,
সংবাদ শিরোনাম :
» « দুর্গম এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ» « সাতক্ষীরা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য সেবায় এগিয়ে চলা এবং অত্যাধুনিক মেশিনের উপস্থিতি (এক)» « সাতক্ষীরার ফিংড়ী কুঁচে চাষ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি রবি» « জোড়া সেঞ্চুরিতে সেমির আগে ভারতের বড় জয়» « তেলবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ প্রভাষিকা নিহত: আহত-১, গ্রেফতার-২» « শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের পৌর আট নং ওয়ার্ড কমিটি গঠন» « কাকবাসিয়ায় খেয়াঘাট না থাকায় পারাপারে ভোগান্তি» « চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী» « যশোর র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ২২৮ পিচ ইয়াবা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক» « সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ আইডিজি এর জন্য মনোনীত» « বাজার ব্যবস্থা অস্থিতিশীল এবং মসলা বাজারে আগুন

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঃ দুঃখ ভরা গল্প

রাজিত তাহমীদ জিত : প্রায় প্রতিটি দেশেই নির্দিষ্ট প্রাণীকে বিশেষ মর্যাদা দিতে দেখা যায়। তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পশু দ্যা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (ঞযব জড়ুধষ ইবহমধষ ঞরমবৎ)। বাঘ হচ্ছে বিড়াল পরিবারের সর্ববৃহৎ প্রাণী। বাঘ যে কোনো ক্যাট পরিবারের জন্তু এমনকি সিংহ থেকেও বড় আকারের। বাঘের বেশ কয়েকটি প্রজাতি আছে। যেমন: সাইবেরিয়ান টাইগার, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, মালয়েশিয়ান টাইগার, দক্ষিণ-চীন দেশীয় বাঘ, মালীজ বাঘ, ইন্দো-চীন বাঘ, কালো বাঘ, সাদা বাঘ ইত্যাদি। বাঘ (ঞরমবৎ) উপপ্রজাতির মধ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দ্বিতীয় স্থানে আছে। বাঘগুলোর মধ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের (চধহঃযবৎ ঞরমবৎ ইবহমধষবহংরং) সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কয়েক দশক আগেও বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে বনভূমি ছিল সে সব স্থানে বেঙ্গল টাইগার বাস করত। ১৯৬২ সালে মধুপুরের জঙ্গলে এবং ১৯৬৬ সালে গাজীপুর ভাওয়াল গড়ের জঙ্গলে সর্বশেষ বাংলার বাঘ দেখা যায়। সুন্দরবন সংলগ্ন ফাতরার চরের বনেরও বাঘ ও চিত্রা হরিণ বিচরণ ছিল। এখন বাংলাদেশে সুন্দরবনে ছাড়া অন্য কোথাও টাইগারের বিচরণ নেই। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান এবং তিব্বতের কোনো কোনো অঞ্চলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। বলা হয় যে, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সাথে যেন আমাদের বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে আছে। কারণ-বাঘের এই উপপ্রজাতিটির নামে আমরা দেখি, বেঙ্গল শব্দটি রয়েছে। যার অর্থ (ইবহমধষ) “বাংলা সম্বন্ধনীয়” অথবা ‘বঙ্গীয়’। পৃথিবীর অনেক মানুষ এখনও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বললেই বাংলাদেশের কথা মনে করে। অসংখ্য মানুষকে ‘টাইগার’ শব্দটি বললেই তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের নাম। কিন্তু বাঘের নামে ইবহমধষ থাকলেও আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশ নয়, ভারতেই বেঙ্গল টাইগার সবেচেয়ে বেশি দেখাযায়। ভারতের সুন্দরবনে শুধু নয়, অনেক টাইগার রিজার্ভ সেন্টার, জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত অভায়রণ্যে বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করে। যেমন- রণথম্ভোর ন্যাশনাল পার্ক, খান্না ন্যাশনাল পার্ক, রাপান্তি ন্যাশনাল পার্ক ইত্যাদি। ২০১১ সালের বাঘ শুমারী অনুযায়ী, ভারতে ১,৪১১ টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। ভারত বা ইন্ডিয়া হলো পৃথিবীর ৭০ পার্সেন্ট বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি। জনসংখ্যাবহুল, উন্নত এই দেশটিতে ৫০টি টাইগার রিসার্ভ আছে। বর্তমানে ভারতে বাঘের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তাহলে এই উপপ্রজাতির নাম জড়ুধষ ইবহমধষ ঞরমবৎ রাখার দরকারটা কী? জড়ুধষ ওহফরধহ ঞরমবৎ কেন নয়? ২০০৫ এর হিসেবে সুন্দরবনে মাত্র ১০৬টি বাঘ আছে। অথচ ২০১১ সালে ৪৪০টি বাঘ ছিল সুন্দরবনে। এর একশ বছর আগেও সুন্দরবনে বাঘ ছিল প্রায় ৪০ হাজার ভাবা যায়। এখনও মায়েরা ছেলে-মেয়েকে বাঘ মামার গল্প শুনিয়ে ঘুম পড়ান। এক জঙ্গলে ছিল এক বাঘ। লোকজন সেই বাঘের ভয়ে কখনোই ওই জঙ্গলে যেত না…। এখন এই দেশের একটা জঙ্গলেই শুধু বাঘ আছে। তাও ১০৬টি মাত্র। আর লোকজন এখন বাঘের ভয়ে যাবে না মানে, বন্দুক, বর্শা, কীটনাশক সব নিয়ে যায় বাঘের আকর্ষণীয় চামড়া সংগ্রহ করার জন্য। আমাদের দেশে বাঘ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। চিতাবাঘ (খবড়ঢ়ধৎফ), চিতা (ঈববঃধয) এসব প্রাণি কালো বাঘ, বারাশিঙ্গা (ইধৎধংরহমধ/ঝধিসঢ় উববৎ), গৌর (ইড়ংংমধঁৎঁং/ওফরধহ রিষভ পড়)ি ইত্যাদি বিলুপ্ত হয়েছে আমাদের দেশ থেকে। বাঘও হয়তো প্রহর গুনছে। পৃথিবীর অন্যসব দেশে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ কমছে তো কমছেই। কীটনাশক দিয়ে বাঘ হত্যা করছে মানুষ নামের কলঙ্ক। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যে সকল প্রাণী আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে তার প্রায় সব কয়টি ভারতে আছে। যেমন চিতাবাঘ, বা (খবড়ঢ়ধৎফ)। প্রাণিটি ভাওয়ালের জঙ্গলে, সুন্দরবনে, পাহাড়ি অঞ্চলে থাকলেও এখন বিলুপ্ত। অথচ ভারতের অনেক বনাঞ্চলে আছে। আমরা যদি উন্নয়নের দোহাই দেই তাহলে আমি বলব, ভারতের দিকে তাকাও। দেশটি আমাদের চেয়ে বেশি উন্নত, সম্পদ সমৃদ্ধ এবং প্রাণিসম্পদেও সমৃদ্ধ। কারণটা কি? কারণ হলো সে দেশের মানুষ সচেতন। তারা জানে একটা দেশের জন্য জীবজন্তুর গুরুত্ব। আসলে এই দেশটাকে আমরা ভালোবাসি না, কিছুই দিতে পারছি না। তাহলে আমরা সচেতন হতাম। আমার মতে বাঘ হত্যা, চোরা চালানের শাস্তি মৃত্যুদন্ড করা উচিত। তাহলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার টিকে থাকতে পারবে। বাংলাদেশের ভুখন্ডে। আমার একবন্ধু, নাম অর্ণব (ছদ্মনাম)। সে একদিন বলল, “আমি বড় হয়ে বাঘ মারব। বাঘ মানুষ খেয়ে ফেলে। এই যদি হয় শপথ তাহলে এই দেশের ছেলে বা মেয়ে কী করবে বাঘের জন্য? আমাদের সবার শপথ হওয়া উচিত, বাঘ রক্ষা করব, সোনার বাংলা গড়ব। বাঘ এবং জীব জগৎ সম্বন্ধে আমার জ্ঞান সীমিত। তাই এই লেখাটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

Share
[related_post themes="flat" id="285194"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com