1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গী হচ্ছে করোনা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

এফএনএস : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে দুই মাসের বেশি সাধারণ ছুটি শেষে আগামীকাল রবিবার থেকে অবরুদ্ধ অবস্থা কাটিয়ে অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহনের পাশাপাশি ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু ফের সচল হচ্ছে। প্রশ্ন হলো দেশে কোভিড-১৯ সর্বোচ্চ সংক্রমণের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়ার সিদ্ধান্ত কতটুকু ইতিবাচক হবে। করোনা প্রতিরোধে সরকারী প্রজ্ঞাপনে ১৩ দফা গাইডলাইন দেয়া হলেও সেক্টরভিত্তিক পৃথক গাইডলাইন জরুরী বলে মনে করেন অনেকেই। সরকারের নীতি-নির্ধারক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও করোনাকে মানিয়ে নিয়ে চলা ছাড়া সামনের দিনগুলোতে আর কোন পথ খোলা নেই। দেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন, উন্নয়নের গতি সচল রাখাসহ সার্বিক সঙ্কট মোকাবেলায় একমাত্র পথ হলো সেক্টর ভিত্তিক লকডাউন শিথিল করা। অন্যথায় দেশে যেমন দারিদ্র্যের হার বাড়বে, তেমনি বাড়বে বেকারত্ব। বাড়বে অভাবি মানুষের সংখ্যা। দেখা দিবে খাদ্য সঙ্কট। বন্ধ হয়ে যাবে শিল্পকারখানা। বিনিয়োগের মাত্রা হ্রাস পেতে থাকবে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে ফিরতে হবে স্বাভাবিক জীবনে। আর এখন স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গী হবে করোনা। এজন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তেমনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আলোচনা করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তারা আরও বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী বৈশি^ক এই মহামারী শীঘ্রই থামার কোন লক্ষণ নেই। তেমনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে আলোর দেখা মিলছে না। বেঁচে থাকার জন্য সামনের দিনগুলোতে একমাত্র পথ নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কর্মসংস্থানে যোগ দেয়া। তেমনি সরকারী-বেসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা। গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯০ লাখ শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তদারকি। সেইসঙ্গে বিকেল চারটার মধ্যে দোকানপাটসহ বাজার বন্ধ নিশ্চিত করতে জোর মনিটরিং করারও পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় সঙ্কটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ফের আনুষ্ঠানিক লকডাউন বা কারফিউ জারি ছাড়া সামনে বিকল্প কিছু থাকবে না। দেশে যখন প্রায় প্রতিদিন সর্বাধিক কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছে ঠিক তখন ঘোষণা আসে, ৩১ মে থেকে অফিস খুলবে, বাস-লঞ্চ-ট্রেন-বিমান চলবে। খুলবে পুঁজিবাজার। ব্যাংকে লেনদেন হবে আগের মতোই। দোকানপাট খোলা থাকবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এই ঘোষণার পরদিন শুক্রবার করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। বেশি পরীক্ষায় বেশি রোগী শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এভাবে সব খোলার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী মনে করছেন অনেকেই। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অর্থনীতি সচলের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব খোলা হবে। ১৫ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে ততদিনে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার অবস্থায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা দেশে ‘লকডাউন’ও ঠিকভাবে করা যায়নি, যে কারণে ভাইরাস এখন ৬৪ জেলায়ই ছড়িয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগী বাংলাদেশে ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়াতে লেগেছিল প্রায় এক মাস। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এক মাসের মধ্যে ৪ মে রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, ততদিনে দোকানপাট, কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত এসেছিল। মে মাসে সর্বাধিক সংক্রমণ দেখা যায়। এর মধ্যেই ঈদযাত্রায় ছাড় দেয়া হলে তার প্রতিক্রিয়ায় এই মহামারীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, তাহলে তো ভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার অফিস চালুর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩১ মার্চ থেকে সব সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারী অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত তরার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। গণপরিবহন চলার বিষয়ে আদেশে বলা হয়, সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারে। তবে সব অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। চলাফেরায় বিধিনিষেধ আগের মতোই থাকছে। আগের মতোই রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। এই সময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। হাট-বাজার এবং দোকানপাটগুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বেচাবিক্রি চলবে। সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত বন্ধই থাকবে। জনজীবন সচল করার ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরানোর যুক্তিই দেখিয়ে আসছে সরকার। ঈদের আগে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ঝড়-ঝঞ্জা-মহামারী আসবে। সেগুলো মোকাবেলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ঈদের সময়কালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ গবেষক বলেন, ঈদের আগে মানুষ বের হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে সবাই বের হচ্ছে। অর্থনীতি সচলের চাপ থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে আমরাও বিশ্বাস করি (ছুটি না বাড়ানো) এখনও সামাজিক-অর্থনৈতিক চাপ আছে। এখন যদি মানুষের জীবনের বড় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় কিংবা জানমালের বড় বিপর্যয় নেমে আসে কী হবে? এক্ষেত্রে ধাপে ধাপে খোলা উচিত ছিল বলে মনে করেন মুশতাক। জরুরী কিছু বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান খোলে দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করা উচিত ছিল। ধাপে ধাপে খোলার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ঝুঁকির আশঙ্কা ॥ সব কিছু খুলে দেয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও। কমিটির বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের শঙ্কার কথা জানিয়ে তারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতায় এই যে রোগ সংক্রমণের হার সুনির্দিষ্টভাবে না কমার আগে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালু করলে রোগের হার বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযোজ্য বিধিবিধান সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োগ না করে শিথিল করা হলে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিধি প্রয়োগ ছাড়া লকডাউন শিথিলে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা। প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই আলোচনা করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে হবে ॥ এদিকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই আলোচনা করে কাজের কর্মপদ্ধতি ঠিক করা উচিত। গণপরিবহন চলবে, কিন্তু কীভাবে দূরত্ব বজায় থাকবে। প্রতিটি জায়গায় তাদেরই দায়িত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। কমিউনিটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের পাশাপাশি ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যবিভাগের প্রতি পরামর্শ দেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের নেতা ডাঃ মুশতাক। তিনি বলেন, কেইস ডিটেকশন করতে হবে; আক্রান্তদের আলাদা করতে হবে এবং তাদের সারিয়ে তুলতে হবে। শহরে কমিউনিটি আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। আরও লোকবল নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিয়ে এবং শনাক্ত করে সেন্টারে নিয়ে যেতে হবে। সামনে কঠিন সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনই তো রোগের সংক্রমণ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা- রোগের সেবা দেয়ার পাশাপাশি সংক্রমণ যেন না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে।’

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41