,
সংবাদ শিরোনাম :
» « সরকারি সার কারখানাগুলোর জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতিতে বাড়ছে গ্যাসের অপচয়» « দেবহাটার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করলেন দৃষ্টিপাত সম্পাদক» « সাতক্ষীরায় ৩০২ পিচ ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক» « ঘুষ প্রদানকারীও ছাড় পাবেন না -সংসদে প্রধানমন্ত্রী» « ফলোআপ: মৌতলায় সরকারি বই বিক্রয়ের ঘটনা ॥ ইউএনও’র সাক্ষর জাল, তদন্ত কমিটি গঠন» « কৈখালীর শিবচন্দ্রপুর রাস্তার পাশের সরকারী গাছ কাটার মহাৎসব ॥ ভূমি কর্মকর্তা জানেন না কিছুই» « ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া» « হারিয়ে যাচ্ছে মধুমাসে জামাই ষষ্ঠীর ঐতিহ্য» « মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে -পররাষ্ট্রমন্ত্রী» « গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত» « বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানী বাণিজ্য ও অর্থনীতি

হারিয়ে যাচ্ছে মধুমাসে জামাই ষষ্ঠীর ঐতিহ্য

11 Asasuni Modu Mash

এম এম নুর আলম ॥ মধুমাসে জামাই ষষ্ঠী বাংলার লোক সংস্কৃতির একটি অংশ। এ উৎসবটি আদিকাল থেকে বাঙালি সমাজের ঘরে ঘরে লোকাচার হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে বাঙালি রমনীরা বিশেষ করে শ্বাশুড়ি মায়েরা ষষ্ঠী ব্রত পালন করেন। এই ষষ্ঠী ব্রত উপলক্ষে শ্বাশুড়ি কর্তৃক জামাইকে দেওয়া সংবর্ধনাই মূলত জামাই ষষ্ঠী। এক সময় এ প্রথাটি এ দেশের গ্রামে ও শহরের ঘরে-ঘরে খুব ঘটা করে পালিত হতো। কালের বিবর্তনে এ প্রথায় অনেকটা ভাটা পড়েছে। তবে জামাই ষষ্ঠীর রেওয়াজটা সমাজ থেকে একবারে উঠে যায়নি। বারো মাসের ষষ্ঠী ব্রতের চেয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী ব্রতের ভিন্ন আবেদন রয়েছে। জ্যৈষ্ঠের ষষ্ঠীর আরাধনায় সন্তান-সন্তুতির মঙ্গল কামনায় ষষ্ঠী ব্রত পালন করা হয়। এর সঙ্গে ধর্মের যোগসূত্র থাকলেও সামাজিক লোকাচারের গুরুত্ব বেশি। কোন কোন অঞ্চলে ষষ্ঠীকে দেবী বা লৌকিক দেবীও বলা হয়। মধুমাসে জামাই ষষ্ঠী উপলক্ষে অর্চনার পর্ব দেশের কোথাও কোথাও ঘরে, উঠানে ও মন্দিরে আয়োজন করা হয়। আবার কোন অঞ্চলে বটের ডাল, ডুমুরের ডাল বা করমচার ডাল উঠানে পুঁতে বন বা অরণ্য তৈরি করে ষষ্ঠীর অর্চনা করা হয়। এ কারণে অঞ্চল ভেদে জামাই ষষ্ঠীকে অরণ্য ষষ্ঠীও বলা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে আম-জাম, কাঁঠালসহ নানা মৌসুমী ফলের ঘ্রাণে চারদিক যখন মৌ-মৌ করে, ঠিক সেই সময় জামাই ষষ্ঠী উৎসব হওয়ায় ধর্মীয় গন্ডি পেরিয়ে এর প্রভাব পড়ে গ্রামীণ জীবনে। এসময় শ্বশুড়বাড়িতে জামাই আমন্ত্রিত হয়। গ্রামীণ জনপদে জামাই অত্যন্ত আদরের ধন। মেয়ের সুখ-শান্তির জন্য জামাই আদর প্রথাটা সামাজিক বন্ধন হিসেবে বাংলার ঘরে-ঘরে আজও অটুট রয়েছে। জামাই আদর বা সংবর্ধনার বড় উৎসব মধু মাসের জামাই ষষ্ঠী। প্রাচীনকালে জামাই ষষ্ঠী বাঙালি সমাজে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতো প্রতিটি বাঙালির ঘরে-ঘরে। তবে মানসিকতার পরিবর্তন, পারিপার্শ্বিক ও সামাজিকতার কারণে এ অবস্থাটা এখন ততটা নেই। শুধু মুষ্টিমেয় শ্বাশুড়ি মায়েরা জামাই ষষ্ঠী উৎসবটি ধরে রেখেছে কোন মতে। যার আবহ এখনো গ্রামীণ জীবনে খুঁজে পাওয়া যায়। বছরে অন্তত একবার এই দিনটির জন্য জামাই যেমন অপেক্ষা করে, তেমনি শ্বাশুড়ি জামাইকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য দিন গোণে। জামাই নতুন হোক বা পুরাতন হোক তাতে কিছু যায় আসে না। শাশুড়ির কাছে সে সমান আদর পাবে এটাই বাস্তবতা। শ্বাশুড়ি যতদিন বেঁচে থাকেন জামাই ষষ্ঠীর দিন শ্বাশুড়ির কাছ থেকে জামাই নতুন কাপড়-চোপড়, আদর-আপ্যায়ন, পারিতোষিক ও সংবর্ধনা পাবে। সনাতন ধর্মে ষষ্ঠী দেবী মাতৃত্বের প্রতীক বা জননী। তিনি সন্তান কোলে ধারণ করে থাকেন। মায়ের পূজা শেষে তার কাছে জামাইয়ের দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসে জামাই সংবর্ধনা পর্ব। এ পর্বে দুপুরে পঞ্চ ব্যাঞ্জনে ভূড়িভোজ, মাছ-মাংসের হরেক রকম লোভনীয় তরকারী, রকমারী বড়া ভাজা, চাটনী, দই, মিষ্টি, আম-দুধ, কাঁঠালসহ মধু মাসের সব ফল ফলাদি আরো কত কি। এদিন সকাল থেকে শ্বাশুড়ি মায়েরা উপোস থেকে জামাই ভোজের রান্না-বান্না করেন আবার শাশুড়ি বিধবা হলে তিনি নিরামিশ খান। জ্যৈষ্ঠ মাসের জামাই ষষ্ঠীর মূল উপকরণ হচ্ছে ফল। ফল ছাড়া জামাই ষষ্ঠীর পর্ব থাকে অসমাপ্ত। এ পার্বণে যেমন বিভিন্ন গাছের ডাল প্রয়োজন হয়, তেমনি সনাতন পরিবারে মধু মাসের মৌসুমী ফল দরকার হয়। প্রাচীনকালে এ অরণ্য ষষ্ঠীর পার্বণে ষষ্ঠী গাছ পাওয়া যেত। এখন কালের ¯্রােতে হারিয়ে গেছে এ পার্বণের মূল উদ্দেশ্য ষষ্ঠী গাছ। জামাই ষষ্ঠীতে জামাই খালি হাতে শ্বশুড়বাড়ি আসে না। সে যতই পুরনো হোক বা নতুন হোক। শ্বাশুড়ি জন্য টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বা ঢাকাই জামদানী, শ্বশুড়বাড়ির সকলের জন্য পছন্দ মত জামা-কাপড়, ঝুঁড়ি ভর্তি পাকা আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, বাঙ্গি-তরমুজ, পান-সুপারী, মিষ্টি-দই ইত্যাদি থাকবে জামাইয়ের বাজার তালিকায়। মেয়েরা ধীরে-ধীরে অর্থনৈতিক স্বাদ ও সামাজিক মর্যাদা পাচ্ছে। বিবাহিত মেয়েরা বাবার বাড়ি যাওয়ার তেমন একটা সুযোগ পায় না। অথবা স্বামী-স্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ব্যবসা বা চাকরি করে, ছেলে-মেয়েরা দূরে লেখা-পড়া করে, সময়ের স্বল্পতাসহ এমন নানাবিধ কারণে আত্মকেন্ত্রিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে যাচ্ছে। সেই সাথে জামাই ষষ্ঠীর প্রথাটা সমাজ থেকে একবারে উঠে না গেলেও এর আধিক্য দিন দিন কমে আসছে।

Share
[related_post themes="flat" id="293770"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com