,
সংবাদ শিরোনাম :
» « শ্যামনগরে গাজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক» « আশাশুনিতে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ» « পাটকেলঘাটায়পটল ও বেগুন গাছ কেটে ক্ষতি সাধন» « সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা» « দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২১৮, মৃত্যু বেড়ে ২০» « বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসির পরোয়ানা জারি» « বাগেরহাটে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু» « করোনায় মৃত্যু ৮২ হাজার ছাড়ালো» « সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির খাদ্য সামগ্রী বিতরন» « শ্যামনগর থানা পুলিশের রোল কল, চেকপোস্ট বসানো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান» « সাড়ে ১৭ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান ও চাল কিনবে সরকার

সারাদেশসহ রাজধানী জুড়ে শুধুই বঙ্গবন্ধু ॥ বর্ণিল আলোকসজ্জা॥ সর্বত্র উৎসবের আমেজ

জি এম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’কে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশজুড়ে নাগরিকদের মধ্যে এক অন্য রকম উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মহান এই নেতাকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী ঢাকাকে সাজানো হয়েছে ব্যতিক্রমী উৎসবের আমেজে। সারাদেশজুড়ে একই রকমের উৎসব বিরাজ করছে। জাতীয় এই বীরের বৈর্ণাঠ্য কর্মময় জীবনের নানা আলোকচিত্র শোভা পাচ্ছে রাজধানীর সড়ক ও মহাসড়ক দ্বীপগুলোতে। রাজধানীর বিজয় স্মরণীতে ফিদেল ক্যাষ্ট্রের উক্তি সম্বলিত প্রতীকী ৬০ ফুট উচ্চতার হিমালয় তৈরি করা হয়েছে। রাজধানী জুড়ে ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানোর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রদর্শনীর ধানমন্ডি, জাতীয় সংসদ ভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বিমানবন্দর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, বনানী-মহাখালী-ফার্মগেট-শাহবাগ-নিউমার্কেট, সংসদ ভবন, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকাঘুরে বর্ণিল এই দৃশ্য চোখে পড়েছে। সর্বত্র শোভা পাচ্ছে স্বাধীনতা অর্জনে বাঙ্গালীর অনুপ্রেরণাময় বক্তব্যের পুরধা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। বলা যায়, সারাদেশের পাশাপাশি রাজধানী সেজেছে মুজিবীয় সাজে। প্রদর্শনীর আয়োজনের পাশাপাশি অনেক এলাকাতেই ১৭ মার্চ জন্মদিনের আগেই বঙ্গবন্ধু’র ভাষণ প্রচার শুরু হয়েছে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গত রোববার রাত থেকে শুরু হয়েছে ভাষণের কর্মযজ্ঞ প্রচার। আর এই সাজ-সজ্জাকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বের আলোচিত ব্যক্তিত্ব বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর বাণী সম্বলিত প্রতীকী ৬০ ফুট উচ্চতার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে ঘিরে সারাদিনই দর্শনার্থীদের ভীড় দেখা গেছে। সকলেই ওই দৃশ্য কমেরা বন্দী করছেন। এদিকে,জেলা-উপজেলায় এমপিদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃর্তি ফুল দেওয়া, মিলাদ-মাহফিল এবং ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলবে ঘরোয়া পরিবেশে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ ইকবালুল রহিম। প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও কিউবা ছিল। সেই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ নট সিন দ্য হিমালয়েজ। বাট আই হ্যাভ সিন শেখ মুজিব। ইন পারসোনালিটি এন্ড ইন কারেজ, দিস ম্যান ইজ দ্য হিমালয়েজ। আই হ্যাভ দাজ হ্যাড দ্য এক্সপিরিয়েন্স অব উইটনেসিং দ্য হিমালয়েজ।’ অর্থাৎ, ‘আমি হিমালয় দেখিনি। তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমান। এভাবে আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতাই লাভ করলাম।’ অসংখ্য দর্শনার্থীদের প্রতীকী ৬০ ফুট উচ্চতার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দেখছেন আর সেই ন্যাম সম্মেলনে ফিরে যাচ্ছেন। সেখানে উপস্থিত হাসান আলী বলেন, রাজধানীর সাজ-সজ্জা দেখে মনে হচ্ছে আমরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই আছি। ফিদেল কাস্ত্রোর যেন আমাদের সামনেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ-এ কথা হয় একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দল ছাত্রের সঙ্গে। তারা দল বেঁধে মুজিব বর্ষের সাজ-সজ্জা দেখতে এসেছেন। তারা বলেন, পুরো রাজধানীতেই এক অন্যরকম পরিবেশ। খুবই ভালো লাগছে। শুধু তাই নয়, প্রদর্শনীগুলো দেখে আমরা অনেক কিছুই জারতে পারছি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলো শুনতে পাচ্ছি। সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকাকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। সংসদের লবিতে ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নৌকার উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পোট্রেট সংবলিত প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ১৯৫২ সাল থেকে শুনরু করে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাগুলো তুলে ধরা হবে। এছাড়া আলোকসজ্জার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে। সঙ্গে থাকবে লেজার শো। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানের কিছু অংশ এখানেই দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মুজিব বর্ষ উদযাপনে জাতীয় কমিটির বাইরে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। সেখানে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ছাড়াও সাজ-সজ্জার কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। সংসদ ভবনকে ঘিরে আলোক সজ্জার পাশাপাশি নান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দৃষ্টি নন্দন লেজার শোর আয়োজন থাকছে। সংসদ চত্বরে পুরো অনুষ্ঠান সাজানোর কাজ পেয়েছে এশিয়াটিক সোসাইটি। এশিয়াটিক সোসাইটির কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানটি রেকডিং হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানালা সংসদের স্থাপিত প্রজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৫-৭ মিনিটের আতশবাজি, ফায়ারওয়াকর্স ও লেজার শো। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলবে অনুষ্ঠানটি চলবে। তবে অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্ধারিত গণমাধ্যম এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ছাড়াও জেলা ও উপজেলা ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শনীর আয়োজন থাকছে। সেখানে স্থাপন করে নতুন নতুন কনটেন্ট সরবরাহ ও প্রচার করা হবে। সারা দেশে এক হাজার ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ওপর কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সমাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে সাজ-সজ্জা আগত যাত্রীদের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। বিমানবন্দরগুলোতে বর্ণিল আলোকসজ্জা, প্রোজেক্টরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ওয়ালপেপার, বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। শাহজালালে সর্বকালের সেরা ব্র্যান্ডিং ও সাজসজ্জার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের বাইরের অংশ থেকে শুরু করে প্রতিটি বোর্ডিং ব্রিজে লাগানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং তার জীবনচিত্র। প্রোজেক্টর বা ডিজিটাল স্ক্রিন স্থাপন করে সেগুলোতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে বিলবোর্ডে। পুরো বিমানবন্দরজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিলেও রয়েছে বর্ণিল আয়োজন। সুউচ্চ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা ছাড়াও নানান সাজসজ্জা করা হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও জীবনচিত্র সেখানে ফুটে উঠেছে। রাজধানী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরকে ঘিরে নিরাপত্ত একটু বেশী। সেখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশিষ্টজনরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উত্তোলনের কর্মসূচী রয়েছে। ধানমন্ডি ছাড়াও রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসটি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাতি প্রদর্শনী হবে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে আতশবাজীর মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তিনি বলেন, বড় ধরনের জনসমাগম পরিহার করে উৎসব-মূখর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে হবে। সেজন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Share
[related_post themes="flat" id="311579"]

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ॥ জিএম নুর ইসলাম, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, যশোর রোড, সাতক্ষীরা, ফোন ও ফ্যাক্স ॥ ০৪৭১-৬৩০৮০, ০৪৭১-৬৩১১৮
নিউজ ডেস্ক ॥ ০৪৭১-৬৪৩৯১, বিজ্ঞাপন ॥ ০১৫৫৮৫৫২৮৫০ ই-মেইল ॥ driste4391@yahoo.com