,
সংবাদ শিরোনাম :

আর্থিক সঙ্কটে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম দিতে পারছে না বিপিডিবি

এফএনএস : বেসরকারি রেন্টাল, কুইক রেন্টাল, ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) ও পাবলিক কোম্পানির মালিকানাধীন বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। দুই মাস ধরেই চলছে এমন অবস্থা। কিছু কোম্পানিকে বিল দেয়া হলেও অধিকাংশ কোম্পানিই বকেয়া বিল পায়নি। বর্তমানে ওসব বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাতে বিপাকে পড়েছে বেসরকারি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো। কারণ বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে পাওয়া টাকাতেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় সংকুলান করা হয়। এমন পরিস্থিতিতেও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বকেয়া টাকা বাড়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিপিডিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিডিবি বেসরকারি রেন্টাল, কুইক রেন্টাল, আইপিপি ও পাবলিক কোম্পানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনে। জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের মাধ্যমে ওই বিদ্যুৎ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কাছে বিপিডিবি বিক্রি করে। উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বিপিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ বিল নেয়। সাধারণত এক মাসে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিগুলো বিক্রি করে, তার বিল পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপিডিবিতে দাখিল করে। আর ১০ দিন থেকে মাসের শেষ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে বিল পাঠায় বিপিডিবি। সূত্র জানায়,বর্তমানে দেশে মোট ১২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আছে। তার মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ৪১টি। বাকি ৮২টি রেন্টাল, কুইক রেন্টাল, আইপিপি ও স্মল ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (এসআইপিপি)- যেগুলো থেকে বিদ্যুৎ কিনছে বিপিডিবি। তার মধ্যে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল ২৭টি এবং আইপিপি ও এসআইপপি ৪৬টি। ওসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫৪টিই জ্বালানি হিসেবে ফার্নেস ও ডিজেল অয়েল ব্যবহার করে। যা সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বিপিডিবির গড় ব্যয় ৬ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪ টাকা ৮৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে বিপিডিবির ঘাটতি থাকছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের বিপরীতে প্রতি মাসে ওই ঘাটতি দাঁড়ায় ৮শ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা। যা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া অনুদানে পরিশোধ করে বিপিডিবি। সূত্র আরো জানায়, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিপিডিবিকে এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ওসব কেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে বিপিডিবির তারল্য সংকটের পাশাপাশি লোকসান বাড়ছে। কারণ ডিজেলভিত্তিক প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ২৬ টাকা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক গড়ে ১১-১২ টাকা। আর গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয় ২ থেকে আড়াই টাকা। মূলত তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বিপিডিবির সঙ্কট বাড়ছে। কারণ নিয়মিত ভর্তুকি না পাওয়া। এমন পরিস্থিতি আরো কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে জরিমানাসহ বেসরকারি বিদ্যুৎগুলোর কাছে বিপিডিবির দেনা আরো বাড়বে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র বিপিডিবিই লোকসানি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিপিডিবির লোকসানের পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। তার আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৬৬ কোটি ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। গত ১০ বছরেই বিপিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। মূলত তেলভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরু করায় এবং ওসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনাতেই বিপিডিবির ঘাটতি অস্বাভাবিক বেড়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকায় জ্বালানির মূল্য পরিশোধেও বিপিডিবির ওপর চাপ বাড়ছে। সব মিলিয়ে ঘাটতির পরিমাণও বাড়ছে। তাছাড়া যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এখন বিদ্রুৎ কেনা হচ্ছে, চুক্তির সময় প্রতিযোগিতাপূর্ণ দরকষাকষি না হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ওসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যদি চুক্তি করা হতো, তাহলে আরো কম দামে বিপিডিবি বিদ্যুৎ কিনতে পারতো। তাতে ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যকার যে ঘাটতি, তা কমে আসতো। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়লে এমন ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। যদিও চাহিদা পূরণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ ছাড়া উপায় ছিল না। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্পসময়েই অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ বিপিডিবি ছাড়া বিদ্যুৎ বিক্রির তাদের দ্বিতীয় কোনো গ্রাহক নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে হবে। মূলত রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থেকে বিদ্যুৎ কিনে লোকসান গুনছে বিপিডিবি। ব্যক্তিখাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে না আসার কারণে সংস্থাটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি বছরই গড়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বিপিডিবি। এ প্রসঙ্গে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ জানান, যে অর্থ সংকট, তা খুব বড় নয়। বিপিডিবিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সেজন্য প্রতি ইউনিটে দেড় টাকার মতো ঘাটতি থাকে। ওই টাকা সরকার বিপিডিবিকে বাজেটারি সাপোর্ট হিসেবে দেবে। সেটা পেলেই কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধ হয়ে যাবে।

Share
[related_post themes="flat" id="273714"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com