1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০২:২১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
করোনার অস্তিত্ব থেকেও নেই ॥ সবই যেন স্বাভাবিক ॥ কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি রুহুল হক এমপির সহধর্মীনি ইলা হকের দাফন সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করলেন এমপি রবি বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বাধীনতার রূপকার-জাতীয় শোক দিবসের প্রস্তুতি সভায় এমপি রবি নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করলেন এমপি জগলুল হায়দার সাতক্ষীরায় ব্যাংক কর্মকর্তা সহ আরো ১৬ জনের করোনা পজেটিভ শোকাবহ আগস্ট এমপি রবি’র শোক বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন রপ্তানি বাণিজ্য ও বাস্তবতা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার নোটিশ

কলারোয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্প

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মোঃ আলী হোসেন খোরদো কলারোয়া থেকে ॥ বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় ঐতিহ্য গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বনাঞ্চলের বাইরেও এখন যেভাবে গ্রামীণ বৃক্ষরাজি উজাড় হচ্ছে তাতে হারিয়ে যাচ্ছে এ জাতীয় গাছপালা। এক সময় এ দেশেরই বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশের তৈরি হতো হাজারো পণ্য। ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ কেটে গৃহিণীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের জিনিস। এখন সেই বাঁশ তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি। এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করত। বাসা-বাড়ি কিংবা অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই। এর ব্যতিক্রম নয় কলারোয়া উপজেলাও। তারপরও কলারোয়ায় উপজেলার গুটি কয়েক মানুষ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশের শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।বর্তমান প্রযুক্তির যুগে কলারোয়ায় বাঁশ শিল্পের তৈরি মনকারা বিভিন্ন জিনিসের জায়গা করে নিয়েছে স্বল্প দামের প্লাষ্টিক ও লোহার তৈরি পন্য। তাই বাঁশের তৈরি মনকারা সেই পন্যগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। কদর না থাকায় গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরী বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় আকর্ষনীয় আসবাবপত্র। অভাবের তাড়নায় এই শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে আজ অনেকে অন্য পেশার দিকে ছুটছে।শত অভাব অনটনের মাঝেও জেলায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈতৃক এই পেশাটি ধরে রেখেছেন।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে বাঁশ নেই বললেই চলে। এছাড়া তৈরি পণ্যের ন্যায্য মজুরিও পাওয়া যাচ্ছে না। উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং বাজারে প্লাষ্টিক সামগ্রীর দাপটে চারুশিল্পের চাহিদা দিন-দিন কমে যাওয়ার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশের তৈরী চারুশিল্প। তাই কলারোয়ায় প্রসিদ্ধ বাঁশ শিল্পীরা তাদের ভাগ্যের উন্নয়ের জন্য বাপদাদার রেখে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে বেছে নিচ্ছে অন্য পেশা। প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ শিল্প হয়তো আগামী দিনে এ অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জন্য বাঁশ বাগান টিকিয়ে রাখা জরুরি।এখনো বাঁশ পণ্যের চাহিদা থাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলারোয়ায়, খোরদো, যুগিখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশেই পাটুলী বাজার, শাকদাহ বাজার, কুশোডাঙ্গা বাজার, কাজির হাটসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাজারে এর কদর রয়েছে ব্যাপক। বাজারগুলোতে বাঁশের তৈরি কুলা, চালুন, খাঁচা, মাচা, মই, চাটাই, ঢোল, গোলা, ওড়া, বাউনি, ঝুঁড়ি, ডুলা, মোড়া, মাছ ধরার চাঁই, মাথাল, সোফাসেট, বইপত্র রাখার র‌্যাকসহ বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বসে আছেন এ পেশার কারিগররা। বিশেষজ্ঞদের ধরনা, সরকারী কোন সহায়তা পেলে হয়তো ফিরে পেতে পারে গ্রামগঞ্জের এই চিরচেনা শিল্পটি।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41