1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্যামনগরে শিক্ষিকা জেসমিন নাহার এর অকাল মৃত্যু জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ॥ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ রাখা যাবে না হকারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ আশাশুনিতে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করলের জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাঝে ঈদ উপসার বিতরণ সোমবার ঈদুল ফিতর ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা করোনা পজিটিভ আশাশুনির নিলুফা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ কাশিমাড়ী খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার ১২ গ্রাম প্লাবিত, কাজের কোনো অগ্রগতি নেই! সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ

বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৭১ হাজার ছাড়াল ॥ যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে প্রাণহানি ১২শ’ জন ॥ ইতালিতে একদিনে প্রাণহানি ৬৩৬ জন ॥ স্পেনে একদিনে প্রাণহানি ৬৩৭ জন ॥ চীনে বাড়ছে উপসর্গহীন করোনা রোগী

দৈনিক দৃষ্টিপাত ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ০ বার পড়া হয়েছে


এফএনএস : চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আজ বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপ নিয়েছে। রোগটি চীন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলেও সেদেশে বাড়ছে উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যা। সোমবার পর্যন্ত সারাবিশ্বে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ১১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৭১ হাজার ২৭৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন দুই লাখ ৭১ হাজার ৮৮২ জন। করোনা মহামারীতে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে আবারও নিজের পুরনো পেশায় ফিরলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার। তিনি ডাক্তার হিসেবে পুনরায় নিবন্ধন করেছেন এবং সপ্তাহে এক শিফট কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে ৩৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) জানায়, ৭৮ জন উপসর্গহীন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৪৭। এ ধরনের রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তাদের শরীরে কোন উপসর্গ দেখা যায় না এবং নিজের অজান্তেই তারা অন্যদের সংক্রমিত করেন। বিদেশ থেকে যাওয়া আক্রান্ত ব্যক্তি এবং উপসর্গহীন রোগীদের মোকাবেলা করাই এখন চীনের মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এনএইচসির মুখপাত্র মি ফেং বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রান্ত রোগী আসার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে নতুন করে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেন না হয় এজন্য সতর্ক থাকতে হবে চীনকে। উপসর্গহীন যেসব রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তাদের প্রায় অর্ধেকই হুবেই প্রদেশের। চীনের মূল ভূখণ্ডে এমন ৭০৫ জন রোগী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। কেবল গত সপ্তাহ থেকে উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করতে শুরু করেছে চীন। জানুয়ারির শেষদিকে লকডাউন করা উহান শহর থেকে যারা বাইরে যেতে চান, আগামী ৮ এপ্রিল থেকে তারা সে সুযোগ পাবেন। এমন সময় উপসর্গহীন রোগী বাড়ায় নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চীনে এখন পর্যন্ত ৮১ হাজার ৭০৮ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৩১ জন। বিশ্বজুড়ে রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় বিদেশী নাগরিকদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে চীন। তবে বিদেশ থেকে যাওয়া রোগীদের বেশিরভাগই চীনা নাগরিক। ১ এপ্রিল থেকে বিদেশ থেকে যাওয়া সবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে শুরু করেছে চীন। মৃত্যু ৭১ হাজার ছাড়াল ॥ করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ২৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইতালিতেই মারা গেছেন ১৫ হাজার ৮৮৭ জন। তারপরই রয়েছে স্পেন। সেখানে ১৩ হাজার ৫৫ জন মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ৯ হাজার ৬২০ জন। ফ্রান্সে ৮ হাজার ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটেনে ৪ হাজার ৯৩৪ জন মারা গেছেন। জার্মানিতে এক হাজার ৫৮৪ জন মারা গেছেন। ইরানে তিন হাজার ৭৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়ামে এক হাজার ৬৩২ জন মারা গেছেন। হল্যান্ডে এক হাজার ৮৬৭ জন মারা গেছেন। সুইজারল্যান্ডে ৭৩৪ জন মারা গেছেন। তুরস্কে ৫৭৪ জন মারা গেছেন। ব্রাজিলে ৪৮৯ জন মারা গেছেন। সুইডেনে ৪৭৭ জন মারা গেছেন। পর্তুগালে ৩১১ জন মারা গেছেন। কানাডায় ২৮০ জন মারা গেছেন। অস্ট্রিয়ায় ২২০ জন মারা গেছেন। ইন্দোনেশিয়ায় ২০৯, ডেনমার্কে ১৮৭, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৮৬ জন, ইকুয়েডর ১৮০, ফিলিপিন্স ১৬৩, রোমানিয়ায় ১৫৭, আলজিরিয়াতে ১৫২, পোল্যান্ডে ৯৮, মেক্সিকোতে ৯৪, জাপানে ৮৫, পেরুতে ৮৩ ইত্যাদি। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৫ জন। তাদের মধ্যে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৫ জন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন। বাকি ৪৫ হাজার ৯৯৪ জনের অবস্থা গুরুতর। ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২০০ মৃত্যু ॥ ইউরোপের দেশগুলোর পর প্রাণঘাতী করোনা দিন দিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে শুরু করেছে। এ ভাইরাসের কবলে প্রতিদিনই সেখানে হাজারও মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে নতুন করে এক হাজার দুই শ’ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৩৩ হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ছাড়াও বর্তমানে লুইজিয়ানা করোনা সংক্রমণের অন্যতম নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইতালিতে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬৩৬ জনের মৃত্যু, কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা ॥ ইতালিতে গতকালের চেয়ে আজকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ছয়শ ৩৬ জন মারা গেছেন। গতকাল পাঁচশ ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আজ সেই সংখ্যাটি বেড়েছে। এ নিয়ে ইতালিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার পাঁচশ ২৩ জনে। চীনের পর করোনা সবচেয়ে ভয়াল থাবা বসিয়েছে ইতালিতে। এই মারণ ভাইরাসের কালো থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশটি। প্রতিদিনই দেশটিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আক্রান্তও হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে আশার কথা হচ্ছে, লকডাউনের ফলে কমে এসেছে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার পাঁচশ ৯৯ জন। গতকাল (৫ এপ্রিল) আক্রান্ত হন চার হাজার তিনশ ১৬ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার পাঁচশ ৪৭ জনে। আক্রান্তের সংখ্যাটি আজ কমেছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। ২২ হাজার আটশ ৩৭ জন এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুঃস্বপ্ন কেটে আশা দেখছে স্পেন ॥ টানা চতুর্থ দিনের মতো স্পেনে প্রাণঘাতী করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। দেশটির সরকার বলছে, টানা চারদিন ধরে প্রাণহানি ধারবাহিকভাবে কমছে। প্রাণঘাতী ওই ভাইরাসে বিশ্বে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু স্পেনে হয়েছে। করোনায় বিপর্যস্ত স্পেনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেশটিতে করোনার সর্বোচ্চ প্রকোপ পার হচ্ছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশা করছেন। সোমবার দেশটির সরকারী পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে নতুন করে আরও ৬৩৭ জন মারা গেছেন। তবে এই সংখ্যা এক সপ্তাহ আগের মৃত্যুর চেয়ে প্রায় অর্ধেক। স্পেনের জরুরী স্বাস্থ্যসেবা কমিটির উপপ্রধান মারিয়া জোসে সিয়েরা বলেছেন, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, এই মহামারী বৃদ্ধির হার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে কমছে। ইরানে বেড়েছে আক্রান্ত ॥ ইরানে করোনায় আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ২২৬ এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৬০৩ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২২ হাজার ১১ জন। ৪ হাজার ১০৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জার্মানিতে আক্রান্ত ৩৬৭৭ ॥ জার্মানিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩ হাজার ৬৭৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ হাজার ৩৯১। সংক্রামক রোগ বিষয়ক সংস্থা রবার্ট কোচের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন নতুন করে করোনায় আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও গত চারদিনে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। প্লাস্টিকে মুড়িয়ে দাফন ॥ ইসলাম, খ্রীস্টান এবং ইহুদী- এই তিন ধর্মের মানুষের কাছে জেরুজালেম পবিত্র এক নগর। করোনার কারণে সেখানে বদলে গেল মরদেহ দাফনের নিয়ম। এ ভাইরাসে মৃতদের কাফনের কাপড়ের বদলে প্লাস্টিকে মুড়িয়ে দাফন করা হচ্ছে। তিন ধর্মের মানুষই এভাবে দাফন করছেন। সরকারী হিসাব অনুযায়ী করোনায় ফিলিস্তিনে একজন মারা গেছেন, আর ইসরাইলে ২৯ জন। আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। দুই সপ্তাহের লকডাউনে দুবাই ॥ প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার রাতে থেকে লকডাউন কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থা ও সঙ্কট বিষয়ক সুপ্রীম কমিটি জানিয়েছে। লকডাউনের সময় মানুষ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকার পাশাপাশি কেউ বিনা প্রয়োজনে বের হলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২৪ ঘণ্টায় একটি পরিবারের কেবল একজন সদস্য একবারের জন্য জরুরী প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে। লকডাউনের কারণে দুবাইয়ের মেট্রো ও ট্রামসেবা বন্ধ থাকলেও বাসে বিনামূল্যে এবং ট্যাক্সিতে ৫০ শতাংশ ছাড়ে ভ্রমণ করা যাবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41