1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

দুর্নীতিবাজ যেই হোক, ব্যবস্থা নেয়া হবে -প্রধানমন্ত্রী

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

এফএনএস: দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দল-মত নির্বিশেষে দেশব্যাপী চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়, দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব এবং এটা অব্যাহত থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সাথে জড়িত, অনিয়মে জড়িত, আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি। আর ধরছি বলেই, চোর ধরে যেন চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরা ধরি আবার আমাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এরআগেতো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল। সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে, যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, যতদূর পারি শুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই অনিয়মগুলো আমরা নিশ্চয়ই মানব না। এর আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বক্তৃতা করেন। তিনি বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলে কোভিড-১৯ এর মধ্যেও দেশব্যাপী তাঁর সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী। ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি, করোনা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়া বিষয়ে ব্যাপক ব্যয়ের পরিসংখ্যান এবং অন্যান্য অনিয়ম অসংগতির প্রসঙ্গে দেশে ’৭৫ পরবর্তী সামরিক সরকারগুলোর দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে দায়ী করেন। সরকার প্রধান তাঁর সরকারের একের পর এক বিভিন্ন দুর্নীতিবাজদের পাকড়াও করার দিকে ইঙ্গিত করে সরকারের দুর্নীতির মূল উৎপাটনে আন্তরিকতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি একইসঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও স্মরণ সকলকে করিয়ে দিয়ে ‘ভয়কে জয় করার’ ও পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ এর পরে যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে। কারণ, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালো টাকা, ঋণখেলাপিতা শিখিয়ে এই সমাজটাকে কলুষিত করে দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মানুষ আগে যে একটা আদর্শ নিয়ে চলত, নীতি নিয়ে চলত, দীর্ঘদিন এদেশে এই মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ এদেশের মানুষের চরিত্র হরণ করেছে। কারণ, তাদের অবৈধ ক্ষমতাটাকে নিষ্কণ্টক করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। তারা বছরের পর বছর এই দুর্নীতি-অনিয়মের বীজ বপন করেছে। তা মহীরুহ হয়ে গেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, আপনি যতই কাটেন আবার কোথা থেকে যেন গজিয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে চরিত্রহীনতা একেবারে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত। সেখানে আপনি যতই চেষ্টা করেন এর মূলোৎপাটন করা যথেষ্ট কঠিন। তিনি তাঁর সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের সাফল্য এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারপরও এর মধ্যে যে খবরগুলো পাচ্ছেন, এটা কারা করছেন? বন্ধ পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছর ধরে এ পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে সরকারের পক্ষ থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) দিতে পারছে না। সরকারের পক্ষ থেকে এভাবে বছরের পর বছর বেতন দিয়ে যেতে হবে। এ পাটকলগুলো সবচেয়ে পুরোনো ৫০ ও ৬০ এর দশকে এগুলো স্থাপন করা হয়েছিলো। এগুলো আর লাভজনক করা সম্ভব না। বিশ্বে পাটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা পাটের জিন আবিষ্কার করেছি। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী এ বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ পাটকলগুলোকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে হবে।আমরা সেটা কররো। শ্রমিকদের পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমরা পরিশোধ করবো। সব টাকা তাদের হাতে দেওয়া হবে না। দিলে খরচ হয়ে যাবে। অর্ধেক টাকা আমরা তাদের সঞ্চয়পত্র করে দেবো। এতে তারা প্রতিদিনের মজুরির চেয়ে বেশি পাবে। এ পাটকলগুলো আধুনিক করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এদের যারা আগ্রহী হবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে। এর আগে ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিজেএমসির পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য বিজেএমসির ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার পাওনা সরকার পরিশোধ করবে বলে সভায় আলোচনা হয়। করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাসের কথা শুনলেই মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়। এত আতঙ্কিত হবো কেন। মরতে তো একদিন হবেই। তবে নিজে সুরক্ষিত থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধিসহ যা যা মেনে চলার দরকার তা করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবো। আমাদের দেশে করোনারোগীর সুস্থ্যের হার অনেক বেশি। মনে সাহস রাখতে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনার পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনার কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। অতীতেও কখনো এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। করোনার যেন নিজস্ব একটা পদ্ধতি আছে। প্রথমে একজন আক্রান্ত হচ্ছে, এরপর দুই জন, এরপর আরও ১০ এভাবে ছাড়াতে থাকে। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকবে না। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ জুলাই মাস পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমে যাবে। সেটাই হচ্ছে। আশা করি, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এর আগে তিনি বলেন, ঘরে বসে বাজেটের সমালোচনা করা, এটা অনেকেই করতে পারে। কিন্তু মাঠে গিয়ে কাজ করার মতো কয়জন আছে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক যারা তারাই শুধু এই কাজ করে। তারাই শুধু মাঠে গিয়ে কাজ করে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41