1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

শঙ্কা নিয়ে শুরু বাজেট অধিবেশন স্বস্তিতে শেষ

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

জি এম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে ॥ করোনাকালিন মহা-দুর্যোগের মধ্যে নানা অস্বস্তি নিয়ে আয়োজন করতে হয় সদ্য শেষ হওয়া একাদশ সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনটি। নানা সর্তকতামূলক কড়াকড়ি আরোপ শর্তেও অধিবেশন শুরুর পর মন্ত্রী-এমপির পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব স্টাফের সঙ্গে নিরাপত্তা প্রহরী অনেকেই করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। ফলে চলতি অধিবেশন নয় কর্মদিবসের মধ্যে শেষ হলেও লম্বা মূলতবি দিতে হয় সংসদের অভিভাবক জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীকে। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শঙ্কা নিয়ে শুরু হওয়া অধিবেশন স্বস্তিতে শেষ হওয়ায় শুকরিয়া আদায় করা হয়েছে সংসদের পক্ষ থেকে। এজন্য অননুমোদিত কাউকে সংসদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতে হয় জাতীয় সংসদকে। সংক্রমণের কারণে অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিয়ে নানা শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার অবসান হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মাত্র ৯ দিনের অধিবেশনের দু’টি কার্যদিবসে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জুন শুরুর দিনে চলতি সংসদের সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা ও ১৪ জুন সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। অধিবেশনে একদিন বাজেট উত্থাপন হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মাত্র দুই দিন আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সম্পূরক বাজেটের ওপর একদিন আলোচনা হয়েছে। অতীতে বাজেটের ওপর ৪০ থেকে ৬৫ ঘণ্টার মতো আলোচনার রেকর্ড থাকলেও এবার আলোচনা হয়েছে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট। বাজেটের ওপর আলোচনার দিন ও ঘণ্টার হিসেবে এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে কম। অধিবেশন সমাপনী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আদেশ পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি টানেন ড. স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে এই অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং খুবই সতর্কতার সঙ্গে অধিবেশন চালানো হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ও এই মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। মহামারিকালের বাজেট উপস্থাপনেও ছিল ভিন্নধর্মী আয়োজন। প্রতিবছর অর্থমন্ত্রীকে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সংসদে বক্তব্য দিয়ে বাজেট উপস্থাপন করতে দেখা গেলেও এবার মাত্র ৫৭ মিনিটে বাজেট উপস্থাপন শেষ হয়। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল মাত্র ৬-৭ মিনিট। বাকি পুরো সময়টা ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেটের বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়। বাজেট ডকুমেন্ট বিতরণে প্রতি বছর পাটের ব্যাগে বেশ কয়েকটি পুস্তক সরবরাহ করা হলেও এবার কাগজের খামে কয়েকটি ছোট বই সরবরাহ করা হয়। অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বইগুলো পিডিএফ আকারে আপলোড করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটের উপর গত ২৩ জুন ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। ওই দিন বাজেটের ওপর ১১ জন সংসদ সদস্য বাজেটের ওপর আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেন। এরপর আরও ছয় দিন বিরতি দিয়ে ২৯ জুন সংসদের বৈঠক বসে। পরদিন বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ চারজন এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট আলোচনা করেন। এরপর পাস হয় অর্থবিল। পরদিন ৩০ জুন বাজেট পাস হয় সংসদে। প্রতি বছর বাজেট পাসের সময় অন্ততঃ অর্ধ ডজন দাবির ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হলেও এবার মাত্র দু’টি মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয় দুটি ছিল স্বাস্থ্য ও আইন। এবার বাজেটে ৫৯টি দাবির বিপরীতে ৪২১টি ছাঁটাই প্রস্তাব এসেছিল। জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ৯ জন সদস্য এই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো জমা দিয়েছিলেন। সংসদ অধিবেশনের মাঝপথে মন্ত্রিসভার একজন সদস্যসহ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন এমন দুই জন সংসদ সদস্যের করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। এ খবরে অধিবেশনের শেষ দিকে তালিকাভুক্ত সব সংসদ সদস্যের করোনা পরীক্ষা করিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। এরআগে কর্মকর্তাকর্মচারীদের করোনা টেস্ট করানো হয়। অবশ্য পরবর্তীতে কেউ আক্রান্ত হননি। অধিবেশনে সামাজিক দূরত্ব মেনে এমপিদের বসানো হয়। সেজন্য অধিবেশন কক্ষে উপস্থিতি ৮০-৯০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। অধিবেশন চলাকালে সংসদে গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ ছিলো। এতো কড়াকড়ির মধ্যেও সংসদের বিরোধী দল দাবি করা বিএনপি এমপিদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদ উত্তপ্ত হয়। দীর্ঘদিন পর সংসদে বক্তব্যের প্রদানে বাধা প্রদান করায় ওয়াক আউটের ঘটনা ঘটে। তবে সংসদের বিরোধী দল বরাবরিই সরকারের প্রতি নথজানু আচরণের কারণে সংসদ প্রাণবন্ততা হারাচ্ছিল। কিন্তু বিএনপির নির্বাচিত কয়েকজন সদস্য একাদশ সংসদ অধিবেশন যোগ দেয়ায় সংসদ অধিবেশন দেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সিনিয়র সংসদ্য হারুনুর রশীদ ও সংরক্ষিত মহিলা এমপি রুমিন ফারহানা মূখ্য ভূমিকা রাখছে। তবে সরকারি দলের সিনিয়র সদস্যরা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে নিজ দলীয় মন্ত্রীদের সমালোচনায় মূখর হওয়াতেও সংসদ প্রানবন্ত হয়েছে। সপ্তম সংসদের মতো আষ্টম এ সংসদেও সংবাদ সংগ্রহের জন্য সংসদ প্রবেশে সাংবাদিকদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এজন্য বিটিভি ও সংসদ টিভির সহায়তা নিয়ে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করেছে গনমাধ্যমকর্মীদের। এটাও সংসদের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41