,
সংবাদ শিরোনাম :
» « বন্ডের অপব্যবহারে রাজস্ব ক্ষতির মুখে সরকার» « সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৃষ্টিপাতের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত» « সমাজসেবা অধিদফতর’র উদ্যোগে সেমিনার ও বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বই বিতরণ» « ত্রিশমাইল সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত দুই» « সাতক্ষীরায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত» « কৃষকদের মাঝে লবন, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান বীজ বিতরণ» « কুলিয়ায় মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন» « রেল ও সড়ক পথের নড়বড়ে সেতু মেরামতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর» « ডিআইজি মিজান সাময়িক বরখাস্ত» « ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সবার আগে সেমিতে অস্ট্রেলিয়া» « নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের বিকল্প নেই

সরকারি কর্মকর্তাদের পিছনে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হলেও ॥ কোন কাজেই আসছেনা বিদেশী প্রশিক্ষণ

এফএনএস : শত শত কোটি টাকা খরচ করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে আসছে না। সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওই উদ্যোগের ফল কার্যত শূন্য। মূলত বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক কাজে লাগানো হচ্ছে না বলেই তাদের অর্জিত জ্ঞান বিফলে যাচ্ছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনো বিদেশি পরামর্শকদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। গত দশ অর্থবছরে (২০০৯-২০১৮) বিসিএস কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদেশে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন ৫৭৭ জন, ডিপ্লোমা ১৫৭ জন ও সংক্ষিপ্ত কোর্স করেছেন এক হাজার ৭১৭ জন। তার মধ্যে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই যুক্তরাজ্যের হার্ভার্ড, ডিউক, আইটিসি-আইএলও, ম্যাকক্যারি, কার্টিন, সাসেক্স, অক্সফোর্ড ও বার্মিংহাম এবং আমেরিকা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়ার নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। ওই খাতে গত দশ অর্থবছরে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩০৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই খাতে ব্যয় করার জন্য আরো প্রায় ২শ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ওই সময় মাস্টার্স ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন নবীন কর্মকর্তারা। আর শর্ট কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমান সরকারের আমলে গত ১০ বছরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন ২ হাজার ৪৫১ জন বিসিএস কর্মকর্তা। সেজন্য সরকারের যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে তার কোনো সুফল মেলেনি। কারণ কর্মকর্তারা যে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন, সে কাজে তাদের পদায়ন করা হয়নি। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কার্যক্রম মনিটরিংও করা হচ্ছে না। ওসব কর্মকর্তা বড় প্রকল্পে পদায়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত বিদেশি পরামর্শকদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। তাছাড়া দেশের প্রয়াজন অনুযায়ী খাতভিত্তিক দক্ষ জনবল তৈরির জন্য কোনো মহাপরিকল্পনা কিংবা জরিপও নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেজন্য সরকারের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে কর্মকর্তারা যে উদ্দেশ্যে ওই ডিগ্রি নিয়েছেন, তার ফল শূন্য। তাতে ভেস্তে যাচ্ছে দক্ষ প্রশাসন গড়ার সরকারের উদ্যোগ। সূত্র জানায়, সরকারি শত শত কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও এখনো দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ করা হচ্ছে। কিছু কর্মকর্তা প্রকল্প সংশ্নিষ্ট কাজে পদায়ন পেলেও মূল দায়িত্বে থাকেন বিদেশি পরামর্শকরা। তাতে বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা হতাশায় ভুগছেন। তাছাড়া দেশের উন্নয়ন কাজের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা। অথচ তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ কম। কারণ সরকার বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের জন্যই ৭০ ভাগ আর অন্যান্য ক্যাডারের জন্য মাত্র ৩০ ভাগ কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। অথচ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের উদ্দেশ্যই হলো সব সেক্টরকে এগিয়ে নেয়া। সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়ে মেধা পদ্ধতি চালু করা জরুরি। সূত্র আরো জানায়, কোনো সরকারি কর্তকর্তা যে বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেন, তাকে সে বিষয়ে পদায়ন করা হলে তা কার্যকর হতো। আর বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশ-বিদেশের উচ্চতর প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া কর্মকর্তাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৈরি করতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদায়ন করা জরুরি। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ওই সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু কোনো বিষয় জানা থাকলে যে কোনো মুহূর্তে তা কাজে লাগবে। যদিও দেখা যায় একজন কর্মকর্তা ৬ মাস ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কাজ করার পর তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়। সেখানে বছর দুয়েক থাকার পর পদায়ন করা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে। তাতে কোনো খাতেই বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা তৈরি হচ্ছে না। এভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছেন। এদিকে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক কাজে লাগালে দেশের মঙ্গল হতো। সেজন্য অবশ্যই মহাপরিকল্পনা, জরিপ ও তদারকি দরকার। তাছাড়া খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ তৈরির জন্য সংশ্নিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে ক্লাস্টার পদ্ধতি চালু করতে হবে। জনপপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও ট্রেনিং (সিপিটি) বিভাগ শুধু ওসব বিষয় নিয়ে কাজ করে। তবে সিপিটি বিভাগ হয়তো জনবলের অভাবে কাজ করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে ওই ধরনের কৌশল ও তা বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। অন্যদিকে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মুয়াজ্জেম হোসাইন জানান, কোন খাতের জন্য প্রশিক্ষণ দরকার সেটা আমাদের জানা আছে। সেজন্য কোনো জরিপের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া মাস্টার্স ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদায়ন করা হয়। সংক্ষিপ্ত কোর্স ততোটা বিবেচনায় নেয়া হয় না। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের প্রশিক্ষণ কতটা কাজে লাগাচ্ছেন তা তদারকি কিংবা এ নিয়ে জরিপ সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। তবে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্জিত ডিগ্রিকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

Share
[related_post themes="flat" id="283126"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com