,
সংবাদ শিরোনাম :
» « রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব» « তালায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার» « খুলনায় বিদেশী পিস্তল ও গুলি সহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক» « সাতক্ষীরায় ইউসিবি ব্যাংকের ১৮১তম শাখা উদ্বোধন» « গাভা মাদ্রাসা ও ডি.বি বালিকা বিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন» « জননেতা এ্যাড আব্দুর রহিমের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী পালিত» « বাঁশতলা ও পরানদহা বাজরে নজরুল ইসলামের নৌকার স্বপক্ষে পথসভা» « নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে আসাদুজ্জামান বাবুর নির্বাচনী পথসভা» « আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে আলোকিত বাংলাদেশ» « একাডেমিক ভবন ও উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ কাজের ফলক উন্মোচন করেন এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ» « কলারোয়ায় আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ভারতীয় তেল আমদানিতে চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে পাইপলাইন নির্মাণ কাজ

এফএনএস : পাইপলাইনে ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। সেই লক্ষ্যে চলতি মাসেই ইন্দো-বাংলা পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আর তা শেষ হওয়ার সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর ফলে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপুল পরিমাণ পরিবহন খরচ এবং সিস্টেম লস কমে আসবে। পাশাপাশি দেশের ভেতরেও তেল পরিবহনে পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ডিজেল আমদানিতে নির্মিত হবে ২৩৭ কিলোমিটার পাইপলাইন। আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ডিপোতে ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে লাইনে পরিবহন হবে উড়োজাহাজের জেট ফুয়েল। তাছাড়া বঙ্গোপসাগরে নির্মিতব্য সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং থেকে তেল চট্টগ্রামের স্থলভাগে আনতে ১১০ কিলোমিটারের দুইটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জ্বালানি তেল পরিবহনে পাইপলাইন ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে ক্রুড ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল সামুদ্রিক জাহাজ, নৌ-জাহাজ, ওয়াগন ট্রেন এবং ট্যাংকলরিতে পরিবহন করা হয়। বিদেশ থেকে আমদানি শুরু করে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তেল সরবরাহে দীর্ঘকাল ধরে এসব উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে। তাতে সিস্টেম লস এবং পরিবহন খরচ বেশি পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার পাইপলাইন নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে। সেজন্য আগামী ৩ বছরে ৫টি বড় পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মোট ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে ওসব লাইন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। মূলত দেশজুড়ে সহজে জ্বালানি তেল পরিবহন ও খরচ কমাতেই পাইপলাইনগুলো স্থাপন করা হবে। তার মধ্যে বিদেশ থেকে তেল আমদানির খরচ এবং সিস্টেম লস কমাতে ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত নির্মিত হবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। প্রতি বছরই ওই চাহিদা বাড়ছে। তার মধ্যে আমদানি হচ্ছে প্রায় ৬৭ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনটি নির্মিত হলে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশই ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে আসবে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে। তাছাড়া চট্টগ্রাম থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথে তেলের পরিবহন ব্যয়, অপচয় এবং ক্ষতিও কমে আসবে। সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘ আলোচনার পর ইন্দো-বাংলা পাইপলাইনে ডিজেল আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে দুপক্ষের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি (এনআরএল) থেকে ওই তেল সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৯ কোটি টাকা। ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের ১৩০ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে এবং বাকি ৫ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখন্ডে স্থাপিত হবে। ভারতীয় অংশের পাইপলাইনের ব্যয় বহন করবে এনআরএল। আর ভারতীয় ঋণ সহায়তা থেকে বাংলাদেশ অংশের ব্যয় নির্বাহ করা হবে। পাইপলাইন নির্মাণে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ মাস। এদিকে বিগত ২০১৭ সালের অক্টোবরে বিপিসি ও এনআরএলের মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণ এবং তেল ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি হয়। ১৫ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা হবে ১০ লাখ টন। তবে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম ৩ বছর আড়াই লাখ টন, তার পরের তিন বছর ৩ লাখ টন, সপ্তম থেকে ১০ম বছর পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টন এবং ১১ থেকে ১৫তম বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৪ লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। তবে আলোচনার মাধ্যমে পরিমাণ কমানো-বাড়ানো যাবে। অন্যদিকে দেশজুড়ে তেল পরিবহনে বার্ষিক প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। পাইপলাইন নির্মিত হলে ওই খরচ থাকবে না। তাছাড়া তেল সরবরাহে সময়ক্ষেপণ, যানজট বা দুর্ঘটনার কারণে দেরি হওয়া বা ক্ষতি এড়ানো যাবে। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা হরতাল-ধর্মঘটকালীন সময়েও পাইপলাইনগুলো নিরাপদে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। প্রস্তাবিত ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইনটিতে বার্ষিক ৩০ লাখ টন ডিজেল পরিবহনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিপিসির চট্টগ্রাম টার্মিনাল থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে ওই তেল সরবরাহ করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি ব্যয়ে সেটি নির্মিত হবে।আর ১৭ কিলোমিটারের জেটফুয়েলবাহী লাইনটি ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী বছরের মধ্যেই নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া এসপিএম প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং থেকে জ্বালানি তেল স্থলভাগে আনতে ১১০ কিলোমিটারের পাইপলাইনটি বসাবে চীনের কোম্পানি চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরো। তাতে খরচ হবে প্রায় ৫ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। ২০২০ সালে ওই প্রকল্প শেষ হবে। তার ফলে প্রতি টন তেল আমদানিতে ৮ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। তাছাড়া বিদেশ থেকে তেল আমদানির পর তা খালাসের সময়সীমা ১১-১২ দিন থেকে কমিয়ে ২-৩ দিনে নামিয়ে আনা যাবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আকরাম আল হোসেন জানান, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়িতে পাইপলাইন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইন্দো-বাংলা পাইপলাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

Share
[related_post themes="flat" id="270043"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com