1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৫:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
যশোরে তিন কিশোর বন্দিকে পিটিয়ে হত্যা জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী আজ খাজরায় দু’গ্র“পের সংঘর্ষে আহত ২ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১০জন, থানার গাড়ি ভাংচুর ॥ আটক-২ নলতা পাক রওজা শরীফের খাদেম মৌলভী আনছার উদ্দিন আহমদ’র চল্লিশা উপলক্ষে মিলাদ শরীফ ও দোয়া অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় মেডিকেলে মৃত্যু দুই ॥ করোনায় আক্রান্ত আরো তিন জন রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা’র উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন বৃদ্ধ শুকচানের ভিক্ষাকরা কেবল বেমানান নয়, অমানবিকও বটে আজ শোকাবহ পনের আগষ্ট : জাতীয় শোক দিবস আশাশুনিতে দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা রাজস্ব পাঠাগারে চলচিত্রকর তারকে মাসুদ স্মরণে আলোচনা সভা

আরও ৩০২৭ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৫৫ জনের

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

এফএনএস: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড) সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন হাজার ২৭ জনের শরীরে পাওয়া গেছে এ ভাইরাস। ফলে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৫৫ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ১৫১ জনে। করোনাভাইরাস বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি নতুন যুক্ত একটিসহ মোট ৭৪টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ হাজার ৪৯১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ১৭৩টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো আট লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ২৭ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৫৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ১৫১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৯৫৩ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৮ হাজার ১০২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৫৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৬ এবং নারী নয়জন। এদের মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৮ জন, ষাটোর্ধ্ব ২১ জন, সত্তরোর্ধ্ব ছয়জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন। তাদের মধ্যে ২৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, সাতজন খুলনা বিভাগের, দুজন রংপুর বিভাগের, দুজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের। ৩৯ জন মারা গেছেন হাসপাতালে, ১৫ জন বাসায় এবং একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। সোমবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগীদের মধ্যে আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪ হাজার ২৪৫টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ২০১ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে মৃত্যু। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয়, ৩০ জুনের বুলেটিনে। সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে। মঙ্গলবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এদিকে, সারাদেশের হাসপাতালে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে ভর্তির চেয়ে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা এখন বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯৫ জন করোনা রোগী। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯১৪ জন। ভর্তি ও ছাড়প্রাপ্ত রোগীর ব্যবধান ৪১৯ জনের। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১৫ জন এবং ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৪৪ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চসংখ্যক রয়েছে। বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট মারা যাওয়াদের ৭৩ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনায় মারা যাওয়া দুই হাজার ১৫১ জনের মধ্যে ০-১০ বছরের ১৩, ১১-২০ বছরের ২৫, ২১-৩০ বছরের ৭১, ৩১-৪০ বছরের ১৫৫, ৪১-৫০ বছরের ৩২৩, ৫১-৬০ বছরের ৬২৪ এবং ৬০ বছরের বেশি ৯৪০ জন। দেশের আট বিভাগের মধ্যে ৫১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ঢাকায়, ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ চট্টগ্রামে, ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ রাজশাহীতে, ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ খুলনায়, ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বরিশালে, ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ সিলেটে, ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ রংপুরে এবং দুই দশমিক ৪২ শতাংশ ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। বুলেটিনে বলা হয়, রাজধানীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি এবং আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৯টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যা ১৪ হাজার ৫৭৫ টি এবং আইসিইউ শয্যা ৪০১টি। বর্তমানে সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৫৬ জন এবং আইসিইউতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১০ জন। অন্যদিকে দেশে করোনা শনাক্তে বেসরকারি পর্যায়ে আরও একটি পিসিআর পরীক্ষাগার (ল্যাব) সংযোজন করা হয়েছে। সেটি স্থাপিত হয়েছে আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে। এ নিয়ে মোট পিসিআর পরীক্ষাগারের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪টি। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসায় গত সপ্তাহে দেশের তিনটি হাসপাতালে লিকুইড (তরল) অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলো হলো- কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যার হাসপাতাল এবং কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন স্থাপন সম্পন্ন করবে। ইউনিসেফের সহযোগিতায় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ এবং ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স, ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার দেশের অন্য করোনা হাসপাতালগুলোতে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও শিশুদের টিকাদানের পাশাপাশি ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়ার (টিডি) টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি বাদ পড়া, ঝরে পড়া শিশু-নারীদের টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম বেগবান করতে ইতোমধ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিসহ (ইপিআই) বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চলমান রাখা হয়েছে। ফলে টিকাদান কেন্দ্রে সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। আপনাদেরকে আবারও আহ্বান জানানো হচ্ছে, ইপিআই টিকা কেন্দ্রে আসুন এবং টিকা দিন। নাসিমা সুলতানা বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য আরও জানানো যাচ্ছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশব্যাপী সব কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাদ পড়া, ঝরে পড়া শিশুদের তালিকাভুক্ত করে টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাদ পড়া, ঝরে পড়া ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীকেও তালিকাভুক্ত করে তাদের টিডি টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। সন্তান ধারণক্ষম নারীদের টিডি টিকা প্রদান চলমান রয়েছে। আপনারা আপনাদের শিশুদের প্রাপ্য টিকা এবং নারীদের টিডি টিকা নিশ্চিত করতে অবলম্বে নিকটস্থ টিকা কেন্দ্রে আসুন এবং টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন। বুলেটিনে ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের আহ্বান জানান। করোনাভাইরাসের ছোবলে গোটা বিশ্ব এখন মৃত্যুপুরী। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ১৭ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সাড়ে ৬৭ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41