,
সংবাদ শিরোনাম :
» « খুলনা ও সাতক্ষীরা সহ ১১৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ আজ ॥  নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠানে কঠোর ইসি  পাঁচ এমপিকে সতর্ক  তিন ইউএনও ও চার ওসি প্রত্যাহার» « দ্য পোল স্টার হাইস্কুলের উদ্যোগে রবি এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান» « কলারোয়ায় নৌকা ও আনারস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ॥ আহত ৭» « মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাছির উদ্দীর আর নেই» « সাতক্ষীরার তুজলপুরে দুটি পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ» « শিয়াল মারা ফাঁদে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু» « নাভারন সাতক্ষিরা মোড়ে মানব বন্ধন ও সড়ক অবরোধ» « বেনাপোল ট্রাক শ্রমিকদের অবরোধ ॥ আমদানি রফতানি বন্ধ ॥ সড়কে দীর্ঘ লাইন» « সাতক্ষীরায় ফেন্সি পিজিওন ক্লাবের শুভ উদ্বোধন» « চলতি বছরেই খুলনাতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হবে -তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব» « নূরনগর পাবলিক লাইব্রেরীতে দোয়া অনুষ্ঠিত

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র অপহৃত তারিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার ॥ আটক অপহরনকারী বন্দুকযুদ্ধে নিহত

02 Monirampur Apohirito

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের মনিরামপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র তারিফকে অপহরনের দুই দিন পর পুলিশ মঙ্গলবার রাতে কেশবপুর থেকে অপহরনকারী কিশোর বিল্লাল হোসেনকে আটক করে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ ওই রাতেই অপহৃতকে উদ্ধার করতে গেলে মনিরামপুরের সাতনল ব্রিজের পাশে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় অপহরনকারী বিল্লাল হোসেন। এ সময় সেখান থেকে পুলিশ একটি ওয়ানশুটার ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে। পরে পুলিশ ফেদাইপুর গ্রামের মাঠের মধ্যে ব্রিজের তল থেকে তারিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। খুনের শিকার শিশু তারিফ উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। আর বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিল্লাল হোসেন একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। বিল্লাল হোসেন উপজেলার ভরতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়। এ দিকে শিশু অপহরন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। পুলিশ বুধবার সকালে নিহত শিশু তারিফ এবং বিল্লালের লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। এ দিকে তারিফ অপহরন ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ভয়ে নিহত বিল্লালের পরিবারবর্গ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যার আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহত বিল্লালের পরিবারবর্গের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ তে পাঁচটি ঘর ও মালামাল পুড়ে ভস্মিভূত হয়। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার ফেদাইপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমানের তিন সন্তানের মধ্যে জমজ তারিফ এবং আরিফ গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। জমজ দুই ছেলে এবং সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়েই সিদ্দিকের সংসার। সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত রোববার বিকেলে ফেদাইপুর খেলারমাঠে তারিফ তার অন্য বন্ধুদের সাথে খেলা করতে গিয়ে আর বাড়িতে ফেরেনি। সোমবার এ ব্যাপারে সিদ্দিকুর রহমান থানায় একটি জিডি করেন। সিদ্দিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে তার বাড়ির পাশে একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিল তারিফকে অপহরণ করা হয়েছে। আর মুক্তিপণ হিসেবে ওই চিঠিতে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা। ওই চিঠিতে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। অবশ্য ওই মোবাইলফোন ট্রাকিং করে পুলিশ অপহরনকারী হিসেবে বিল্লালকে সনাক্ত করে। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে পাশ^বর্তী কেশবপুর পৌরশহরের একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর দেওয়া হয়। সেই বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি এজেন্ট মালিককে অপহরনের ঘটনা খুলে বলা হয়। সিদ্দিকের শ্যালক মাসুম বিল্লাহ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সেই এজেন্টের দোকানে টাকা নিতে আসলে বিল্লালকে কৌঁশলে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে তারিফকে অপহরন এবং হত্যার সত্যতা স্বীকার করে বিল্লাল। মনিরামপুর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, বিল্লালের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ওই রাতেই তাকে সাথে নিয়ে তারিফের মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে মনিরামপুরের সাতনল ব্রিজের পাশে অপহরনকারীচক্রের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় বিল্লাল হোসেন। এ সময় সেখান থেকে পুলিশ একটি ওয়ানশুটার ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে। পরে পুলিশ ফেদাইপুর গ্রামের কবিরের বাড়ির পাশের মাঠের মধ্যে ব্রিজের তল থেকে তারিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। তারিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অপহরনের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ একই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে আম্বিয়া খাতুন লিমা এবং আমিন সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহকে আটক করে থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এলাকাবাসী ও পুলিশের ধারনা জমাজমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের সাথে আরো অনেকেই জড়িত থাকতে পারে। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। ভরতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হামিদ জানিয়েছেন বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিল্লাল হোসেন এবার তার প্রতিষ্ঠান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয় অকৃতকার্য হয়। এ দিকে শিশু তারিফ অপহরন ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বুধবার সন্ধ্যার আগে অপহরনকারী নিহত বিল্লালের পরিবারবর্গের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।এতে পাঁচটি ঘর ও মালামাল পুড়ে ভস্মিভূত হয়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই পাঁচটি ঘর ও মালামাল পুড়ে ভস্মিভূত হয় বলে নিশ্চিত করেন মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। এর আগে বিল্লাল আটক হবার পর থেকে তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

Share
[related_post themes="flat" id="283198"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com