,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ক্ষমা চাইলেন বুয়েটের ভিসি ॥ বহিষ্কার ১৯, দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ» « এমপি রবির বাসভবনে শারদীয় পূর্ণমিলনী সম্প্রীতির মেলা অনুষ্ঠিত» « সদরের বেত্রাবতী নদীর উপর নব-নির্মিত ব্রিজের উদ্বোধন করলেন এমপি রবি» « জেলা রেফারীজ এসোসিয়েশন এর আয়োজনে রেফারী রিফ্রেসার্স কোর্স উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার» « শহরের সবুজবাগে সিসি ঢালাই রাস্তার কাজ উদ্বোধন» « র‌্যাবের অভিযানে ফেনসিডিল সহ আটক এক» « বুয়েটে আবরার হত্যা মামলার আসামী শামীম বিল্লাহ গ্রেপ্তার» « বাঁশদহে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি দৃষ্টিপাত এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও শুভকামনায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন» « সুন্দরবনকে সুন্দর রাখতে হবে» « জুয়ার বোর্ড থেকে ৪ জুয়াড়ি আটক» « খলিষখালিতে ঈদগা ও গণ-গোরস্থানের উদ্বোধন

আমরা দুর্নীতিতে ‘প্রচন্ড উন্নতি’ করেছি -সুলতানা কামাল

FNS_09102019_N_01

এফএনএস: বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ‘প্রচন্ড উন্নতি’ করেছে মন্তব্য করে মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, তার নমুনাও এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি চেয়ারপারসন বলেন, উন্নয়ন হলেও ‘মানবিকতায় এগোতে পারেনি’ বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নের একেবারে মহাসড়কে চলে গেছি, উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে গেছি, সবকিছুই হয়ে গেছি। কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে একই তালে কি আমরা মানবিকতাকে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছি? আমরা কি সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পেরেছি? সুলতানা কামাল বলেন, উন্নয়ন বলতে আমরা শুধু রাস্তাঘাট, বড় বড় প্রকল্প… যেটার মধ্যে আবার বালিশ কিনতে লাগে চৌদ্দ হাজার টাকা, তুলতে লাগবে আরও চার হাজার টাকা। আমরা উন্নতি করেছি দুর্নীতিতে, প্রচন্ড উন্নয়ন করেছি। যেটার কিছুকিছু নমুনা এখন বের হয়ে আসছে। সরকার সম্প্রতি ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করলেও দুর্নীতির অন্যসব ক্ষেত্র এর বাইরে থেকে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, ক্ষমতা দেখিয়ে মানুষের উপরে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে, ব্যাংক লুট করে ফেলা হচ্ছে, শেয়ার মার্কেটে কেলেঙ্কারি করা হচ্ছে… এই জায়গায় কিন্তু আমরা কিছু বলছি না। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় আইন করা হলেও তা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছিল, কোটা বাতিল করে দেওয়া হল। উনি যখন আইন করে দিলেন, সেই আইন বাস্তবায়ন করতে কারও কোনো উদ্যোগ দেখা গেল না। কিন্তু যখন কোটা বাতিলের কথা এল, সেই কোটা বাতিলের সূত্র ধরে কিন্তু কোটাগুলো বাতিল হয়ে গেল। কোটা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যা পেতেন সেটা দেওয়া হচ্ছে না। সুলতানা কামাল বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধীতার বিষয়ে নেতিবাচক খবর, ভাষা-পরিভাষা ‘প্রতিবন্ধীদের’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, এটা অবমাননাকর। এখনো তারা ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করছে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একজনকে মাত্র ৭০০ টাকা মাসিক হারে ভাতা দেওয়া হয়। যা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। আর এলাকার জনপ্রতিনিধিরা ভাতা কার্ড দেওয়ার নামে সম্মানী হিসেবে প্রথম ছয় মাসের টাকা নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে আত্মসাৎ করে। এদেরকে এখন শুদ্ধি অভিযানে আনা দরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন- ২০১৩ বাস্তবায়ন, বিদ্যমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ (এনসিডব্লিও)। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজেদা আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। সভাপতিত্ব করেন প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সভাপতি নাসিমা আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণের আবেদন ও নিষ্পত্তির পর্যায় সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৩ সালে যে আইনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট সাতটি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে তুলে ধরা হয় বাস্তব পরিস্থিতি। সভাপতির বক্তব্যে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সভাপতি নাসিমা আক্তার জানান, ২০১৩ সালের এইদিনে আইনটির জন্ম হয়েছে। সে হিসেবে আজ এ আইনের জন্মদিন। বিগত ছয় বছরে এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বলতে গেলে আমরা অনেক পেছনে আছি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ও ব্লু ল’ ইন্টারন্যাশনাল এল এল পি’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে এনসিডিউব্লিও, এনজিডিও, ও ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, টাঙ্গাইল, পাবনাসহ সাতটি জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংস্থা ডিপিওসমূহের ক্ষমতায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করছে। এর আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিসিএসসহ ১ম ও ২য় শেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শতকরা ১ শতাংশ কোটা সুবিধা থাকলেও এখন তা বাতিল হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা শতকরা ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন বক্তরা।

Share
[related_post themes="flat" id="298961"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com