,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ভয়াবহ করোনা সংক্রামন বিরোধী প্রচারে নিয়োজিতরা ॥ জাতির বীর সন্তান ॥ জাতি তাদের স্মরন করবেই» « রমজানে অফিস সূচি ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা» « চট্টগ্রামে রাস্তায় ২ জনের মৃত্যু, করনো উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু» « নতুন ৩৫জনসহ করোনা আক্রান্ত ১২৩, মৃত্যু ১২জনের: আইইডিসিআর» « মোংলা বন্দরে আমদানি কমেছে এক চতুর্থাংশ» « প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পুলিশের ২০ কোটি টাকা অনুদান» « করোনা আক্রান্ত দুদক কর্মকর্তার মৃত্যু» « করোনায় বিদেশে অন্তত ১০০ বাংলাদেশির মৃত্যু» « আজ থেকে খুলনায় করোনা পরীক্ষা শুরু» « ৫০ লাখ দিলেন যুবরাজ, ৫ হাজার পরিবারের পাশে হরভজন» « সবাই ঘরে বসে থাকলে গরীবরা খাবার পাবে কোথায়: আফ্রিদী

মধ্যরাতে সংবাদিককে দন্ড: সব নথি তলব হাইকোর্টের, পরবর্তী আদেশ ২৩ মার্চ

এফএনএস: কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড দেওয়া সংক্রান্ত সাজার সব নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে এসব নথি দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সেদিন মামলার পরবর্তী আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য। এর আগে গত ১৫ মার্চ বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। গতকাল সোমবার সাংবাদিক আরিফের পক্ষে শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন আদালতের শুনানিতে বলেছেন, সাংবাদিকরা হচ্ছেন সমাজের দর্পণ। তারাই সমাজের নানা ত্র“টি-বিচ্যুতি তুলে ধরেন। সাংবাদিকরা জেগে থাকলে সমাজে অন্যায় কম হয়। কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাসার দরজা ভেঙে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে একজন সাংবাদিককে যেভাবে দন্ড দেয়া হয়েছে তা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছুই নয়। আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক আরিফের অপরাধ তিনি ডিসির বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন। নিউজে কোনো ভুল থাকলে তার জন্য প্রেস কাউন্সিল আছে। মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা না করে গভীর রাতে বাসার দরজা ভেঙে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। এটা অন্যায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। আদালত বলেন, সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভ (সাংবাদিকরা) যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে রাষ্ট্রের বাকি তিন স্তম্ভ (আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে। এদিকে, গত রোববার দুপুরে কারাগার থেকে মুক্তি পান সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম। রিট আবেদনে টাস্কফোর্সের নামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরিফুল ইসলামকে অবৈধ সাজা ও আটক করা কেন সংবিধান পরিপন্থী হবে না, আরিফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়। এছাড়াও রিটে কুড়িগ্রামের ডিসি, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তাদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরিফের বিরুদ্ধে করা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলার নথি এবং টাস্কফোর্স পরিচালনার নথি তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের দন্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আরিফের স্ত্রী কাছে দাবি করেন, মধ্যরাতে কিছু আগন্তুক তাদের বাসায় এসে দরজা ধাক্কাতে থাকেন ও দরজা খুলতে বলেন। আরিফ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় দেননি। এরপর আরিফ কুড়িগ্রাম থানায় যোগাযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ তার বাসায় কোনও অভিযান চালানো হয়নি বলে নিশ্চিত করে। এরমধ্যেই আগন্তুকরা দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে। তবে তারা কোনও তল্লাশি অভিযান চালায়নি। আরিফের স্ত্রীর দাবি, আগন্তুকরা ছিল ৬ থেকে ৭ জন। সবাই সশস্ত্র ছিল। তাদের সঙ্গে ১৫-১৬ জন আনসার সদস্য ছিল। তারা বাসায় ঢুকেই কোন কারণ না জানিয়ে আরিফকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েক বার গুলি করার হুমকিও দেয় আগন্তুকরা। এর এক ঘণ্টা পর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে খুঁজে পায়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আরিফকে এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ডিসি অফিসে জানতে চাইলে কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। যদিও আরিফ অধূমপায়ী এবং জীবনেও এসব ছুঁয়েও দেখেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক আরিফ। এ বিষয়ে জানতে পেরে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে তাকে বেশ কয়েক বার ডেকে নিয়ে সতর্ক করা হয়।

Share
[related_post themes="flat" id="311532"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com