1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২০, ০৫:১২ অপরাহ্ন

‘পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম নিউ ইয়র্কে খুন

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

এফএনএস : নিউ ইয়র্কে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে মেধাবী বাংলাদেশি তরুণ ফাহিম সালেহ। ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্টসাইডে নিজ এপার্টমেন্ট থেকে তার খণ্ড-বিখণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় রাইডশেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করা ফাহিম গত বছর প্রায় ২২ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে ম্যানহাটনে অত্যাধুনিক এই এপার্টমেন্ট কিনেছিলেন বলে জানা গেছে। পড়াশোনা শেষে ২০১৪ সালে দেশে ফিরে তিনি পাঠাও প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। পাঠাওয়ের মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া এবং আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় আরো দু’টি রাইড শেয়ারিং কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) তরফ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৯১১ নম্বরের এক টেলিফোন কলের মাধ্যমে পুলিশ প্রথম এই হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পারে। এরপর এনওয়াইপিডি’র ০০৭ (পুলিশ স্টেশন বা থানা) থেকে পুলিশ সদস্যরা ২৬৫ ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটে (সাফোক স্ট্রিটের কর্ণারে) ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। অত্যাধুনিক ওই কন্ডোমেনিয়াম ভবনের সপ্তম তলায় ফাহিমের এপার্টমেন্ট। সেখানে ঢুকেই পুলিশ দেখতে পায় যে, ড্রয়িং রুমের মেঝেতে একটি মস্তকবিহীন দেহ পড়ে আছে। এমনকি হাত এবং পাগুলোও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন। মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল একটি ইলেক্ট্রিক করাত। এছাড়া কয়েকটি প্লাস্টিক ব্যাগে ফাহিমের খণ্ডবিখণ্ড দেহের কয়েকটি অংশ পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডি’র বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর বলেন, নিহত ফাহিম সালেহ’র কাজিন (খালাতো বোন) পরিচয়ে জনৈকা মীরান চৌধুরী প্রথম ৯১১ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানান যে, তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সে কারণে পুলিশের সহায়তা চান তিনি। এর আগে সোমবার বিকালের পর থেকে মীরান চৌধুরী বেশ কয়েক দফায় ফাহিমের নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরের পর সরাসরি তার এপার্টমেন্টে চলে যান। কিন্তু সেটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং অনেকবার নক করার পরও খোলা হয়নি। তারপরই তিনি পুলিশকে ফোন করেন। এদিকে এনওয়াইপিডির অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই কন্ডোমেনিয়াম ভবনের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ফাহিম গত সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের সময় সর্বশেষ তার এপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। এ সময় সপ্তম তলায় যাওয়ার জন্য তিনি যখন নিচতলা থেকে এলিভেটর বা লিফটে চড়েন তখন আরো এক ব্যক্তি লিফটে উঠেন। স্যুট পরা লোকটির মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস পরা ছিল এবং সে একটি ব্রিফকেস বহন করছিল, ফাহিম সন্দেহের দৃষ্টিতে অচেনা ওই লোকটির দিকে তাকিয়েছেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। এরপর সে ফাহিমের সঙ্গেই সপ্তম তলায় নেমে পড়েন এবং ফাহিম তার এপার্টমেন্টের দরজা খোলা মাত্রই লোকটি তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং ধাক্কা দিয়ে তাকে এপার্টমেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছে তা আর সিসি ফুটেজে দেখা যায়নি। পুলিশ বলছে, প্রথমিকভাবে সবকিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে, হত্যাকারী একজন পেশাদার খুনি। ফাহিমের মৃতদেহটি ইলেক্ট্রিক করাত দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করা হলেও মেঝেতে কোনো রক্তের দাগ ছিল না। এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, গোকোডো নামে নাইজেরিয়ার একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি এবং পিকআপ নামে কলম্বিয়ার আরেকটি রাইডশেয়ারিং কোম্পানিরও তিনি অংশীদার। এরমধ্যে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে গোকোডো বড় ধরনের বিপর্যয়ের কবলে পড়লে গত বছরের শেষদিকে ফাহিম কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া ইন্দোনেশিয়াতেও একই ধরনের ব্যবসায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে ফাহিম সালেহ’র বাড়ি চট্টগ্রামে। স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, ফাহিমের দূর সম্পর্কের আত্মীয় আতাউর রহমান বাবুল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে জন্ম হওয়া ফাহিম সালেহ বেড়ে উঠে চট্টগ্রাম মহানগরে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের হরিসপুরের সন্তান আইবিএমের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদের ছেলে সে। তার বাবাও বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরে। তবে তার মা নোয়াখালীর মানুষ। ফাহিম ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করেছেন আমেরিকার বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রায় ২২ লাখ ডলারে কেনা ওই এপার্টমেন্টে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির পাশে পোকিস্পিতে মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন। কয়েকদিন আগে নিজের এপার্টমেন্টে উঠেন। রাইড শেয়ার অ্যাপ পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম নাইজেরিয়া ও কলম্বিয়ায় এমন দুটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোমপানির মালিক। বৃটেনের ডেইলি মেইল অনলাইনের খবরে ফাহিম সালেহকে একজন মিলিয়নিয়ার প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41