,
সংবাদ শিরোনাম :

রিপনের দায় স্বীকার: কারাগারে পায়ের কাছে ঘুমাতে বলায় অমিতকে হত্যা

এফএনএস: ক্ষোভ থেকে কারাকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় অমিত কুমার মুহুরীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে একাই হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন রিপন নাথ। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এই হত্যা মামলার আসামি রিপন। গত ২৯ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে খুন হন হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ কর্মী অমিত মুহুরী। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামি রিপন নাথকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয় ৩ জুন। হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের শেষ দিন গতকাল মঙ্গলবার রিপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আজিজ আহমদ বলেন, জবানবন্দিতে রিপন জানায় ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর সে অমিত মুহুরীর সাথে ধূমপান করে। রাতে অমিত তাকে পায়ের দিকে ঘুমাতে বললে সে রাজি হয়নি। সে সময় অমিত তাকে জোর করে এবং ভয় দেখায়। একারণে অমিত ঘুমিয়ে গেলে রাগের মাথায় সে ইট দিয়ে অমিতের মাথায় আঘাত করে। একাই খুন করেছে বলে জানিয়েছে রিপন। তিনি বলেন, এ ঘটনার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। রিপন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে যা বলেছে তা আমরা খতিয়ে দেখব। অন্য বেশকিছু বিষয় নিয়েও আমরা কাজ করছি। সব কিছু সমন্বয় করা হবে। ২৯ মে রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের ছয় নম্বর কক্ষে ইটের টুকরো দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করা হয় এক সময়ের যুবলীগকর্মী অমিত মুহুরীকে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন বিকালে কারাগারের ওই কক্ষে নেওয়া হয়েছিল রিপন নাথকে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বাদি হয়ে রিপন নাথকে (২৮) আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে। এরপর রিপনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখাতে এবং হেফাজতে জিজ্ঞাসবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। সীতাকুন্ড উপজেলার মৃত নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে রিপন একসময় পাহাড়তলীর সাগরিকা এলাকার অর্গানিক জিন্স নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অশোভন আচরণের জন্য তাকে ওই কারখানা থেকে ছাঁটাই করা হয়। পরে ছুরি হাতে ওই কারখানায় ঢুকে বেশকিছু কর্মীকে জিম্মি করার অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ। এরপর থেকেই কারাগারে আছেন তিনি। কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত অমিতের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে রেলের দরপত্র নিয়ে জোড়া খুনসহ অন্তত ১৩টি মামলা আছে। হত্যা, পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আগেও তিনি একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। সর্বশেষ নিজের বন্ধু ইমরানুল করিম ইমনকে হত্যার অভিযোগে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্রেফতার করে অমিতকে। তারপর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।

Share
[related_post themes="flat" id="293523"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com