,
সংবাদ শিরোনাম :
» « অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বেশিরভাগ মেগা প্রকল্পই গতিহীন» « সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে নব-নির্বাচিত প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময়» « দুর্নীতি কমাতে না পারলে উন্নত রাষ্ট্রে পৌছানো যাবে না ॥ আশাশুনিতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ» « সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটি দায়িত্বভার গ্রহণ করায় ॥ শান্তির সুবাতাস বইছে সাংবাদিকদের পদচারণায় মুখরিত প্রেসক্লাবে» « দরগাহপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করলেন সচিব ইউসুফ হারুন» « আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা» « বঙ্গবন্ধু জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশ নিতে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা ত্যাগ জেলা দলের» « বাংলাদেশের অর্থনীতি ঃ কৃষি, শিল্প ও বৈদেশিক মুদ্রা» « মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ» « শ্যামনগরে দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সাংবাদিকদের মতবিনিময়» « প্রবাসীর স্ত্রীর দু’কান কেটে দিলো প্রতিপক্ষ

গ্রাম বাংলায় শীতকালীন পিঠার আমেজ আর নেই

এম এম নুর আলম ॥ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের শীতকালীন বাহারি পিঠা। একসময় পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় ছোট-বড় সকলেই পিঠা খাওয়ার আনন্দে মেতে উঠত। কিন্তু এখন তা আর চোখে পড়েনা। কর্মচাঞ্চল্য এই ব্যস্তময় জীবনের গর্ভে তা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। যতই শীত বাড়ে ততই যেন মানুষের পিঠা বানানোর ব্যস্ততা বেড়েই চলত। শীতকাল আসলে গ্রাম-গঞ্জে, ফুট-পথ হতে শুরু করে প্রতিটি ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ব্যস্ততা বেড়ে যেত। বাহারি রকমের পিঠা তৈরির উৎসবে আত্মহারা হত সর্বস্তরের মানুষ। এসময় গ্রামে সন্ধ্যা হলেই চাল কোটার শব্দে মুখরিত হয় চারদিক। রাতভর চলে পিঠা তৈরির কাজ। অনেকে আবার পিঠা তৈরির সময় গীত গেয়ে রাত পার করে। পিঠার অন্যতম উপাদান চালের গুঁড়ো হলেও এর সঙ্গে লাগে গুড়, ক্ষীরসহ নানা উপকরণ। এ উপকরণের সঙ্গে শীতের একটা যোগসূত্র আছে। তাই হেমন্ত থেকে শীতকাল পর্যন্ত পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। বাংলাদেশে কত রকম পিঠা হয় তা বলে শেষ করা কঠিন। শীতের এই সময়ে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতি ঘরেই চিতল, দুধচিতল, পুলি, নকশি, পাটিসাপটা, ভাপা, পাখন, তেলে ও গোটা পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গৃহিণীরা। তবে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিতই, পাটিসাপটা, লরি পিঠা, ভাপা, আন্দশা, কুশলী, পাতা পিঠা, কাটা পিঠা, ছিট পিঠা, চুটকি পিঠা, মুঠি পিঠা, মেরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, নকশি পিঠা, পুলি পিঠা, জামাই পিঠা, ঝুরি পিঠা ও বিবিয়ানা পিঠা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও কর্মচাঞ্চল্যের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন বাড়িতে পিঠা তৈরির সেই উৎসবমুখর আমেজ হারিয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন যাত্রা বদলে যাচ্ছে অনেক। কালের বিবর্তনে সাথে সাথে আমাদের গ্রামীন সংস্কৃতি গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। হাবীবা সুলতানা নামের একজন গৃহিণী শীতের ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের বাহারি পিঠা সম্পর্কে বলেন, শীত আসলে আগে কত ধরণের পিঠা বানাতাম। সারা রাত বসে ঢেঁকিতে চাল গুড়া করতাম এবং ভোরে উঠে পিঠা বানাতাম সবাই মিলে। ছেলে মেয়েরা আনন্দের সাথে পিঠা খেয়ে স্কুলে চলে যেত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে পিঠা তৈরি হয় না। আগের সেই পিঠা বানানোর আমেজ হারিয়ে গেছে অনেক দিন আগে। এখন সবাই পিঠা বাজার থেকে কিনে এনে খায়। এতে কোন আনন্দ- উৎসব থাকে না। গ্রামের গৃহিণীদের মধ্যে আগের মত পিঠা বানানোর উৎসব নেয়। হরেক রকমের পিঠ আমাদের নতুন প্রজন্ম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই পিঠা বানানোটা এখন স্মৃতি হয়ে গেছে।

Share
[related_post themes="flat" id="305351"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com