,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ভোটের নতুন তারিখ ৩০ ডিসেম্বর» « আটুলিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুর বেহাল দশা, দেখার যেন কেউ নেই» « তাড়দ্দাহ খালের সেতু ভেঙে চলাচলে ঝুঁকিপূর্ন ॥ জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের দাবী গ্রামবাসিদের» « আশাশুনির শ্রীধরপুর টু খরিয়াটি সড়কের বেহাল দশা» « সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হিসাবে ডাঃ রফিকুল ইসলামের যোগদান» « আলীপুর ৪ দলীয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন» « শ্যামনগরে এক মিস্ত্রী গুরুত্বর আহত» « খুলনা বিভাগের সেরা করদাতাদের সম্মাননা» « ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে পেছানোর সুযোগ নেই -সিইসি» « খালেদার জন্য ৩টি ফরম সংগ্রহ করে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু» « অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রায়ের জন্য তারেকের পদত্যাগের কারণ নেই -ফখরুল

FNS_12_10_18_N_09

এফএনএস: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালতের বক্তব্যের সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের মিল রয়েছে, যা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাই এ নিয়ে তারেক রহমানের পদত্যাগেরও কারণ নেই। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আজকের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবার ওই মামলার রায়ে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়। আর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়, যারা আলামত নষ্ট করা, মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মত অপরাধে জড়িত ছিলেন। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায়’ ওই হামলা ছিল একটি দলকে ‘নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা’। এই রায়ে আদালতের দেওয়া পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ‘হুবহু মিলে গেছে’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের কাছে ওই পর্যবেক্ষণ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। তবে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ‘মান্য করতে’ সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, মিডিয়ার একাংশ এ রায়ের পর্যবেক্ষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া তথ্য প্রকাশ করে জনমনে বিরুপ ধারণা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তার পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে জনগণের প্রশ্ন, এতো-শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? নিম্ন আদালতের দেয়া রায়কে যখন আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য বলছি, তখন সেই রায়ের ভিত্তিতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা’ বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন দেখে দেশের জনগণের মতো আমরাও বিস্মিত হয়েছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে রোধ করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে চলমান থাকে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন চেষ্টা চালানো হয় বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হুবহু এক। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ড, জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকান্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হলো কোন যুক্তিতে? ১৯৭৪ সালে বিএনপি’র জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকান্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা এ দলের কোনো নেতাকে অভিযুক্ত-এমনকি সম্পৃক্তও করেনি। মির্জা ফখরুল প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে ২১ আগস্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের ২টি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক? দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে। অন্যদিকে হুজি নেতা মুফতি হান্নান শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তা তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেও তারই জবানবন্দিকে ভিত্তি করে তারেক রহমান ও অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেওয়াটা কতটা মানবিক এবং যুক্তিযুক্ত কিংবা আইনসঙ্গত হয়েছে তা উচ্চ আদালত বিবেচনা করবেন বলে আমরা আশা করি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরীত মন্তব্য করে বিএনপির এ অন্যতম শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা আশা করবো সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক মন্ত্রী এস এম এ কিবরিয়া ও আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যাকান্ডের উল্লেখ থাকলে ও বিচারকের বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সরকারি দলের আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ, সে সম্পর্কে দেয়া পর্যবেক্ষণে বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু, কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, ছাত্রদল নেতা জাকিরসহ গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কোনো কথা নেই কেন জনগণ তা জানতে চাইতেই পারে। রায়ের পর্যবেক্ষণে কাঙ্খিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গত ১০ বছরে হাজারো গুম, খুন, গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করা, হাজার হাজার গায়েবী মামলা দিয়ে লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বছরের পর বছর ঘরছাড়া করে রাখা, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করার বিষয়ে কোনো কথা না থাকা রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংঘটিত হত্যাকান্ডের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানা বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত হত্যাকান্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকান্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকান্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল হবে এমন আশা প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্টের নৃশংস ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন সরকারই মামলা দায়ের করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এফবিআই ও ইন্টারপোলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে। এ মামলার মূল আসামি মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে তৎকালীন সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কাজেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে আদালতের যে পর্যবেক্ষণ -তা যুক্তিগ্রাহ্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, মুফতি হান্নানের বেআইনি ২য় জবানবন্দি বাদ দিলে তারেক রহমান ও অন্য অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকেই এ মামলায় অভিযুক্ত করা যেতো না। প্রকাশ্য আদালতে মুফতি হান্নান যাতে তাকে দিয়ে জোর করে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, এটা বলতে না পারেন সে জন্যই অন্য একটি মামলায় দ্রুততার সঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকাও বিস্ময়কর ও সন্দেহমূলক। নয়া পল্টনে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন উপস্থিত ছিলেন।

Share
[related_post themes="flat" id="274074"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com