,
সংবাদ শিরোনাম :
» « পদ হারালেন ওমর ফারুক» « সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত» « আবারও জেলার শ্রেষ্ঠ সদর ওসি মোস্তাফিজুর রহমান» « সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু» « প্রতাপনগরে বর্নীল আয়োজনে ॥ দৈনিক দৃষ্টিপাতের ১৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন» « বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল সহ আটক এক» « চার দলীয় নক আউট ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন এমপি জগলুল হায়দার» « তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ -জয়» « মৎস্য ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি ভেঁড়িবাঁধে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী মেম্বার ফেদাউজ মোড়ল» « দোতারাবাদনে সাধনা পূর্ণ্য হলেও ভাগ্য বদল হয়নি বিষ্ণুপদের» « ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সড়ক পরিবহন আইন হলেও ॥ বাস্তবায়নে বিধিমালা হচ্ছে না

sarok

এফএনএস : দেশে এক বছর আগেই সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস হয়েছে। কিন্তু এখনো বিধিমালা হয়নি। মূলত পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরোধিতার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাত্রী নাকি শ্রমিক সংগঠনগুলোর স্বার্থ রক্ষা হবে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। শেষ পর্যন্ত আইনের কিছু ধারা সংশোধন করার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আইন-স্বরাষ্ট্র ও রেল মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সুপারিশের পর তা চূড়ান্ত হবে। অবশ্য চাপের মুখে আইনের যেসব ধারা সংশোধন করার চিন্তা করা হচ্ছে, এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোরই স্বার্থ রক্ষা হবে। স্বরাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’। কিন্তু ১২ মাস অতিক্রম হতে চললেও আইন বাস্তবায়নের বিধিমালা এখনো তৈরি করা হয়নি। আইন বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে চাপ থাকার কারণে বিধিমালা এখনো তৈরি করা হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরাএছাড়া নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারার বিরোধিতা করে আসছেন। তারা আইনের বিভিন্ন ধারা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনেও নামেন। মালিক-শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করা, সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের অর্থদন্ড পাঁচ লাখ টাকার বিধান বাতিল করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণী করা প্রভৃতি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে আইন বিশ্লেষণ করে তা বাস্তবায়নের সুপারিশের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আইন ও রেলমন্ত্রী। কিন্তু ওই কমিটি ৬ মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তাই এখন আইন বাস্তবায়ন না করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সুপারিশ বাস্তবায়নের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। ফলে বিশৃঙ্খলা সড়ক ও পরিবহন সেক্টরকে শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজ আরো দীর্ঘায়িত হবে। সূত্র জানায়, আইন সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সরকারি কমিটির সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসার কথা। সকলের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মতামত নেয়া হবে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত, আইনটি বাস্তবায়নে বাধা পরিবহন মালিক শ্রমিকদের দেয়া সুপারিশ। যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ওসব সুপারিশের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া সময়সাপেক্ষ। আর বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ার কারণে আইনও কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সড়ক ও পরিবহন খাতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে জানান পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র আরো জানায়, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুপারিশে কোন কাজ হয় না। একই সুপারিশ বারবার ঘুরে ফিরে আসে। বাস্তবায়ন হয় না। সুপারিশের ভারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কুঁজো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সড়ক নিরাপত্তার জন্য এ পর্যন্ত যতগুলো সুপারিশ করা হয়েছে, তার কিছু অংশ বাস্তবায়ন করা হলেও কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ থেকেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। যেমন ২২টি মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ৫ ঘণ্টার বেশি কোন চালক গাড়ি চালাবে না। কিন্তু ওসব সিদ্ধান্ত আশানুরূপ কার্যকর হয়নি। সড়ক আইন বাস্তবায়নে অনিহা ও আইন না মেনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। তাতে দুর্ঘটনাও কমানো যাচ্ছে না। এর আগে ‘মোটর ভেহিকল অর্ডিনেন্স-১৯৮৩’ একাধিক বিধিমালা ছিল, তাও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বরং পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য আইন বাস্তবায়ন আগ্রহী নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিবহন সেক্টরের বড় বড় মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শিগগিরই সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করা হবে। আইনটি কতটা যথোপযুক্ত করে প্রণয়ন করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় মন্ত্রী বলেন, এ আইন বাস্তবায়ন হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সবার মতামত নিয়েই আইনটি হচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের আপত্তির ক্ষেত্রে আইন ঠিক রেখে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হবে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইন প্রণয়নের, তাই আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখবেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে এক বৈঠকে সাংবাদিকদের জানান, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী, আমি ও রেলমন্ত্রীকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছিল। আমরা বসেছিলাম। আইনটির যেসব বিষয়ে তারা (পরিবহন মালিক-শ্রমিক) আপত্তির কথা বলেছেন সব ধারা আমরা দেখেছি। আমাদের মনে হলো আমরা এটাকে আরেকটু ভাল করে দেখে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসে আমাদের মতামত প্রকাশ করব। (দাবিগুলো) আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছি, সব পয়েন্টই আলাপ করেছি। সবার কথা শুনে আমাদের মতামতটাও বলব। আইনে যদি কোন কিছু যোগ-বিয়োগ করতে হয় সেটা আমরা দেখছি। সেজন্য আইনমন্ত্রী মহোদয় আছেন মতামত দেবেন। আমরা তাদের দাবিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, দাবিগুলোর যৌক্তিকতা আছে কিনা দেখা হচ্ছে। তবে আইন আইনের গতিতে চলছে। এটা গেজেট হয়ে যেখানে চলে যাওয়ার চলে যাচ্ছে। আইন বাস্তবায়নে কোন বাধা নেই। আমরা দেখছি, তারা যে আপত্তি করেছে সেটার কোন যৌক্তিকতা আছে কিনা। এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, আমরা আইনের বিরুদ্ধে নই। মানুষের বিরুদ্ধেও নই। আমরা চাই সকলের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে এমন আইনের বাস্তবায়ন। আমরা যেসব বিষয়গুলোতে সংস্কার প্রয়োজন মনে করেছি, সেগুলোতে সংশোধনী চেয়েছি। এখন বিবেচনার দায়িত্ব সরকারের।

Share
[related_post themes="flat" id="298503"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com