,
সংবাদ শিরোনাম :
» « রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব» « তালায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার» « খুলনায় বিদেশী পিস্তল ও গুলি সহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক» « সাতক্ষীরায় ইউসিবি ব্যাংকের ১৮১তম শাখা উদ্বোধন» « গাভা মাদ্রাসা ও ডি.বি বালিকা বিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন» « জননেতা এ্যাড আব্দুর রহিমের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী পালিত» « বাঁশতলা ও পরানদহা বাজরে নজরুল ইসলামের নৌকার স্বপক্ষে পথসভা» « নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে আসাদুজ্জামান বাবুর নির্বাচনী পথসভা» « আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে আলোকিত বাংলাদেশ» « একাডেমিক ভবন ও উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ কাজের ফলক উন্মোচন করেন এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ» « কলারোয়ায় আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

চলে গেলেন সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার

Edtor gola

এফএনএস : বাংলাদেশে সংবাদপত্র জগতে অন্যতম সফল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আর নেই। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মৃত্যু হয়েছে মুক্তি সংগ্রামী এই সাংবাদিকের। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। একুশে পদকজয়ী গোলাম সারওয়ার দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। এরপর দৈনিক যুগান্তরের মাধ্যমে সম্পাদকের খাতায় নাম লেখান তিনি। সর্বশেষ তিনি সমকালের সম্পাদক ছিলেন। গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক জানিয়েছেন। হৃদরোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় গত ২৯ জুলাই ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল গোলাম সারওয়ারকে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ অগাস্ট তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে; ভর্তি করা হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। সমকালের নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, সিঙ্গাপুরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। নিউমোনিয়া সংক্রমণ হ্রাসের পাশাপাশি ফুসফুসে জমে থাকা পানিও কমেছিল। হার্টও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল। “কিন্তু রোববার হঠাৎ করে তার রক্তচাপ কমে যায়। কিডনিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। এ অবস্থায় সোমবার বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।” সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম বলেন, “বাংলাদেশ সময় ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে উনার মৃত্যু হয়েছে।” গোলাম সারওয়ারের মরদেহ কবে নাগাদ বাংলাদেশে আনা হবে, সে বিষয়ে কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুকে বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হিসেবে দেখছেন তার সহকর্মী সাংবাদিকরা। গোলাম সারওয়ারের অধীনে কাজ করে আসা এক সাংবাদিক বলেন, দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সম্পাদনা এবং তারও পর অঙ্গসজ্জা থেকে ছাপানো পর্যন্ত প্রতিটি কাজে যুক্ত হতেন তিনি, যা এখনকার সম্পাদকদের মধ্যে দেখা যায় না। তার সহকর্মীরা বলেন, শৌখিন, কুটিরশিল্পসদৃশ সংবাদপত্রের ক্ষীণ বলয় থেকে বৃহৎ কলেবরের সংবাদপত্রের অভিযাত্রার পথিকৃৎ হলেন গোলাম সারওয়ার। দৈনিক পত্রিকা চেনা অবয়ব পাল্টে এখন যে রূপ নিয়েছে, তাতে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। গোলাম সারওয়ারের অধীনে কাজ করে আসা সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের ভাষায়, “পত্রিকায় অসাধারণ হেড লাইন এবং মেকআপ তো তার হাতের তালুতে।” ১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ায় জন্ম নেওয়া গোলাম সারওয়ার বানারীপাড়া হাই স্কুল, চাখার ফজলুল হক কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু তার। ওই বছরই দৈনিক সংবাদের সহসম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পর বানারীপাড়ায় ফিরে কয়েক মাস বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন গোলাম সারওয়ার। কিন্তু সেটা যে তার ক্ষেত্র ছিল না, তা স্পষ্ট তার পরবর্তী পদক্ষেপে। ১৯৭৩ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে; ব্যবসা সফল এই সংবাদপত্রটিতে বার্তা সম্পাদক হওয়ার পর একাধারে ২৭ বছর এই পদে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ইত্তেফাক গ্রুপের সিনে ম্যাগাজিন পূর্বাণীর নির্বাহী সম্পাদকও ছিলেন তিনি। ইত্তেফাক ও গোলাম সারওয়ার একসূত্রে গাঁথা- সংবাদ জগতে আলোচিত এই কথার ছেদ ঘটিয়ে ১৯৯৯ সালে সম্পাদক হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন গোলাম সারওয়ার। অল্প দিনেই প্রচার সংখ্যার দিকে সামনের দিকে নিয়ে আসেন যুগান্তরকে। এরপর ২০০৫ সালে সমকাল প্রকাশিত হয় তার হাত ধরে। মাঝে কিছু দিনের জন্য যুগান্তরে ফিরলেও পরে আবার ফিরে আসেন সমকালে। গোলাম সারওয়ার দেশের প্রতিনিধিত্বশীল সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ছিলেন; জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পর্ষদেও একাধিকবার দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন তিনি। তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান ছিলেন। ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের আপিল বিভাগেও তিনি ছিলেন। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন গোলাম সারওয়ার। ‘সম্পাদকের জবানবন্দি’, ‘অমিয় গরল’, ‘আমার যত কথা’ ও ‘স্বপ্ন বেঁচে থাক’ নামে তার চারটি প্রবন্ধ সংকলন রয়েছে গোলাম সারওয়ারের। বাংলা একাডেমি থেকে ‘রঙিন বেলুন’ নামে তার একটি ছড়ার বইও বেরিয়েছে। গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, “গোলাম সারওয়ার সংবাদপত্র জগতে ছিলেন অতি পরিচিত মুখ। তার মৃত্যু বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “তার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হল। “গোলাম সারওয়ার দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায় ও দাবি পূরণের সব আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন।” অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম শোক জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী এক যুক্ত বিবৃতিতে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Share
[related_post themes="flat" id="266022"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com