,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ» « আজ মহান বিজয় দিবস» « সশস্ত্র বাহিনীকে সুদক্ষে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার -প্রধানমন্ত্রী» « বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ঐচ্ছিক তহবিল হতে অনুদানের চেক বিতরন» « সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে ॥ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সেমিনারে বক্তারা» « শ্যামনগর উপজেলা আ”লীগের পক্ষ থেকে জেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা» « সামজকে মাদক মুক্ত করতে হলে যুবসমাজকে খেলাধূলায় আকৃষ্ট করতে হবে -কলারোয়ায় এমপি লুৎফুল্লাহ» « গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় দগ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু» « মাগুরায় ৪ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মাজার জিয়ারত» « আশাশুনি উপজেলা আ’লীগের পুনঃনির্বাচিত সভাপতি ॥ উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা» « ২শ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

কলারোয়া থেকে লাঙ্গল, জোয়াল, বাঁশের মই হারিয়ে যেতে বসেছে

মোঃ আলীহোসেন খোরদো কলারোয়া থেকে: ডিজিটাল এই যুগে মানুষ এর অসীম চাহিদা আর অভাবময় জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে আবির্ভূত হয়েছে দামি দামি যান্ত্রিক হাল কলের লাঙল, ট্রাক্টর। সঙ্গে এসেছে ফসলের বীজ রোপণ, ঝাড়াই-মাড়াই করার যন্ত্র। ফলে লাঙ্গল, জোয়াল, বাঁশের মই হারিয়ে যেতে বসেছে। কৃষিকাজে কামারের তৈরি এক টুকরো লোহার ফাল আর কাঠমিস্ত্রির হাতে তৈরি কাঠের লাঙল, জোয়াল, খিল, শক্ত দড়ি আর নিজেদের বাঁশের তৈরি মই ব্যবহার করে জমি চাষাবাদ করতেন গ্রাম এর কৃষকেরা। কৃষিকাজে ব্যবহৃত এসব স্বল্প মূল্যের কৃষি উপকরণ এবং গরু দিয়ে হালচাষ করে এই অঞ্জলের মানুষ যুগের পর যুগ ধরে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা হয়, অন্যদিকে কৃষকের অর্থ ব্যয় কম হয়। ফসলের পাশের কিংবা ঘাসপূর্ণ জমিতে হাল চাষের সময় গরু যাতে কোনো খাদ্য খেতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে পাট, বেত, বাঁশের কি অথবা লতা জাতীয় এক ধরণের গাছ দিয়ে তৈরি গোমাই, ঠুসি গরুর মুখে বেঁধে দেওয়া হয়। আর তাড়াতাড়ি হাল চালানোর জন্য ব্যবহার করেন বাঁশের বা শক্ত কোন লাঠি দিয়ে তৈরি পাচুনি (লাঠি)। এটি খুব বেশি দিনের কথা নয়, কয়েক বছর আগে এসব গরুর হালে লাঙ্গল-জোয়াল আর মই দেশের উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জমিতে হরহামেশাই দেখা যেত। চাষিদের অনেকে নিজের জমিতে হালচাষ করার পাশাপাশি অন্যের জমি চাষিয়ে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু অর্থও উপার্জন করতেন। তারা হাজারো কর্মব্যস্ততার মধ্যেও কখনো কখনো ফুরফুরে আনন্দে মনের সুখে ভাওয়াইয়া,পল্লিগীতি বাশিও ভাটিয়ালী গান গেয়ে গেয়ে জমিতে চাষ দিতেন। এখন হাতে গোনা দু-চারজন কৃষককে পাওয়া যায়। আর চাষ কাজের জন্য হালের গরু ছোট থাকা কালীন পোষ মানাতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতো। ভোররাত থেকে শুরু করে প্রায় দুপুর পর্যন্ত জমিতে হালচাষ করতেন তারা। চাষিরা জমিতে হাল নিয়ে আসার আগে চিড়া-গুড় অথবা মুড়ি-মুড়কি দিয়ে হালকা খাবার খেয়ে নিতেন। তবে হুকা ও পাতা বা কাগজের তৈরি বিড়ি খাওয়া তাদের অভ্যাসে পরিণত ছিল বলে মনে করেন অনেকে। আবার একটানা হট হট, ডাইনে , বাঁই বাঁই, বস বস আর উঠ উঠ করে যখন ক্লান্তি আসত, তখন সূর্য প্রায় মাথার উপর খাড়া হয়ে উঠতো। এ সময় চাষিরা সকালের নাস্তার জন্য হালচাষে বিরতি রেখে জমির আইলের ওপর বসতেন। তাদের নাস্তার ধরনটাও ছিল ঐতিহ্যবাহী। এক থালা পান্তা ভাতের সঙ্গে কাঁচা অথবা শুকনো মরিচ, পিয়াজ আর আলু ভর্তা। এসব তো গেল শুকনা মৌসুমে হালচাষের কথা। বর্ষাকালে কারো জমির চাষাবাদ পিছিয়ে গেলে সবার শেষে হাল চাষিরা নিজে থেকে হাল গরু নিয়ে এসে পিছিয়ে পড়া চাষিদের জমি চাষ দিতেন। হাল চাষিদের সঙ্গে আরো যোগ দিতেন ধানের রোপার চারা লাগার লোকজন। সকলের অংশ গ্রহণে উৎসবমুখর এই কাজটিকে বলা হতো-‘কৃষাণ’। কৃষ্যাণে অংশ নেওয়া কৃষাণদের জন্য জমিওয়ালা গেরস্থাাারা বড় বড় মোরগ, হাঁস কিংবা খাসি জবাই করে ভোজ করাতেন। কিন্তু আজকাল সময়ের আবর্তে দক্ষিণা অজ্ঞল জেলা গুলো থেকে এসব গরুর হাল, কৃষি উপকরণ কাঠের লাঙ্গল, জোয়াল, বাঁশের মই হারিয়ে যেতে বসেছে এবং হাল-কৃষাণ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তির কারণ জানতে চাইলে কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত মাছ চাষ, মাছের ঘের গুলিতে আজ আর ধান রোপন করা হয় না। ।তাই গরুর পর্যাপ্ত খাবারের অভাব গরুর অবাধ বিচরনের কোন জায়গা নেই। তাছাড়া ডিজিটাল এ যুগে মানুষের অসীম চাহিদা আর অভাবময় জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে আবির্ভূত হয়েছে দামি দামি যান্ত্রিক হাল যেমন, কলের লাঙল, ট্রাক্টর। সঙ্গে এসেছে ফসলের বীজ বপন-রোপণ, ঝাড়াই-মাড়াই করার যন্ত্র। আর এসব যন্ত্র চালাতে মাত্র দু’একজন লোক প্রয়োজন। ফলে বিত্তবান কৃষকরা ওই যন্ত্র কিনে মজুরের ভূমিকায় কাজ করলেও গ্রামের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও দিনমজুরের জীবন থেকে ঐ সব ঐতিহ্যময় স্মরণীয় দিন চিরতরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আগামী প্রজন্ম হয়তো জানতেই পারবে না এভাবে অতীতে চাষ কাজ করা হতো।

Share
[related_post themes="flat" id="302166"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com