,
সংবাদ শিরোনাম :

হোমিওপ্যাথিতে ক্যানসার নিয়ন্ত্রিত হতে পারে

ডাঃ প্রকাশ মল্লিক, যোগাযোগ- ৯৮৩০০২৩৪৮৭
ক্যানসার রোগটি সারা বিশ্বের সমস্যা। ক্যানসার শব্দটি ল্যাটিন ‘ক্যানক্রাম’ থেকে এসেছে ক্যানক্রাম শব্দের অর্থ হল কাঁকড়া। সে যেমন হতা পা চারিদিকে বিছিয়ে থাকে ঠিক তেমনি ক্যান্সার নামের রোগটি যে জায়গায় শুরু হয় তার চারপাশেই শুধু নয় তার উৎপত্তির জায়গা থেকে বহুদুরে ছড়িয়ে পড়ে। সে জন্যই এ রোগটিকে ক্যান্সার বলে। আমাদের শরীরটাকে একটা বাড়ির সঙ্গে তুলনা করতে পারি। বাড়িটার কাঠামোর কথা যদি চিন্তা করি তা হলে দেখি যে, কতকগুলো ঘরের সমাহার। আবার ঘরগুলো কতকগুলো দেওয়ালের সমষ্টি। কিন্তু এক একটি দেওয়াল তৈরি হয়েছে অনেকগুলো ইটের গাঁথুনির মাধ্যমে। এই শরীরটার একটা অদ্ভুত সামঞ্জস্য রয়েছে ওই বাড়ির সঙ্গে। আমাদের শরীরটা তৈরি হয়েছে বেশ কতকগুলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে। অঙ্গগুলো তৈরি হয়েছে আবার বেশ কিছু দেহকলা নিয়ে। আর দেহকলা তো আসলে অসংখ্য কোষের সমষ্টি। আমরা যখন জন্মগ্রহণ করি তখন ওজন থাকে প্রায় পাঁচ পাউন্ড, উচ্চতায় আমরা প্রায় ফুট দেড়েক। কিন্তু যখন পরিণত বয়সে উপনীত হয় তখন দেহের ওজন প্রায় শত পাউন্ড, উচ্চতা সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট এটা কী করে সম্ভব হল? সম্ভব হয়েছে দেহের কোষগুলোর বৃদ্ধির উপর শরীরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যে থাকে। শরীরের স্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির উপর যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকত তা হলে তো আমরা দানবের চাইতেও বড় হয়ে যেতাম। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। আসলে শরীরে কোষগুলো যখন নিয়ন্ত্রণ টিউমার। টিউমারের ভিতরের কোষগুলোর চেহারা কখনও স্বাভাবিক কোষগুলোর মতোই হতে পারে এবং চারিত্রিক দিক থেকেও এই কোষগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নাও হতে পারে। এ ধরনের কোষ সমষ্টিকে আমরা বলি ‘বিনাইন টিউমার’। যখন ওই টিউমার কোষগুলোর চেহারা শরীরের স্বাভাবিক কোষগুলো থেকে ভিন্ন ধরনের এবং কাজের দিক থেকেও এরা অস্বাভাবিক এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হয়, তখন আমরা তাকে বলি ‘ম্যালিগন্যান্ট টিউমার’, যার সাধারন নাম ক্যান্সার। শতকরা ৯০ ভাগ ক্যানসারের জন্য দায়ী আমাদের পরিবেশ আর আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা পদ্ধতি। আজ এ কথা প্রমাণিত যে, দেহের সমস্ত ক্যানসারের প্রায় ত্রিশ ভাগের জন্যই দায়ী তামাক কিংবা ধুমপান। মদ্যপানের সঙ্গে মুখের ক্যান্সার, গলবিলের ক্যান্সার জড়িত। তা ছাড়া মদ্যপানের ফলে এক সময় লিভারের ক্যান্সারও হতে পারে। আজকাল কেউ কেউ মনে করেন, অল্প অল্প মদ্যপানে কোনও ক্ষতি নেই। গবেষনার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে অল্পই হোক আর বেশিই হোক মদ্যপান শরীরের কোনও না কোনও ক্ষতি করবেই। আর এক নেশার নাম পান। পানের সঙ্গে চুন মেশানো হয় অনেক সময় সুগন্ধি জর্দাও। এই চুন এবং জর্দার সংমিশ্রনে পান পাতা চিবানোর ফলে মুখে এক ধরনের ঘায়ের সৃষ্টি হয়। সেই ঘা সহজে সারতে চায় না। এইভাবে কণ্ঠনালীর ক্যান্সার এছাড়াও মুখের স্বাস্থ্য নষ্ট হয় শুধুমাত্র রাত-দিন পান চেবানোর জন্য। দাঁতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। দাঁত অকালে পড়ে যায়। পানের সঙ্গে থাকে আর একটি জিনিস, সেটি হলো সুপারি। এতে রয়েছে ‘অ্যারোকোলিন’ নামে একটি উপাদান। এটিও কোষের ক্ষতি করে। সুপারিতে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড কোষের মধ্যস্থ জিনকে প্রভাবিত করে, ফলে শারীরিক বিকৃতি ও জটিল রোগ দেখা দেয়। বেশির ভাগ সুপারি লিভারের ক্যান্সারে অগ্রণী ভূমিকা নেয়। বাজারে বিক্রিত অধিকাংশ মিষ্টি সুপারি এই বিষাক্ত ছত্রাকে আক্রান্ত বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। পানে দেওয়া হয় খয়ের, খয়েরের প্রধান উপাদান ট্যানিন থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ূ মুখের ক্যান্সার আর স্তনের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। জরায়ূ মুখের ক্যান্সারের জন্য খুব কম বয়সে অনেক সন্তান প্রসব, যোনিদ্বারের অপরিচ্ছন্নতা, আর একাধিক পুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলনই দায়ী। আর স্তনের ক্যান্সারের জন্য একটি কারণ শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো। প্রাণীজ আমিষ ও প্রাণীজ তেল জাতীয় খাদ্য বেশি গ্রহণ এবং পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম না করাই অনেকখানি দায়ী। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা: হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব। চিকিৎসা মানে নিয়ন্ত্রণ, নিরাময় নয়। কারণ হোমিওপ্যাথি রোগের চিকিৎসা করে না, রোগীর চিকিৎসা করে। যাদের ক্যান্সার হয়েছে, তাদের ক্যান্সার মারণ রোগ। অজস্র অর্থ ব্যয় করেও এই রোগের নিরাময় এখনও একরকম অধরাই থেকে গেছে। অনেকেই রোগের জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত হোমিওপ্যাথির শরণাপন্ন হন। অথচ শুরুতে ধরা পড়া ক্যানসার হোমিওপ্যাথিতে নিরাময় হতে পারে।

Share
[related_post themes="flat" id="279347"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com