,
সংবাদ শিরোনাম :
» « রেকর্ড গড়া জয় টাইগারদের» « ‘অবিশ্বাস্য’ মাহমুদউল্লাহকেও ছাড়িয়ে, রথী-মহারথীদের পাশে সাকিব» « বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপর নির্মিত এ কেমন ডাক্তার নাটকের মোড়ক উন্মোচন» « মুন্সিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন জেলেপাড়া পুকুর পাড়ের রাস্তার বেহাল দশা» « শ্যামনগরে দুই দিন ব্যাপী জলবায়ু মেলার উদ্বোধন» « ব্যাংকে টাকা নেই, এটা ঠিক নয় -প্রধানমন্ত্রী» « ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে, অভিযোগ গঠন ৩০ জুন» « বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প ও বৈদেশিক বাণিজ্য» « ভোটার তালিকা হালনাগাদ বিষয়ে বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত» « শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভায় অনুষ্ঠিত» « ইংল্যান্ডের চোখ সেমিতে, আফগানিস্তানের টিকে থাকা

ভারতের খরা কবলিত গ্রামে প্রাণের সঞ্চার করেছে পানির ট্যাংকার

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গজানন্দ ডুকরে তার পানিবাহী ট্যাংকারটি ভারতের একটি খরা কবলিত গ্রামে পার্ক করে রেখেছেন। স্থানীয়রা বালতি, কলসি ও কাসা-পিতলের পাত্রে পানি ভরতে ট্যাংকারের দিকে ছুটে আসছে। এদের অধিকাংশই শাড়ি পরা নারী। দীর্ঘ সময় ধরে ডুকরে ১২ হাজার লিটারের পানির ট্যাংকার থেকে তাদের পানি নিতে সহায়তা করছেন। এই ট্যাংকার ছোট জনপদের মানুষের পানির চাহিদা মিটাচ্ছে। এখানে কয়েক বছর ধরে চলা ভয়াবহ খরায় ট্যাংকারটি স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে প্রাণের সঞ্চার করছে। ৪১ বছর বয়সী ডুকরে বলেন, ‘আমরা ওভারটাইম করছি।’ তিনি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের শাহাপুরের কাছে হেমলেটস এ চার দফা পানি সরবরাহ করছেন। ওই এলাকায় সরকার পরিচালিত পানির ট্যাংকারবাহী গাড়িগুলোকে যে ৩৭ জন চালক পরিচালনা করেন তিনি তাদের অন্যতম। এলাকাটি ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই থেকে প্রায় ১শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। পানি সংকটের সময় পানির ট্যাংকারবাহী গাড়িগুলো মার্চ মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত সপ্তাহে সাত দিন পানি সরবরাহ করে। চলতি বছর এশিয়ার ভয়াবহ উষ্ণ মৌসুম প্রকট রূপ নিয়েছে। রাজস্থান রাজ্যে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানায়, দেশটির প্রায় অর্ধেক এলাকায় খরা চলছে। এই অঞ্চলগুলোতে ৫০ কোটিরও বেশি লোক বাস করে। মৌসুম পূর্ব অপ্রতুল বৃষ্টিপাতের কারণে এমনটা হয়েছে। শাকার পাড়া গ্রামে কুয়ার পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রমিলা শেওয়ালে বলেন, ‘গত মাসে পানির তীব্র সংকট ছিল।’ তিনি পানির পাত্র মাথায় করে বাড়ি ফিরছেন। ২৫ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘এই পানিবাহী ট্যাংকারগুলো না থাকলে আমাদের কুয়ার উপরেই নির্ভর করতে হতো। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হতো।’ গ্রামের ৯৮টি পরিবারের সদস্যরা কৃষি কাজ করে জীবন চালান। এরা মূলত ধান ও শাকসবজি আবাদ করে। এগুলো তারা আশপাশের শহরগুলোতে বিক্রি করে। খরার সময় কৃষিকাজ বা গবাদী পশুর জন্য পানির সংকট দেখা দেয়। কৃষক নরেশ রেরা (৩২) বলেন, ‘প্রতি বছরই খরা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আমি প্রার্থনা করছি, এ বছর যেন পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়।’ ডুকরে বর্ষা মৌসুমের আগ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে পূর্ণ উদ্যোমে পানি সরবরাহ করবেন। এটা সম্ভবত চলতি মাসের শেষ নাগাদ পর্যন্ত চলবে। প্রতি রাতে তিনি ও তার সহকর্মীরা গাড়িতেই ঘুমান। ট্যাংকারগুলো নদীর পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। তারা ভোর তিনটায় ঘুম থেকে উঠে নিকটস্থ বাঁধ দেয়া নদী থেকে ট্যাংকারগুলো পানিতে পূর্ণ করেন। ট্যাংকারের পানি শেষ হয়ে গেলে তারা আবার নদী থেকে পানি পূর্ণ করে নিয়ে আসেন। প্রায়ই ডুকরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি আরো বলেন, ‘এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে মানুষের উপকার হচ্ছে এটা ভেবে আমার খুব ভাল লাগে।’

Share
[related_post themes="flat" id="293650"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com