,
সংবাদ শিরোনাম :
» « রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপের ভোট ॥ ## ডেপুটি স্পিকার রাব্বী ও এমপি কমলকে এলাকা ত্যাগে ইসির নির্দেশ ॥ ## পর্যটকদের পর্যটন এলাকায় গমণেচ্ছুকে নিরুসাহিতের তাগিদ» « জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন আজ» « সাতক্ষীরা বই মেলার আলোচনা সভায় সচিব আব্দুস সামাদ ॥ বই মানুষকে আলোকিত হিসাবে গড়ে তুলতে পারে» « ভোমরা স্থল বন্দর পরিদর্শন করলেন নৌ পরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ ঃ উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত» « সাতক্ষীরায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার ভেল্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করলেন অতি: সচিব মাকসুদা খাতুন» « ভালুক চাদঁপুর কলেজে সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ॥ একজন শিক্ষিত মা পারে একটি শিক্ষিত সমাজ গড়তে» « আশাশুনি নৌকার প্রার্থী মোস্তাকিমের সাথে পূজা উদযাপন পরিষদের মতবিনিময়» « গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডাকসুর নবানির্বাচিতদের শুভেচ্ছা বিনিময়» « বিশ্বখ্যাত মুসলিম স্থাপত্য ॥ তোপকাপি প্রাসাদ (তুরস্ক)» « সাতক্ষীরা সমবায় অফিসে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত» « অগ্নিঝরা মার্চ

শাহজালাল বিমানবন্দরের ॥ তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়ম

জি এম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে ॥ হযরত শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর আরো আধুনিয়কায়ন ও সক্ষমতা ফেরাতে ৩য় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার, যা ২০১৭ সালের কথা। সময়ের আবর্তে নির্মাণ কাজকে এগিয়ে নিতে গত বছরের শেষদিকে, -এ লক্ষ্যে দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দরপত্রের শর্তে উদ্ভুত শর্তজুড়ে অনেক খ্যাতনামা দরপত্র প্রতিষ্ঠানকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। কেন, কি স্বার্থে এবং কোন উদ্দেশ্যে মান্ধার আমলের ওই শর্তজুড়ে দরপত্র আহবান করা হয়েছিল, এ প্রশ্ন ঘুরেফিরে উঠে আসছে আলোচনায়। শর্তের মারপ্যাচে রীতিমত দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয়-সংক্রান্ত টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)’ও। সিপিটিইউ শর্তে আপত্তি জানিয়ে বেবিচককে পত্র দেয়। সূত্র বলছে, আগামী ১৯ মার্চ দরপত্র উন্মুক্ত হবে। কিন্তু সিপিটিইউ ও বেবিচকের মধ্যে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আচমকাজুড়ে দেওয়া শর্তের সুষ্ঠু সমাধানে চিঠি চালাচালি পর্বের নিষ্পত্তি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সিপিটিইউ তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছিল, সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র সংক্রান্ত গাইডলাইন লঙ্ঘন করে বেবিচক) নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা অনিয়ম। এর ফলে বিমানবন্দর নির্মাণে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করা কোম্পানিগুলোর দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ ইস্যুতে বেবিচক বলছে, তারা পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পত্রের জবাব দিয়েছে। অথচ সিপিটিইউ বলছে, তাদের পাঠানো চিঠির জবাব এখনো মেলেনি। তবে, দরপত্রের শর্তের বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা ও বেচিবক বলছে, জাপানের আন্তজার্তিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) এই প্রকল্পে মোটা অংকের বিনিয়োগ করবে। সংস্থাটির চাহিদা অনুযায়ী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩য় প্রকল্পের প্রকল্প সংশ্লিস্টরা দরপত্র আহবান করেছে। সেখানে, সংশ্লিষ্ট দেশটির বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কেউ শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। অথচ জাপানের বাইরের কয়েকটি দেশ এ দরপত্রের শর্ত নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা করছে। জানা গেছে, শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর ৩য় প্রকল্পের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করতে দরকার হবে ১৩ হাজার ৬১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সমুদয় এই অর্থের সিংহ ভাগই আসবে ঋণের মাধ্যমে। যার মধ্যে ১১ হাজার ২১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা আসবে জাইকার ঋণ থেকে। বাকি টাকার জোগান দেওয়া হবে সরকারি তহবিল থেকে। প্রকল্পটির তত্বাবধানে রয়েছে বেবিচক। জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেন, কঠিন শর্তজুড়ে দেওয়ায় দরপত্রে যে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে ক্রয় সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটি পত্র দিয়েছিল তার কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সিপিটিইউর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমরা একমত নই। কারণ বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কোন দেশ থেকে ঋণ নিলে পিপিআর ২০১০ আর কাজ করে না। তখন যে দেশ থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে তাদের মানষিকতাটা অনেকটা কাজ। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা জাইকার চাওয়াটাকে তো প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ মোট ব্যয়ের বেশির ভাগ অর্থই তারা দিচ্ছেন, যা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, আপনি ঋণ নিয়ে বাড়ি করবেন তাদের শর্তটিতো আপনাকে মানতে হবে। কারণ ওইভাবেইতো আপনি লোনে রাজি হয়েছেন; এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। দরপত্রে কোন অনিয়ন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এম নাইম হাসান বলেন, এখানে অনিয়ম কোথা থেকে হবে। আমাদের ও জাইকার পরামর্শক রয়েছে তাদের নির্দেশনানুযায়ী এটা হচ্ছে। তিনি বলেন, বড় বড় যেসব কোম্পানি রয়েছে তারা কিন্তু কোন অভিযোগ দেয়নি। এরকম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মিসসুবিসি ও ওজিসহ অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যোগ করেন বেবিচকের এই চেয়ারম্যান। জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অত্যাধুনিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। কাজ শেষ হলে এ বিমানবন্দরে প্রায় দুই কোটি যাত্রীর সেবা সক্ষমতা নিশ্চিত হবে। নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার অবকাঠামো শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যায়ে উন্নীত করাও সম্ভব হবে। যার আয়তন হবে প্রায় দুই লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার। এ ছাড়া বর্ধিতাংশে ৯৮ হাজার ৫০০ বর্গমিটারের ‘উড়োজাহাজ পার্কিং অ্যাপ্রোন’ এলাকা, ৬৬ হাজার ৫০০ বর্গমিটারের ট্যাক্সিওয়ে এবং ৬২ হাজার বর্গমিটারের কার পার্কিং এলাকা থাকবে। এর বাইরে থাকবে পাঁচ হাজার ৯০ বর্গমিটারের ভিভিআইপি কমপ্লেক্স এবং এক হাজার ৮২০ বর্গমিটারের রেসকিউ এবং ফায়ার ফাইটিং সুবিধা। এতে এ বিমানবন্দর আমূল পাল্টে যাবে। চলতি বছরের জুনে শুরু করে ২০২২ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের দরপত্র খোলা হবে ১৯ মার্চ। বর্তমানে আইএসও সনদের আরও উন্নত স্তর স্থাপিত হয়েছে। আইএসও সনদের স্তর ৪৫০০১ :২০১৮ পর্যন্ত এসেছে। কেন বেবিচকের দরপত্রে উন্নত স্তরের আইএসও সনদের পরিবর্তে ১৪ বছর আগের সনদ শর্ত হিসেবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।

Share
[related_post themes="flat" id="286986"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com