1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কালো সোনার হাতছানি ॥ অমিত সম্ভাবনার ব্লু ইকোনমি সাতক্ষীরা শহরের সড়কে সড়কে ও গ্রামের বাজারে বেওয়ারিশ কুকুর : খাদ্যের অভাবে হিংস্র হচ্ছে প্রভুভক্ত প্রাণি আশাশুনিতে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে জনপ্রশাসন সচিব সাতক্ষীরায় কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার ৮ম তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাতক্ষীরা সদরের চার ইউনিয়নের জলাবদ্ধ এলাকার পানি নিষ্কাষনের দাবিতে দ্বিতীয় দিন মানববন্ধন আমরা সবাই একটি সুন্দর সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখি – বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন’র উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় এমপি রবি নূরজাহান আহমদের কুলখানী অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে জনপ্রশাসন সচিবের বৃক্ষরোপণ হরিনগর ওয়াপদার সুইচগেটে আবারও ধস ॥ এলাকাবাসী আতঙ্কে লাবসায় মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের চেক প্রদান করলেন প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুর রহমান বাবু

শাঁখার সাতকাহন

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এফএনএস লাইফস্টাইল ডেস্ক: শাঁখা তৈরির মূল উপকরণ হচ্ছে সমুদ্রের কয়েক ধরনের শঙ্খ বা শামুক। এ শামুকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ তিতুপটি, রামেশ্বরি, ঝাঁজি, দোয়ানি, মতিছালামত, পাটি, গাড়বেশি, কাচ্চাম্বর, ধালা, জাডকি, কেলাকর, জামাইপাটি, এলপাকারপাটি, নাইয়াখাদ, খগা, সুরকিচোনা, তিতকৌড়ি, জাহাজী, গড়বাকি, সুরতি, দুয়ানাপটি ও আলাবিলা বিবাহিত হিন্দু নারীরা বিয়ের চিহ্ন হিসেবে হাতে শাঁখার তৈরি বালা পরেন। শাঁখার ব্যবহার কেবল বালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিয়ে কিংবা পূজার সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেন। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে এভাবে শাঁখার ব্যবহার হয়ে আসছে। শাঁখার প্রচলন কেবল বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও। আসলে ভারত থেকেই এসেছে এই ব্যবহার। ধারণা করা হয়, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে দক্ষিণ ভারতে উৎপত্তি ঘটেছিল এ শাঁখা শিল্পের। ১৯০৬ সালে সেখান থেকে কিছু শাঁখাশিল্পী, যারা শাঁখারি নামেই খ্যাত, তারা বাংলাদেশে এসে বসবাস শুরু করেন। তারা অবশ্য প্রথমে ঢাকার বিক্রমপুরে এ শিল্পের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করেন। কয়েক দিন পরে তারা বিক্রমপুর থেকে চলে আসেন শাঁখারীপট্টিতে, যা এখন শাঁখারীবাজার নামেই খ্যাত। কবে থেকে এই শাঁখা শিল্প গড়ে উঠেছিল ঢাকার বুকে, এমন প্রশ্নের উত্তরে শাঁখারি রণজিৎ সুর বলেন, কবে এই শাঁখারীবাজারের গোড়াপত্তন হয়েছিল, সে তথ্য কারোরই জানা নেই। তবে ধারণা করা হয়, রাজধানী ঢাকার জন্মেরও বহু আগে জন্ম হয়েছিল শাঁখারীবাজারের এ শাঁখা শিল্পের। ভারতে এর উৎপত্তি হলেও বাংলাদেশে এ শিল্প বেশ সুখ্যাতি লাভ করেছে। কথা হয়েছিল কয়েকজন শাঁখারির সঙ্গে। শাঁখা তৈরির উপকরণের কথা উল্লেখ করে বিদ্যুৎ কুমার নাগ জানান, শাঁখা তৈরির মূল উপকরণ হচ্ছে সমুদ্রের কয়েক ধরনের শঙ্খ বা শামুক। এ শামুকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ তিতুপটি, রামেশ্বরি, ঝাঁজি, দোয়ানি, মতিছালামত, পাটি, গাড়বেশি, কাচ্চাম্বর, ধালা, জাডকি, কেলাকর, জামাইপাটি, এলপাকারপাটি, নাইয়াখাদ, খগা, সুরকিচোনা, তিতকৌড়ি, জাহাজী, গড়বাকি, সুরতি, দুয়ানাপটি ও আলাবিলা। এই শঙ্খগুলো আনতে হয় শ্রীলংকার জাফনা ও ভারতের চেন্নাই থেকে। এদের মধ্যে তিতকৌড়ি সবচেয়ে দামি। প্রতিটি তিতকৌড়ি শঙ্খ আনতে হয় ৩ হাজার টাকায়। ১৯২০ সালে যার মূল্য পড়ত মাত্র ৩ টাকা। শাঁখা তৈরিতে শঙ্খ ছাড়াও করাত, তেপায়া, টুল, নুরান লাগে বলেও জানান তিনি। একটি শঙ্খ দিয়ে কয়টি শাঁখা বানানো যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ কুমার নাগ বলেন, একটি শঙ্খ দিয়ে মাঝারি আকারের চারটি এবং সরু ধরনের সর্বোচ্চ ১০টি শাঁখা বানানো যায়। শাঁখা তৈরি করতে শিল্পীকে মোট ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। হাজার বছরের পুরনো শাঁখা শিল্প এখন অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত। শাঁখা তৈরির কাঁচামালের অতিরিক্ত মূল্য এবং করারোপের কারণেই এ শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শাঁখারীবাজারে শাঁখা ব্যবসায়ের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ী শিব চরণ ধর বলেন, ‘শাঁখা তৈরিতে যে শঙ্খ ব্যবহার করা হয়, তা ভারতের সমুদ্রসীমায় জন্ম নিলেও আমাদের তা আমদানি করতে হয় শ্রীলংকা থেকে। তাও আবার চড়া মূল্যে। এ কারণে লাভের মুখ দেখি না বললেই চলে।’ তিনি বলেন, লাভের মুখ না দেখায় অনেক শাঁখা ব্যবসায়ীই এখন ব্যবসা হিসেবে অন্য কিছুকে বেছে নিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুদান পেলে অথবা শাঁখা শিল্পকে কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হলে হয়তো হাজার বছরের এ শিল্প আবার আলোর মুখ দেখবে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41