1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

দূর্যোগ বন্ধু খলিলুল−াহ ঝড়ু’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্ধ হলো দাতিনাখালীর ভাঙনের পানি

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

এস এম জাকির হোসেন শ্যামনগর থেকেঃ শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত দাতিনাখালী পাউবো ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ভাঙনের পানি দূর্যোগ বন্ধু এম.খলিলুল−াহ ঝড়ু’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার এক সুপরিচিত নাম এম.খলিলুল−াহ ঝড়ু। যখনই দূর্যোগ, তখনই ঝড়ু। এমনই এক চলন বা রীতি বয়ে চলেছে উপকূল অঞ্চলে। আমাদের এলাকায় যখন নদী ভাঙন হয়, যখন বন্যা হয় তখনই আমাদের মাথায় হাত রাখার জন্য ঝড়ু চাচা চলে আসে। আল−াহ তাকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুন, আবেগ আপ্লুত হয়ে এসব কথা বললেন দাতিনাখালী গ্রামের আমিনা বিবি। ২০০৯ সালের কথা…… ২৫ মে সংঘটিত হয় ঘূর্ণিঝড় আইলা। কয়েকমাস পানি বন্দী থাকে শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার কয়েক শত গ্রাম। তীব্র সংকট দেখা দেয় সুপেয় খাবার পানির। তখনই আগন্তুকের মত হাজির হয়ে সেই খাবার পানির কষ্ট লাঘবে সুদৃঢ় ভূমিকা রাখেন যুব একাডেমি সাতক্ষীরার চেয়ারম্যান এম. খলিলুল−াহ ঝড়ু। শুধু আইলা নয়, যখনই দূর্যোগ তখনই এই মহামানবের দেখা পায় শ্যামনগর বাসী। এজন্যই সবার কাছে তিনি সমাদৃত ও সম্মানিত। ২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পান এর কবলে পাউবো ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় কয়েক শত গ্রাম। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম দিকে তেমন কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। আর ঠিক সেই সময়ই এলাকাবাসীকে সংঘবদ্ধ করে সবাইকে এলাকার স্বার্থে একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এর আহ্বান জানান এম. খলিলুল−াহ ঝড়ু। তার আহবানে সাড়া দিয়ে অত্র এলাকার সকল আপামর জনসাধারণ ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরদের তোয়াক্কা না করেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে ঝাপিয়ে পড়ে। তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল উক্ত ভাঙন মেরামত, তদারকি ও সার্বিক পরিচালনার জন্য ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতির সভাপতি এম. খলিলুল−াহ ঝড়ুকে সভাপতি করে একটি পিআইসি কমিটি গঠন করে দেন। দায়িত্ব পেয়ে কাজের গতি যেন আরও বেগে গেলো। চলতে লাগলো কাজ। সততার পুরস্কার হিসেবে ঝড়ুর দায়িত্বে স্বেচ্ছায় বাঁধ মেরামতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক দৈনিক মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বরাদ্দ দেন। জনগণ ও তখন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কাজে অংশগ্রহণ করে অবশেষে দাতিনাখালী আতিয়ার মোড়লের বাড়ী সংলগ্ন পাউবো ওয়াপদা বেড়িবাঁধ এর ইউটাইপ রিং বাঁধ মেরামত করতে সমর্থ হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, অত্র এলাকার অধিবাসীরা জানান, আমরা কোন চেয়ারম্যান মেম্বর চিনিনা। তাদের ভোট দিয়েও আমরা আমাদের বিপদের সময় তাদের পেলাম না। এরকম নেতা আমাদের দরকার নাই। ঝড়ু চাচার কথামতো স্বেচ্ছায় কাজ করে বাঁধ মেরামত করেছি। আমরা কোন চাল পাওয়ার লোভে কাজ করিনি, সারাবছর ভাল ভাবে ঘুমোতে পারবো সেই আশায় বাঁধে কাজ করেছি। সরকারের কাছে একটাই চাওয়া, আমরা ত্রান চাই না, চাই টেকসই বেড়িবাঁধ। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন জানান, আমি আজ নিজে উপজেলার দাতিনাখালী বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, রিং বাঁধ বাধা শেষ, বাঁধের উচ্চতার কাজ চলছে, জোয়ারের পানি যেন ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য। বাঁধ মেরামতের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য সরকারের তরফ থেকে ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বাঁধ মেরামতে সহযোগিতা করার জন্য পিআইসি কমিটির সভাপতি এম. খলিলুল−াহ ঝড়ুকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম আবুজর গিফারী জানান আমি গত কয়েকদিন আগেও এই এলাকার পিচ রাস্তা দিয়ে হাটু পানিতে ভাঙন মেরামত কাজ পরিদর্শনে গেছিলাম। তবে গত ২দিন এখানকার পিচের রাস্তা পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে এই রিং বাঁধ বাঁধা সম্পন্ন হয়েছে, তাই আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি নিয়মিত সমগ্র উপজেলা পরিদর্শন করি। এবং আরও লক্ষ্য করছি, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর আগ মুহুর্তে যেসব লোকজন সাইক্লোন শেল্টার এ আশ্রয় নিয়েছিল, তারাও তাদের নিজ গৃহে ফেরা শুরু করেছে। এ বিষয়ে পিআইসি কমিটির সভাপতি এম. খলিলুল−াহ ঝড়ু কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয় লোকজনের সতস্ফুর্ত সহযোগিতায় দাতিনাখালি ভাঙ্গনকবলিত একালার রিং বাঁধ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধ মেরামতে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রথমে ১০ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি এবং পরবর্তীতে আরও ১৫ মিনিট মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41