,
সংবাদ শিরোনাম :
» « একনেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন» « সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দুঃস্থ পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে টিন বিতরন» « সুলতানপুর উঠান বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরলেন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি» « কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সংবাদ সম্মেলন ॥ আজ সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নজরুল সম্মেলন» « সাতক্ষীরায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় সাবেক ডিসি ও ইউএনও সহ তিন জনের কারাদন্ড» « পারুলিয়া ও কুলিয়ায় সমাবেশে অধ্যাপক ডাঃ আ,ফ,ম রুহুল হক এম,পি» « নজরুল ইসলামের নৌকার স্বপক্ষে পথসভা» « ভাঙ্গনের কবলে মুন্সীগঞ্জ বাজার রোড» « মরহুম চেয়ারম্যান মোশাররফের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া» « জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণকালে বিভাগীয় কমিশনার ॥ শিক্ষার্থীরা আগামীতে বিশ্বকে প্রতিনিধিত্ব করবে» « কুয়েটকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে চাই ॥ কুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন

সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী \ খালেদা জিয়া নারী জাতির কলঙ্ক

FNS_11_07_18_N_05

ঢাকা ব্যুরো \ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাসহ যে কোন উন্নয়নে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, নারী মানে একজন মা। কিন্তু একজন নারী হয়ে এতিমের টাকা মেরে খাওয়া এটা চিন্তাই করা যায় না। এটা সমস্ত নারী জাতির জন্য কলঙ্ক। এসময় তিনি বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসংক্রান্ত সম্পুরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম। জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একজন নারী হয়ে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আদালতের রায়ে জেলে রয়েছেন। মামলাটা আমরা করিনি। রাজনৈতিক কারণে করলে আমরা ২০১৪-১৫ সালেই তাঁকে গ্রেফতার করতে পারতাম। তিনি বলেন, কোর্টের রায়ে তাঁর সাজা হয়েছে। মামলাটি প্রায় ১০ বছর চলেছে। বিএনপি’র এতো জাঁদরেল জাঁদরেল আইনজীবী কেউই আদালতে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলো না। এতেই প্রমাণিত হয় তিনি অপরাধী। আর বিএনপি নেতারাও সেটা জানতেন বলেই মামলার রায়ের আগেই দলটির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা সংশোধন করে দুর্নীতিবাজ, অপরাধী ও দন্ডিতদের নেতা হওয়ার সুযোগ রাখা হলো কেন? বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস-নাশকতা ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা না থাকলে নারীরা নির্যাতিত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে একাত্তরের পাক হানাদার বাহিনীর মতো নারীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়, পাশবিক নির্যাতন চালায়। ৬ বছরের ছোট শিশুকে পর্যন্ত গণধর্ষণ করে। দেশের এমন কোন স্থান ছিল না যেখানে নির্যাতন হয়নি। যে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা ভোট পায়নি। তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলন ও নির্বাচন বানচালের নামে তারা নির্বিচারে নারীসহ দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সারাদেশে নাশকতা চালিয়েছে। যা নারীর ক্ষমতায়নের পথে বড় বাধা বলে তিনি উলে­খ করেন। জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিতে আমাদের আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা দরকার। আমরা তা নির্মাণ করবো। যার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ভৌগলিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে যোগাযোগ তৈরি করবো। আমরা বাংলাদেশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এছাড়া আমরা আরো উন্নত বিমানবন্দর নির্মাণ করবো। দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবো। গ্রামকে নগরে পরিণত করবো, দেশের সব গ্রামে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেব। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শান্তিময় উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অসামান্য ভ‚মিকা \ সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা সর্বদা কাজ করে চলেছি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান আজ সর্বস্বীকৃত। একদিকে আজ বাংলাদেশ যেমন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় রেখেছে অসামান্য ভ‚মিকা। যার ফলে অর্জন করেছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মানজনক স্বীকৃতি। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব শান্তির জন্য গৃহীত যে কোন উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণ বজায় থাকবে। সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বে একটি সুন্দর, স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশের ভ‚মিকা আজ সারাবিশ্বে স্বীকৃত। বর্তমানে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায় হলো সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ। সন্ত্রাসবিরোধী ১৪টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের প্রত্যেকটিতেই বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্য আজ সমগ্র বিশ্বে রোল মডেল। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে আমরা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও আমাদের এই উদারতা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা তথা শান্তি বজায় রাখতে অসাধারণ ভ‚মিকা রেখেছে, যা আজ সর্বজনবিদিত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ \ তরীকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে সব ধরণের সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ইতোপূর্বে জঙ্গী/ সন্ত্রাসী/ নাশকতামূলক/ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকান্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসীসহ সকল অপরাধীদের কর্মকান্ডরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম গঠন করে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান \ প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, গত ১৮ মে থেকে এ পর্যন্ত চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং এগুলো পরিবহনের বাহন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট মোট ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ২০ হাজার ৭৬৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ হাজার ২৮৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগি প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রেরণের পরিকল্পনা \ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে নিজেদের অবস্থানকে সমুন্নত রাখতে এর ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আয়ুস্কাল শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে প্রেরণ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও এর সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এ গৌরব আমাদের সরকারের, এ গৌরব দেশের ১৬ কোটি মানুষের। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ আওয়ামী লীগ সরকারের গতিশীল উন্নয়নের ধারাবাহিকতার অংশ। এই স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার আরেকটি স্বপ্ন পূরণ হলো।

Share
[related_post themes="flat" id="261493"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com