,
সংবাদ শিরোনাম :
» « পদ হারালেন ওমর ফারুক» « সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত» « আবারও জেলার শ্রেষ্ঠ সদর ওসি মোস্তাফিজুর রহমান» « সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু» « প্রতাপনগরে বর্নীল আয়োজনে ॥ দৈনিক দৃষ্টিপাতের ১৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন» « বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল সহ আটক এক» « চার দলীয় নক আউট ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন এমপি জগলুল হায়দার» « তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ -জয়» « মৎস্য ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি ভেঁড়িবাঁধে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী মেম্বার ফেদাউজ মোড়ল» « দোতারাবাদনে সাধনা পূর্ণ্য হলেও ভাগ্য বদল হয়নি বিষ্ণুপদের» « ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসে কাটল আফগান গেরো

bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ বরাবরের মতোই নির্লিপ্ত দেখাল সাকিব আল হাসানকে। জয়ের পর দেখা গেল না বিন্দুমাত্র উচ্ছ্বাস। তবে প্রতিক্রিয়া যেমনই হোক, ভেতরটা স্বস্তিতে ভরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ অধিনায়কের। অবশেষে আফগান-ধাঁধা মেলাতে পারল বাংলাদেশ। সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিলে অধিনায়কের ব্যাটেই খুলল জট। ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালের পোশাকী মহড়ায় আফগানিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। ম্যাচে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর জয় এসেছে ৪ উইকেটে। তবে যেভাবেই হোক, অবশেষে আফগানদের হারাতে পারায় ফাইনালের জন্য বাংলাদেশ দল পেল আত্মবিশ্বাসের রসদ। টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা চার হারের পর জয় পেল বাংলাদেশ। আর এই সংস্করণে টানা ১২ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর আফগানিস্তান হারল টানা দ্বিতীয় ম্যাচ। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শনিবার আফগানিস্তানের শুরুটা ছিল উড়ন্ত। তবে ইনিংসের পরের ভাগে দারুণ বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের রাশ টেনে ধরে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ১৩৮ রানে থামে আফগানদের স্কোর। বাংলাদেশ রান তাড়ায় শুরুটা ভালো করতে না পারলেও দলকে এগিয়ে নেন সাকিব। ৪৫ বলে ৭০ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন অধিনায়ক। বাংলাদেশ জেতে ১ ওভার বাকি থাকতে। আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ৯ ওভারে তোলে ৭৫ রান। এরপর আর কোনো জুটি পারেনি ২৫ ছুঁতেও। বাকি ১১ ওভার থেকে আসে কেবল ৬৩ রান। টুর্নামেন্টে প্রথমবার দুই পাশেই পেসার দিয়ে বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে সাফল্যও ধরা দিয়েছিল প্রায়। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শফিউল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কিন্তু সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম তিন ওভারে তবু আফগানদের খানিকটা চাপে রাখতে পেরেছিলেন সাইফ ও শফিউল। চতুর্থ ওভারে শফিউলকে তিনটি বাউন্ডারিতে দুই ওপেনার ইনিংসকে দেন নতুন গতি। মাহমুদউল্লাহ বোলিং পান পাওয়ার প্লের ভেতরে। প্রথম দুই বলেই বাউন্ডারি ও শেষ বলে ছক্কায় স্বাগত জানান হজরতউল্লাহ জাজাই। পাওয়ার প্লের পরও রান আসতে থাকে জোয়ারের পানির মতো। ৯ ওভারেই দলের স্কোর ৭৫। ইনিংসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরু এরপরই। ততক্ষণে ৬ জন বোলিং করে ফেলেছেন। সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে দলকে স্বস্তি এনে দেন আফিফ হোসেন। ওভারের প্রথম দুই বলে রান করতে পারেননি জাজাই। তৃতীয় বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়লেন মুস্তাফিজের হাতে। ফিরলেন ৩৫ বলে ৪৭ করে। নতুন ব্যাটসম্যান আসগর আফগান এক বল পরই বিদায় নিলেন তুলে মারতে গিয়েই। আফিফ শুরু করলেন জোড়া উইকেটে। রানের স্রোত থেমে শুরু হলো উইকেটের স্রোত। পরের ওভারেই গুরবাজকে ২৯ রানে থামালেন মুস্তাফিজ। নতুন স্পেলে ফিরে সাকিব ফেরালেন মোহাম্মদ নবিকে। মাহমুদউল্লাহর দারুণ ফিল্ডিংয়ে রান আউট গুলবদিন নাইব। ২১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে আফগানরা তখন টালমাটাল। শেষ দিকেও আফগানদের সেভাবে ঝড় তুলতে দেননি সাইফ-শফিউলরা। নাজিবউল্লাহ জাদরান, করিম জানাত পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে। সাতে নামা শফিকউল্লাহ শাফাকের ১৭ বলে ২৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে কিছুটা বেড়েছে রান। তারপরও শেষ ৫ ওভারে আসে কেবল ৩১ রান। রান তাড়ায় বাংলাদেশ যথারীতি ভুগেছে শুরুতে। ব্যর্থতার ধারা ধরে রেখেছেন ওপেনাররা। দুই দলের আগের লড়াইয়ের মতোই মুজিব উর রহমানের বলে উইকেট বিলিয়ে আসেন লিটন দাস। অভিষিক্ত নাভিন–উল-হককে প্রথম উইকেট উপহার দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫ ওভার শেষে দলের রান ছিল ২ উইকেট ১৮। তখনও দেখা নেই কোনো বাউন্ডারির। অবস্থা হতে পারত আরও সঙ্গীন, যদি সাকিবের ২ রানে ডাইভিং ক্যাচটি হাতে জমাতে পারতেন শফিকউল্লাহ। ষষ্ঠ ওভারে সাকিবের ২ বাউন্ডারিতে একটু স্বস্তির শ্বাস নেওয়া শুরু। মুশফিক উইকেটে ছটফট করতে থাকলেও টিকে যান কোনোভাবে। সাকিব বাড়াতে থাকেন রান। গড়ে ওঠে জুটি। ৫৮ রানের জুটি ভাঙে মুশফিকের বিদায়ে। একবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েও নতুন জীবন কাজে লাগাতে পারেননি মুশফিক। ২৫ বলে ২৬ রান করে ছুঁড়ে আসেন উইকেট। এরপর কেবলই যেন সাকিবের একার প্রচেষ্টা। ফ্লাড লাইট বিভ্রাটে খেলা বন্ধ থাকে ১২ মিনিট। বিভ্রান্ত ততক্ষণে বাংলাদেশের ব্যাটিং। রশিদ খানের প্রথম ওভারেই আউট মাহমুদউল্লাহ। আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের চোটে একাদশে ফেরা সাব্বির রহমান বাজে শটে শেষ ১ রানেই। রশিদকে উইকেট দিয়ে আসেন আফিফ হোসেনও। শেষ সময়ে মোসাদ্দেক ভরসা জোগান অধিনায়ককে। তাকে নিয়েই সাকিব পার হন শেষের বৈতরণী। ৩ ওভারে যখন প্রয়োজন ২৭ রান, রশিদের বাকি তখনও ২ ওভার। কিন্তু রশিদের ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন মোসাদ্দেক। পরে টানা দুই বলে চার ও ছক্কায় ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে দেন সাকিব। ১২ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। ৮ চার ও ১ ছক্কায় সাকিব ৭০, তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। বাংলাদেশ পেল প্রায় ভুলে যাওয়া স্বাদ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জয়। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আফগানিস্তান : ২০ ওভারে ১৩৮/৭( গুরবাজ ২৯, জাজাই ৪৭, আসগর ০, নাজিবউল্লাহ ১৪, নবি ৪, নাইব ১, শফিকউল্লাহ ২৩*, করিম ৩, রশিদ ১১*; সাইফ ৪-০-২৩-১, শফিউল ৪-০-২৪-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১৬-০, মুস্তাফিজ ৩-০-৩১-১, মোসাদ্দেক ১-০-১০-০, আফিফ ৩-১-৯-২)। বাংলাদেশ: ১৯ ওভারে ১৩৯/৬ (লিটন ৪, শান্ত ৫, সাকিব ৭০*, মুশফিক ২৬, মাহমুদউল্লাহ ৬, সাব্বির ১, আফিফ ২, মোসাদ্দেক ১৯*; ; মুজিব ৪-০-১৯-১, নাভিন ৪-০-২০-২, করিম ৩-০-৩১-১, নাইব ২-০-১৬-০, নবি ৩-০-২৪-০, রশিদ ৩-০-২৭-২)। ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: সাকিব আল হাসান।

Share
[related_post themes="flat" id="298500"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com