1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্যামনগরে শিক্ষিকা জেসমিন নাহার এর অকাল মৃত্যু জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ॥ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ রাখা যাবে না হকারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ আশাশুনিতে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করলের জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাঝে ঈদ উপসার বিতরণ সোমবার ঈদুল ফিতর ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা করোনা পজিটিভ আশাশুনির নিলুফা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ কাশিমাড়ী খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার ১২ গ্রাম প্লাবিত, কাজের কোনো অগ্রগতি নেই! সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসির পরোয়ানা জারি

দৈনিক দৃষ্টিপাত ডেস্ক ::
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ০ বার পড়া হয়েছে

দৃষ্টিপাত ডেস্ক রির্পোট: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসির পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তার ফাঁসির পরোয়ানা ইস্যু করেন। এর আগে তাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এ সময় বিচারক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মামলার রায় পড়ে শোনান। এরপর বিচারক তার ফাঁসির পরোয়ানা জারি করেন। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল মান্নান বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মাজেদকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করি। আদালত তাকে গতকাল বুধবার আদালতে উপস্থিত করার জন্য দিন ধার্য করেন। ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এ সময় বিচারক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মামলার রায় পড়ে শোনান। এরপর বিচারক তাকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। আসামি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে কি-না-এমন প্রশ্নের উত্তরে পিপি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। আমার জানামতে, তিনি আপিল করার সুযোগ পাবেন না। গত মঙ্গলবার মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জুলফিকার হায়াৎ। এরপর দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর থেকে গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি মাজেদকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক ছিলেন। ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় সপরিবারে হত্যার শিকার হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। নির্মম সেই হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি আবদুল মাজেদ। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএস) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় দেন। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে ১২ আসামির মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল থাকে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে পাঁচ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। পরে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের ছুটি বাতিল: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যু দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বুধবারের ছুটি বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান এসএমএসের মাধ্যমে মিডিয়াকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঢাকার জেলা ও দায়রা আদালত ছুটিতে থাকায় ১৯৯৬ সালের ১০ ফেব্র“য়ারিতে ধানমন্ডি থানার মামলা নম্বর ১০, যার দায়রা মামলা নং ৩১৯/১৯৯৭ এ গ্রেফতার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের বিষয়ে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছিল না। তাই এ বিষয়ে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কর্তৃক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানান। এ কারণে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেবলমাত্র আজ (গতকাল বুধবার) ঢাকার জেলা ও দায়রা জজের আদালত এবং অফিসের ছুটি বাতিল করলো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41