,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ভয়াবহ করোনা সংক্রামন বিরোধী প্রচারে নিয়োজিতরা ॥ জাতির বীর সন্তান ॥ জাতি তাদের স্মরন করবেই» « রমজানে অফিস সূচি ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা» « চট্টগ্রামে রাস্তায় ২ জনের মৃত্যু, করনো উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু» « নতুন ৩৫জনসহ করোনা আক্রান্ত ১২৩, মৃত্যু ১২জনের: আইইডিসিআর» « মোংলা বন্দরে আমদানি কমেছে এক চতুর্থাংশ» « প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পুলিশের ২০ কোটি টাকা অনুদান» « করোনা আক্রান্ত দুদক কর্মকর্তার মৃত্যু» « করোনায় বিদেশে অন্তত ১০০ বাংলাদেশির মৃত্যু» « আজ থেকে খুলনায় করোনা পরীক্ষা শুরু» « ৫০ লাখ দিলেন যুবরাজ, ৫ হাজার পরিবারের পাশে হরভজন» « সবাই ঘরে বসে থাকলে গরীবরা খাবার পাবে কোথায়: আফ্রিদী

বাংলাদেশে আরও ৩ জন করোনা আক্রান্ত

এফএনএস: বাংলাদেশে আরও তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যারা এর আগে আক্রান্ত এক প্রবাসীর পরিবারের সদস্য। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল সোমবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন শিশুর বয়স দশ বছরের নিচে, অন্যজন নারী। দুই শিশুর জ¦র-সর্দি ছিল, তাদের সবার সংক্রমণই ‘মৃদু’। এর আগে দ্বিতীয় দফায় ইতালি ও জার্মানি ফেরত যে দুজনের মধ্যে ভাইরাস ধরা পড়েছিল, তাদেরই একজনের মাধ্যমে তার পরিবারের ওই তিন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, একজন রোগীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করার পর কন্টাক্ট ট্রেসিং করে করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ পাওয়া যায়। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট আটজনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ল, যাদের মধ্যে প্রথম দফায় আক্রান্ত তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আইইডিসিআরে এ পর্যন্ত ২৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ওই আটজন ছাড়া আর কারও মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে জানানো হয় ব্রিফিংয়ে। ডা. ফ্লোরা বলেন, এই মুহূর্তে আইসোলেশনে রয়েছেন ১০জন। তারা বিভিন্নভাবে এসেছেন। যাদের নমুনা পরীক্ষায় রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে তারা বাড়ি চলে গেছেন। গতকাল সোমবার থেকে আইইডিসিআরে এলে আর কারও নমুনা সংগ্রহ করা হবে না জানিয়ে পরিচালক বলেন, যদি কারও নমুনা পরীক্ষা করতে হয়, তাহলে আইইডিসিআরের হটলাইনে (০১৯৪৪৩৩৩২২২) কল করলেই হবে। আইইডিসিআরের টিম গিয়ে তার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনবে। এ মুহূর্তে যারা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন, তাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে হলে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে হবে। যারা বিদেশ থেকে এসে পরিবারের সঙ্গে থাকছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদেরই সেপারেশনটা নিশ্চিৎ করতে হবে। কমপক্ষে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে তাদের মেলামেশা করতে হবে। যদি কেউ হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি না মেনে অবাধ ঘোরাফেরা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে সতর্ক করেন অধ্যাপক ফ্লোরা। তিনি বলেন, সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপরিচিত মানুষের সমাবেশ হয়, এমন আয়োজন বন্ধ রাখুন। করোনাভাইরাস অতি দ্রুত ছড়ালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর সংক্রমণে খুব মৃদু উপসর্গ দেখা দেয় জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, তারা মৃদু রোগে ভুগছেন। তাদের মৃদু কাশি, গলাব্যথা, মৃদু জ¦র। আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি সতকর্তায়। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া কিন্তু রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের করোনাভাইরাস আতঙ্ক আর অবহেলায় এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ালেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেছেন বলে আমাদের জানা নেই। সংবাদমাধ্যম জানায়, নাজমা আমিন (২৪) নামে কানাডাফেরত এক স্নাতক শিক্ষার্থী ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি কানাডা থেকে ফিরেছেন বলে করোনাভাইরাস আতঙ্কে চিকিৎসকরা সেবায় অবহেলা করেছেন বলে অভিযোগ তার স্বজনদের। ফ্লোরা বলেন, আমরা যেগুলো পরীক্ষা করেছি, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এনে পরীক্ষা করেছি। এই আটজনের বাইরে আর কারও মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেডিকেল থেকে যখনই ফোন করে জানানো হয়, সেখানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের রোগী থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা সেখানে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের জানিয়ে দেই যে কার করোনা সংক্রমণ রয়েছে কার নেই। তবে কোনো রোগী মারা গিয়েছে কি-না, এই সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দিতে পারবে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সন্দেহভাজন এক করোনা রোগী পালিয়েছেন বলে খবর ছড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বিশেষ কোনো হাসপাতালে কী হয়েছে সে ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সাথে যেই রোগীর ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়েছিল, আমরা তার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি, তার মধ্যে করোনা সংক্রমণের কোনো লক্ষণ নেই। রোগ নির্ণয়ের রি-এজেন্ট আনার ব্যাপারে কাদের সঙ্গে আইইডিসিআরের যোগাযোগ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে রি-এজেন্ট পাই। ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে রি-এজেন্ট কেনার বিষয়ে কাজ চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আমাদের রি-এজেন্ট দেয়ার ব্যাপারে কাজ করছে। রি-এজেন্ট নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ চিন্তাটি বেশি আমার এবং প্রতিষ্ঠানের। সেটি নিয়ে আমরা নিজেরাও কাজ করছি। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর কেউ মারা গেলে ওই মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো রিভিউ কমিটি হবে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যাদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে তারা এর সংক্রান্ত তালিকাভুক্ত হবেন। কজ অব ডেথ বের করার বিষয়টি ভিন্ন। আমরা আশা করি কেউ মারা যাবেন না। যদি তেমন কিছু হয়ও, তবে তিনি কী কারণে মারা গেছেন সেটা বিশ্লেষণ করার জন্য আমরা অবশ্যই ক্লিনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেব। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের রিসেন্ট কন্টাক্ট ট্রেসিং (সম্প্রতি কার সঙ্গে মিশেছে) করতে হয়। কন্টাক্ট ট্রেসিং যদি সঠিকভাবে করা না যায় তাহলে ইনফেকশন কমিউনিটিতে চলে যেতে পারে। এটি এখন পর্যন্ত লোকাল ট্রান্সমিশনে আছে, যেটা আমরা কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মধ্যে পাচ্ছি। যদি আমরা কন্টাক্ট ট্রেসিং প্রোপারলি না করি, এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য এখন পর্যন্ত আমরাই অর্থাৎ আইইডিসিআর একাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। আইইডিসিআরে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে সে ব্যবস্থা নেয়া আছে। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের এমন অবস্থা হয়নি বা সাসপেক্টেড কেসও এমন নয় যে, আইইডিসিআর একা পরীক্ষাগুলো করতে পারবে না। আইইডিসিআর পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো কার্যকরভাবে করতে পারছে। করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি ও হাসপাতালগুলোতে সমন্বয়হীনতার যে অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, সেগুলো নিয়ে আমরা কথাবার্তা বলছি। আজকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মহাপরিচালক মহোদয় বিষয়টি নিজেই দেখছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সোসাইটির সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলছেন সভা করেছেন। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। সেদিন তিন জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানায় সরকারের আইইডিসিআর। পরে আরও দুজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় সরকার। এদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যাদের দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন। সবশেষ আরও তিনজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানা গেল।

Share
[related_post themes="flat" id="311536"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com