,
সংবাদ শিরোনাম :
» « পদ হারালেন ওমর ফারুক» « সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত» « আবারও জেলার শ্রেষ্ঠ সদর ওসি মোস্তাফিজুর রহমান» « সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু» « প্রতাপনগরে বর্নীল আয়োজনে ॥ দৈনিক দৃষ্টিপাতের ১৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন» « বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল সহ আটক এক» « চার দলীয় নক আউট ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন এমপি জগলুল হায়দার» « তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ -জয়» « মৎস্য ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি ভেঁড়িবাঁধে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী মেম্বার ফেদাউজ মোড়ল» « দোতারাবাদনে সাধনা পূর্ণ্য হলেও ভাগ্য বদল হয়নি বিষ্ণুপদের» « ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বন্ডের অপব্যবহারে রাজস্ব ক্ষতির মুখে সরকার

NBR

এফএনএস : বন্ড সুবিধা নিয়ে আমদানি কিংবা রপ্তানিতে মিথ্যা ঘোষণায় অর্থ পাচার কিংবা শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। শুল্ক গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন সংস্থার হাতে বিভিন্ন সময় আটকের ঘটনায় এমন তথ্যপ্রমাণ মিলছে প্রায়শই। বন্ড দুর্নীতির পাঁচ শতাধিক মামলায় আটকে রয়েছে ৩৬৪২ কোটি টাকার রাজস্ব। এখনই বন্ড চুরি রোধ করতে না পারলে বছরে রাজস্ব ক্ষতি হবে একলাখ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত বন্ড চুরির ৫১৪টি মামলায় কোনো গ্রেফতার নেই। রাজস্ব খাতে চুরি ছাড়াও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা কাপড়, কাগজসহ বিভিন্ন উপকরণ খোলা বাজারে খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে দেশি কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক শিল্প। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাণিজ্যিক আমদানিকারকেরা। সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের আওতায় রপ্তানিমুখী খাতকে বন্ডেড ওয়্যারহাইজ বা বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো শুল্ক ছাড়াই কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। শর্ত একটাই এ কাঁচামালে তৈরি পণ্য পুরোটাই রপ্তানি করতে হবে। এ সুবিধার সবচেয়ে বড় উপকারভোগী তৈরি পোশাক খাত। রপ্তানির বিকাশে এ সুবিধা চালু করতে গিয়ে সরকারকে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিতে হচ্ছে। এ সুবিধার অপব্যবহার করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বছরে যে পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে তার পরিমাণ হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা যা আগামি বছগুলোতে একলাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছর ধরেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রতিবছর বাজেটের আগে তাদের এ দাবি আরও জোরালো হয়। এনবিআর থেকেও কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্র“তি দেওয়া হলেও কার্যত কিছু অভিযান, পণ্যবোঝাই ট্রাক জব্দ, বন্ড লাইসেন্স স্থগিত ও মামলা দায়েরের মধ্যেই সীমিত থাকছে তাদের কার্যক্রম। একদিকে লাইসেন্স বাতিল হয় অন্যদিকে নতুন লাইসেন্সও দেওয়া হচ্ছে। মামলা হলেও কেউ গ্রেফতার হয় না। মামলা নিষ্পত্তি হয় না সহজে, পাওনা শুল্কও আদায় হয় না। ফলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার থামছে না। বন্ড সুবিধার সবচেয়ে বড় উপকারভোগী পোশাক খাত। তবে অপব্যবহারের দায় নিচ্ছে না তৈরি পোশাক এবং এ শিল্পের সহযোগী প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্প। জনবল সঙ্কটের দোহাই দিচ্ছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এনবিআর’র এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ড লাইসেন্স দেয়। বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই। পোশাক খাতে কাপড়সহ কী পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করতে হবে তার প্রকৃত হিসাব নেই বন্ড কমিশনারেটের কাছে। কী পরিমাণ কাঁচামাল লাগবে তা নির্ধারণ করে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) দেবে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ। অ্যাক্সেসরিজের কাঁচামালের পরিমাণ নিরূপণ করে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) দেয় প্লাস্টিকখাতের সংগঠন বিপিজিএমইএ। এদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা নেই বন্ড কমিশনারেটের। ফলে রপ্তানির নামে কী পরিমাণ কাপড়, কাগজ বা প্লাস্টিক কাঁচামাল আসছে, সেগুলো কারখানায় আদৌ ব্যবহার হচ্ছে কি না, খোলা বাজারে কী পরিমাণ যাচ্ছে তার সঠিক তথ্য নেই কারো কাছে। ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খুলে বন্ডের মালামাল আমদানির লেনদেন করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায়ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অভাবে বন্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এনবিআরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অভিযানে পণ্যের কিছু চালান ধরা পড়লেও বন্ড দুর্নীতির হোতারা আড়ালে থাকছে। রাজস্ব খাতে পুকুরচুরি ছাড়াও বন্ড সুবিধায় আনা কাপড়, কাগজসহ বিভিন্ন উপকরণ খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে খোলাখুলিভাবেই। এতে বিপন্ন হচ্ছে দেশি কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক শিল্প। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর পক্ষ থেকে বন্ড অপব্যবহারকারীদের তালিকা করার কথা বলা হলেও এপর্যন্ত দৃশ্যমান কিছু হয়নি। সম্প্রতি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের দমন করার ঘোষণা দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উল্লেখ বলেন, বন্ডের অপব্যবহার রোধে অভিযান চালানো হয়েছে। কারও কারও লাইসেন্স বাতিল করছি। এরা রফতানিকারক নয়, ফটকা ব্যবসায়ী। বন্ডের সুযোগ নিয়ে কর ও শুল্ক না দিয়ে বাজারে পণ্য বিক্রি করছে। এতে টেক্সটাইল, উইভিং, কাগজশিল্প প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএয়ের মতো কোনও ব্যবসায়ী সংগঠনেরই কোনও প্রকার সমর্থন নেই বন্ডের অপব্যবহার নিয়ে। যারা এই অপব্যবহার করছে, আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে নীতিমালায় পরিবর্তন আনবো। রফতানি ছাড়া কোনও বন্ড সুবিধা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু বন্ড অপব্যবহারকারীদের কাছে দৃশ্যত অসহায় বন্ড কমিশনারেট ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এনবিআর থেকে বন্ড দুর্নীতি বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এসব অভিযানে অধিকাংশ সময়ে পণ্য ও পণ্য বহনকারী পরিবহন আটকেই সীমাবদ্ধ থাকে। মূল অপরাধীকে সম্ভব হয়না। বন্ড দুর্নীতিবাজ গডফাদাররা এত শক্তিশালী যে অনেক সময় তাদের দলের লোকদের ধরতে গেলে অভিযানে এনবিআর কর্মকর্তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। অভিযানে বন্ড দুর্নীতিতে জড়িত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার পর প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়ে চূড়ান্ত তদন্তে যাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা পর্যন্ত সময় লেগে যায় ছয় মাস বা তারও বেশি। এরপর অধিকাংশ মামলা বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে পার হয়ে কয়েক বছর। এরমধ্যে বন্ড দুর্নীতিবাজরা নিজেদের দলের নতুন ব্যক্তিদের নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে আবারো বন্ড দুর্নীতি চালাতে থাকে।

Share
[related_post themes="flat" id="294915"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com