগে বরং পিছনে পড়ে রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের সুনামের এ বাজারটি হারিয়ে ফেলেছে তার অতীত জৌলুস। পুনঃরায় বাজারটিকে প্রাণবন্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় দোকানীরা। সরেজমিনে পাটকেলঘাটা বাজার ঘুরে ও প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, একসময় পাটকেলঘাটা বাজারের হাকডাক ছিল খুবই জোরালো। সাতক্ষীরা জেলার ভেতর পাটকেলঘাটা বাজার ছিল অত্যন্ত জম-জমাট। গরু, ছাগল, পান, সুপারি, হলুদ সহ সকল পণ্য বিক্রি কিংবা কিনতে দুর দুরান্ত হতে চলে আসতো এ বাজারে। লোকসমাগমের কারণে বাজারের দৃশ্যই ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হতো এ বাজার থেকে। বিশেষত শনি ও বুধবার ছিল পশু বিক্রির বিশেষ দিন। আবার পানের জন্য শুক্রবার দিনটি নির্দিষ্ট ছিল। হলুদ বিক্রি কিংবা ক্রয় সুনামের যেন কোনো দিক থেকে কমতি ছিলনা। সময়ের বিবর্তনে আজ আর সে দৃশ্য চোখেই পড়ে না। যৎ সামান্য পশু, পান আর হলুদ সহ অন্যান্য ফসল ফলাদি এ বাজারে বিক্রি হয়। পশু বেচাকেনা একেবারেই নেই বললে ভ‚ল হবেনা। উন্নতির চিত্রের পরিবর্তে অবনতি দৃশ্য যেন সর্বত্র বিরাজমান। যেখান থেকে সরকার তার রাজস্ব আয়ের অন্যতম স্থান, সেখানে কানাকড়িও উন্নয়ন কল্পে বিনিয়োগ না করে শুধু পকেটে ঢুকিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ। বাজারের নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন পন্থায় অবৈধ কামায় আর অসদাচারণ তার অন্যতম কারণ। এছাড়া কারণ খুজতে কথা হয় সেনপুর থেকে এ বাজারে আসা ইমদাদুল হক ইমনের সাথে। তিনি গভীর আক্ষেপ করে বলেন, ভালো আচরণ পেলে উন্নয়ন ছাড়া কখনও নিচে নামে না। যারাই প্রতি বছর এ বাজার ইজারা নেন তারা কখনও বাজারের ক্রেতা কিংবা বিক্রেতাদের সাথে ভালো আচরণ করতেন না। যে কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সাধারণ ক্রেতা বিক্রেতাগণ। পাটকেলঘাটা বাজারের শেখ পোল্ট্রি ফিডের স্বত্তাধিকারী খায়রুল ইসলাম জানান, দাঁত থাকতে দাতের মর্ম না বুঝলে করুণ পরিণতি তো হবেই। জমজমাট বাজার আজকের দিনে যেন পুরোটাই ধস নেমেছে। চড়া মুল্যে খাজনা আদায় করা এর অন্যতম কারণ। যার কারণে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় পাটকেলঘাটা বাজারের আশ পাশ অঞ্চলে ছোট-বড় মাঝারি সহ বিভিন্ন স্থানে বাজার গড়ে উঠেছে। কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, বর্তমানে এ বাজারে আজ আর সেই পরিবেশ যেন একেবারেই নেই। যে কারণে ইজারাদারগণের বোধোদয় হলেও লোকসকল আর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আসতেই চাই না। পাটকেলঘাটা বাজারের ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, বিশেষ কিছু কারণে বাজারের আজ করুণ দশা। এ সকল প্রতিকুলতাকে পাশ কাটিয়ে সামনে আগানো চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কৃষকলীগ নেতা বিশ্বজিত সাধু বলেন, বাজারের আইনকানুনের একটি সাইনবোর্ড থাকা প্রয়োজন। কেননা যারাই এ বাজারের ডাক নেন তারা নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে অসদাচারণ, বেশি খাজনা আদায় আর বেচা কেনার সঠিক পরিবেশ দিতে ব্যর্থ হন। যে কারণে পাটকেলঘাটা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে গরু ছাগলের হাট, পানের হাট, হলুদের হাট সহ কাচা মালের বাজার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম কুমিরার বাহাদুরপুর, সেনপুর সহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে। ইজারা কমিটির বর্তমানে বোধোদয় হওয়ায় সকলকে সাথে নিয়ে আবারও নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছি।

Share
[related_post themes="flat" id="255031"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com