,
সংবাদ শিরোনাম :
» « অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের» « ভিজিডি’র উপকারভোগী মহিলাদের মাঝে মুনাফাসহ সঞ্চয় ফেরত প্রদান» « ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় সাজেদা খাতুন ॥ গণশুনানীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন পাঠালেন» « সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন ॥ জেলায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২৭ জন শিশু ভিটামিন এ খাবেন» « তালায় এক মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ» « চেক প্রতারনা মামলা ॥ সাবেক তাঁতীলীগ সভাপতি কারাদন্ড ও জরিমানা» « সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন ॥ পুরস্কার বিতরণী আজ» « শ্যামনগর টেংরাখালী ওয়াপদা ভেঁড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন ॥ পানিবন্দী হতে পারে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ» « প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাত» « মদিনার দরগায় বার্ষিক মেলা উপলক্ষে জারি গান অনুষ্ঠিত» « কাদাকাটিতে শ্রীমদ্ভাগবত মহোৎসব সম্পন্ন

খাদ্যে অ্যালার্জি

এফএনএস স্বাস্থ্য: নানারকম খাদ্য যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে অতি বা পরিবতির্ত এবং বধির্ত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তবে তাকে অ্যালাজি প্রতিক্রিয়া বলে। গরুর দুধ, গরুর গোশত, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেটে ব্যথা, হাঁপানি বা সেিদর্ত ভোগেন। এগুলোই খাদ্যের অ্যালাজির্ক রিঅ্যাকশন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধরা সচরাচর খাদ্যে অ্যালােিজর্ত ভুগে থাকেন। তবে জন্ম হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। প্রকারভেদ ফুড অ্যালাজির্ : খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক ইমুনোলোজিক্যাল ছাড়া অন্য প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কোন কোন খাদ্য থেকে অ্যালাজির্ হয়ে থাকে? প্রায় সব রকমের খাদ্য থেকে অ্যালাজির্ হয়ে থাকে। বিশেষ করে গরুর দুধ ও মাংস, ডিম, বাদাম, সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শৈল মাছ, বেগুন, কুমড়া, কচু ইত্যাদি। খাদ্যে অ্যালাজির্জনিত লক্ষণগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে দেখা দেয় যেমন- ত্বক বা চামড়ায় চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ওঠে। চোখে চুলকায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, লাল হয়ে থাকে, ফুলে ওঠে। উপরের শ্বাসনালিতে, নাকে ও গলাতে চুলকাতে থাকে। গলা ফুলে গেছে বলে মনে হয়, এমনকি কথা বলার সময় অসুবিধা হয়, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বন্ধ ভাব, অনেক সময় শব্দও থাকে। নিচের শ্বাসনালিতে শ্বাসকষ্ট, কাশি, দম খাট খাট ভাব, বাঁশির মতো আওয়াজ। পরিপাকতন্ত্রে বমি বমি ভাব, পেটে ক্র্যাম্প বা ব্যথা, ডায়রিয়া দেখা যায়। জননতন্ত্রে-স্ত্রী ও পুরুষ অঙ্গে চুলকাতে থাকে ও ইউটেরাসে ক্র্যাম্প বা ব্যথা শুরু হয়। কাডির্ওভাসকুলার সিস্টেম মাথাব্যথা ও রক্তের চাপও কমে বা বেড়ে যেতে পারে। কীভাবে এ রোগ নিণর্য় করা যায়? রোগের ইতিহাস থেকে যেমন কত সময় ধরে শুরু হয়েছে রোগের লক্ষণ, খাদ্য গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যবতীর্ সময় এবং এটপিক ডামার্টাইটস, অ্যাজমা, অ্যালাজির্ক রাইনাইটিস রোগে ভুগে থাকেন কিনা। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-স্কিন প্রিক টেস্ট, স্পেসিফিক আইজিই খাদ্য তালিকা থেকে অ্যালাজির্জনিত খাদ্য বাদ দিয়ে পরীক্ষা : রোগীর ইতিহাস ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যালাজির্ক খাবার শনাক্ত করার পর ওই খাবার দুই থেকে ছয় সপ্তাহ বাদ দেয়ার পর যদি রোগের লক্ষণগুলো সেরে যায় তবে বুঝতে হবে যে ওই খাদ্যই এ অ্যালাজির্র জন্য দায়ী। অ্যালাজির্জনিত খাদ্য গ্রহণ করে পরীক্ষা : এ পদ্ধতিতে অল্প থেকে বেশি মাত্রায় খাদ্য রোগীকে খেতে দেয়া হয়। যদি ১০ গ্রাম শুকনা খাবার ও ৬০ গ্রাম ভেজা খাবার দেয়ার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখা দেয় তবে বুঝতে হবে ওই খাদ্য দ্বারা তার অ্যালাজির্ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অ্যালাজির্ খাদ্য না খেয়েও অ্যালাজির্ খাদ্যের সংস্পশের্ এলেও কি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে? হ্যাঁ, কিছুকিছু ক্ষেত্রে হতে পারে। যেমন কড়াইতে চিংড়ি সিদ্ধ করার সময় বায়ুবাহিত কিছু প্রোটিন বের হয় এবং শ্বাসনালির ভেতরে ঢুকে এনাফাইলাটিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে। এটা বোঝার উপায় হলো যদি অ্যালাজির্ক খাবার খাওয়া হয় এবং ওই খাদ্য খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি বেশি ব্যায়াম করা হয় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা দেয়। অ্যালাজির্জনিত খাদ্য খাওয়ার পর অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? সাধারণত অ্যালাজির্জনিত খাদ্য খাওয়ার পর শুধু অ্যাজমা হয় না, তবে অন্যান্য উপসগের্র মধ্যে অ্যাজমার উপসগর্ দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালাজির্জনিত খাদ্য খাওয়ায় অন্যান্য প্রতিক্রিয়া যেমন ঠোঁট ফুলে ওঠে, মুখে চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ ফুলে ওঠার সঙ্গেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের জিজ্ঞাসা করলে তাদের ২০-৬০ ভাগ মনে করেন তাদের অ্যাজমার জন্য কোনো না কোনো খাদ্য দায়ী। যেসব খাদ্যকে তাদের অ্যাজমার জন্য দায়ী মনে করেন সেই খাদ্য তাদের খাওয়ানোর পর দেখা যায় মাত্র ২-৫ ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা কমে গেছে বা অ্যাজমা রোগের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েছে। শিশুদের ৬-৮ ভাগ অ্যাজমা এ অ্যালাজির্জনিত খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে খুব কমই খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। তাই অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই অ্যালাজির্জনিত খাদ্য খান না যদিও ওই খাদ্যগুলো খেলে তাদের অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই। এটপিক ডামার্টাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খাদ্যে অ্যালাজির্ কতটা দায়ী? এটপিক ডামার্টাইটিস রোগের ক্ষেত্রে শতকরা ৩৩ ভাগ অ্যালাজির্জনিত খাদ্য দায়ী। বুকের দুধ খেয়ে কি বাচ্চাদের অ্যালাজির্ হতে পারে? মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধ থেকে বাচ্চাদের কোনো অ্যালাজির্ হয় না বললেই চলে। তবে অনেক মা গরুর দুধ খান তার একটা অংশ বুকের দুধের সঙ্গে বেরিয়ে গিয়ে বাচ্চার অ্যালাজির্ হতে পারে। গরুর দুধ খেয়ে অনেক বাচ্চা একজিমা রোগে ভোগে। মায়ের বুকের দুধে খুব একটা গোলমাল হয় না। সাধারণত বাচ্চাদের দুধের অ্যালাজির্ কিছুদিন পর থেকে একটু একটু করে কমতে থাকে। জন্মের পরের অ্যালাজির্ বছর পাঁচেক বয়স হওয়ার আগে চলে যায়। এরা কিন্তু ছানার মিষ্টি খেতে পারে, খুব কম সামান্য বাচ্চার দুধের অ্যালাজির্ বড় বয়স পযর্ন্ত থাকে। এদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অনেক বাচ্চা ডিম খেতে ভালোবাসে অথচ খেলেই পেটে ব্যথা, হাঁটি ও নাক বন্ধ হয়ে যায়? কী করা যেতে পারে? ডিমের অ্যালাজির্ বেশ সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে বাচ্চাদের। এর জন্য অ্যালাজির্ ক্লিনিকে ডাক্তারের সঙ্গে পরামশর্ করুন। সাধারণত সাদা অংশে গোলমাল থাকে, হলুদ অংশে থাকে না। তাই হলুদ অংশ আলাদা করে খাওয়াতে পারেন। পরে ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে প্রতিদিন দিতে হবে খুব অল্প করে। কিছু ওষুধ আগে খাওয়াতে হয়। পরেও কিছু দরকার হতে পারে। ধীরে ধীরে এটা ঠিক হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা : পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালাজির্ক খাবার চিহ্নিত করে তা খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে সবোর্ত্তম চিকিৎসা। তবে কিছুকিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। এদের মধ্যে মুখে খাওয়ার ক্রমোলিন, অ্যান্টিহিস্টামিন, ইপিনেফ্রিন খুব বেশি কাযর্কর ভূমিকা রাখে। রোগীদেরও রোগ সম্পকের্ সম্মুখ ধারণা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাপারে ধারণা দিতে হবে। যেমন যে খাদ্যদ্রব্য থেকে অ্যালাজির্ হয়ে থাকে তা বাসার খাবার থেকে সাধারণত পরিহার করা হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন তাকে বাড়ির বাইরে খেতে হয় যথা কোনো অনুষ্ঠানে বা হোটেলে তখন সেখানে যারা রান্নার দায়িত্বে ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে এ খাবারগুলোকে কী কী আছে অথবা অ্যালাজির্ক খাবারগুলো আছে কিনা তা জেনে অ্যালাজির্ক খাবারগুলো বাদ দিয়ে খেতে হবে। আর বড়দের ইপিনেফ্রিন ইনজেকশন নেয়ার কৌশল শিখিয়ে দিতে হবে এবং সব সময় সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে হবে।প্রথম কয়েক বছরেই সাধারণত খাদ্যে অ্যালাজির্ দেখা দেয়। শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই জীবনের ১ম বছরে দেখা দেয়। যদি ১ থেকে ২ বছর ওই খাদ্য তার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খাদ্যে অ্যালাজির্ আর থাকে না। গভার্বস্থার শেষের তিন মাস মায়েরা যদি অ্যালাজির্ জাতীয় খাদ্য তাদের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেন এবং বাচ্চাদের যদি ১ম বছর গরুর দুধ, ডিম, বাদাম তাদের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায় তবে পরিবারে অ্যালার্জি সংক্রান্ত রোগী কম থাকবে। এজন্য অ্যালার্জি রোগীদের প্রথমেই অ্যালার্জি পরীক্ষা করে জানা দরকার তার কোন খাদ্য থেকে অ্যালাজির্ হয়। এজন্য অ্যালাজির্ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে এ অ্যালাজির্ পরীক্ষা করতে হবে। অনেকেরই ধারণা অ্যালাজির্র কোনো চিকিৎসা নেই এবং এও ধারণা যে এ চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। তাই রোগীদের জানা দরকার অ্যালাজির্ টেস্টসহ চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব হচ্ছে। এজন্য আর অযথা বিদেশে গিয়ে সময় ও অথর্ অপচয় করার প্রয়োজন নেই।

Share
[related_post themes="flat" id="282897"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com