,
সংবাদ শিরোনাম :

বদ্ধ বুড়ি ভদ্রা নদীতে অর্ধশত অবৈধ নেট-পাটা ঃ অপসারনের দাবি এলাকাবাসির

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি \ ডুমুরিয়ায় শরাফপুর-সাহস-ভান্ডারপাড়া এই তিন ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বদ্ধ বুড়ি ভদ্রা নদীতে অবৈধ ভাবে নেট-পাটা স্থাপনের মাধ্যমে চলছে মৎস্য আহরন। এতে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দু‘পাড়ের প্রকৃত হাজার হাজার মৎস্যজীবি।এ ছাড়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি পলি পড়ে নদী হারাচ্ছে তার নাব্যতা। প্রকাশ্যে প্রায় অর্ধশত অসাধু ব্যাক্তিরা আইনকে অমান্য করে দিনের পর দিন এ কর্ম তৎপরতা চালিয়ে গেলেও তা দেখার যেন কেউ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসির।তবে আশু এ বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এমনটি জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায় উপজেলার শরাফপুর,সাহস ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে বদ্ধ বুড়ি ভদ্রা নদী। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২০কিলোমিটার। আর এ নদীর সাথে শরাফপুর, গজেন্দ্রপুর, কাপালিডাঙ্গা, কুখিয়া, উলা,মইখালী, ভান্ডারপাড়াসহ প্রায় ২৪/২৫টি বিলের পানি নিস্কাশন হয়ে থাকে। নদীর পানি নিস্কাশনের জন্য ৩টি স্লুইচ গেট থাকলেও তার একটি এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এখন শরাফপুর ও তেলিখালী স্লুইচ গেট দিয়ে কোন রকম এর পানি নিস্কাশন হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় এক শ্রেনীর অসাধু ব্যাক্তিরা ওই নদীর দু‘কুল ঘিরে স্লুইচ গেটের সামনে থেকে প্রায় ১শ হাত অন্তর নেট-পাটা স্থাপন করে মৎস্য আহরন করে আসছে। যার ফলে নদীর ছোট-বড় সকল মাছ এখন ওই অসাধু শিকারীর নিকট বন্ধি হয়ে পড়েছে। ফলে শত-শত প্রকৃত মৎস্যজীবিরা বঞ্চিত হচ্ছে মৎস্য আহরন থেকে। এ ছাড়া ঘন-ঘন নেট-পাটা দেয়ার ফলে পানি নিস্কাশনে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পলি পড়ে নদীভরাটির উপক্রম দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে কথা হয় হতদরীদ্র মৎস্যজীবি গজেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফ শেখ, মিনারুল শেখ, হালিম মোল­া, হাসেন আলীসহ অনেকের সাথে। তারা অভিােগ ও ক্ষোভের সাথে বলেন বাপ-দাদার আমল থেকে এই নদীতে মাছ ধরে সংসার চালিয়ে আসছি। আমাদের জীবন-জীবিকা এই নদীর উপর বললে চলে। কিন্তু সম্প্রতি প্রায় অর্ধশত প্রভাবশালী ব্যাক্তি গেটের মুখ থেকে শুরু করে অতি ঘন প্রায় অর্ধশত নেট-পাটা স্থাপন করেছে। যে কারনে আমরা এখন আর খেপলা জালে মাছ পাচ্ছি না। আমাদের সংসার আর চলছে না। অতি কষ্টে আছি। তা ছাড়া পানি নিস্কাশনে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। আশু ব্যবস্থা না নিলে শিগ্রই বদ্ধ বুড়ি ভদ্রা পরিনত হবে মরা ভদ্রায় আর এলাকা পরিনত হবে বিল ডাকতিয়ায়। কেন নেট-পাটা স্থাপন করে হাজার হাজার মৎস্যজীবিদের ঠকানো হচ্ছে এবং পানি নিস্কাশনে বাধাঁর সৃষ্টি করছে এমন প্রশ্নের জবাবে নেট-পাটা স্থাপনকারী শরাফপুরের শরুপ সরদার, আবুল শেখ, আজিজুল গাজী, হাফিজ শেখ,বজলে সরদার,গজেন্দ্রপুরের রশিদ খান,খোকা সরদার, জাফর গাজী, জব্বার গাজীসহ অনেকে বিষয়টি অবৈধ্য স্বিকার করে বলেন অনেক দিন হল নেট-পাটা দিয়ে নদীতে মাছ ধরে আসছি। কেউ কিছু বলে না তাই আর কি। যদি প্রশাসন বাধাঁ দেয় তাহলে বন্ধ করে দিব। যদি টাকা চায় তাও দিব। এ নিয়ে কথা হয় স্থানীয় শরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি জানান তার ইউনিয়ন এলাকায় কোন নেট-পাটা দিতে দেয়া হয় না। অন্য চেয়ারম্যানরা এমন ভুমিকা নিলে এটি অপসারন সম্ভব। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রী বলেন অবৈধ্য নেট-পাটার বিরুদ্ধে শিগ্রই অভিযান চালনো হবে। সকল জলাশয় ও নদী নেট-পাটা মুক্ত করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ প্রসংগে উপজেলা নির্বহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন জনস্বার্থ বিরোধী ও অবৈধ কোন কাজ চলতে দেয়া হবে না। এ জন্য প্রয়োজনিয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Share
[related_post themes="flat" id="261418"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com