1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা প্রশাসনের সুধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ॥ সাতক্ষীরায় জাদুঘর স্থাপনে ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে মাধ্যমিকেও হচ্ছে না বার্ষিক পরীক্ষা কলারোয়ায় ফোর মার্ডারের ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালে উদ্ধার ॥ নিহতের ছোট ভাই রাহানুলের স্বীকারোক্তি ফলোআপ ঃ শোভনালীর চন্দ্র শেখর হত্যা মামলার আসামী মোবাশে^র আটক মুক্তিযোদ্ধা আবু নাসিম ময়নার বাড়ি ঘুরে এলেন সাংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সখিপুরে লক্ষ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের কাঙ্খিত ছাদ বাগানের অগ্রযাত্রা নলতা-তারালী সড়কে ইঞ্জিনভ্যান ও মটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১ ॥ আহত-২ বসন্তপুর প্রাইমারি স্কুলের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন এমপি লুৎফুল্লাহ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর খুলনা শিল্পকলা একাডেমি পরিদর্শন

কালের সাক্ষী অতিপ্রাচীন শিশুফুল গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি সচেতন মহলের

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফরিদুল কবির মথুরেশপুর থেকে ॥ সবুজে সমারোহ এক অপরূপ সৌন্দর্যের আবাস ভূমি কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রাম। এই গ্রামের দীর্ঘদিনের পরিচিতি গড়ের হাটের দৃষ্টিনন্দন বিশাল আকৃতির তিনটি প্রাচীন শিশুফুল গাছ দেশ বিদেশে সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছগুলোর সঠিক বয়স কেউ-ই জানেন না। তবে প্রবীণরা বলছেন, প্রায় দেড় থেকে দুইশ’ বছর বয়স হতে পারে গাছগুলোর। জনশ্রুতি রয়েছে শিশু ফুল গাছ তিনটি ইউনিয়নের সব থেকে বয়স্ক গাছ। ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বৃক্ষগুলো আজও দর্শনার্থী আর বৃক্ষপ্রেমিকরা একনজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশের শাসনামলে মুকুন্দপুর গ্রামে ভীম কৈবর্ত নামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী বসবাস করতো। সে চিড়া মুড়ি ভেজে হাট-বাজারে বিক্রয় করতো। সেসময় সড়কের পাশে বেশ কিছু শিশুফুল গাছ লাগিয়েছিল সে। হিন্দুস্তান পাকিস্তান পার্টিশনের সময় সে পরলোক গমন করলে তার পরিবার-পরিজন ভারতের উদ্দেশ্যে পাড়ী দেয়। ততকালীন সময়ে এই ভদ্রলোকের হাতে লাগানো গাছগুলোর মধ্যে এখনও তিনটি শিশুফুল গাছ কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। স্থানীয় মুকুন্দপুর জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মোহাম্মাদ আলী গাজী সহ স্হানীয় প্রবীণ অনেকেই গাছ সম্পর্কে জানান, কালিগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব কোনে অবস্থিত মথুরেশপুর ইউনিয়নের গড়ের হাট। গ্রামে ঢুকতেই দূর থেকে চোখে পড়ে এই প্রাচীন বৃক্ষগুলো। বছরের পর বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি শিশুফুল গাছ। এগুলোর আকার যেমন বিশাল তেমনি উচ্চতার দিক দিয়েও আশপাশের অন্যান্য গাছের তুলনায় অনেক বড়। এলাকার সবচেয়ে বয়স্ক বৃদ্ধরা তাদের বাপ-দাদাদের কাছ থেকে গাছগুলোর আকৃতি সম্পর্কে যেমন গল্প শুনেছেন, এখনো ঠিক তেমনই আছে। গাছগুলো তাদের কাছে ঐতিহ্য ও প্রাচীন নিদর্শন স্বরূপ। এজন্য গাছগুলোর কোনো ক্ষতি করেনা এলাকাবাসী। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ও বৃক্ষপ্রেমিকরা বিশাল এ গাছগুলো দেখতে আসে। গাছগুলোর বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন ইতিহাস অনুসন্ধানীরা। প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে শিশুফুল গাছগুলো টিকিয়ে রাখার দাবি উঠেছে। এজন্য গাছগুলো মূল্যবান প্রতœসম্পদ হিসেবেও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি সচেতন মহলের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালিগঞ্জ থেকে নুরনগর এলজিইডি সড়কের মুকুন্দপুর গড়ের হাটের পাশে পরিবেশের সৌন্দর্য্য বর্ধন পাশাপাশি শিশুফুল গাছ তিনটি অতিপ্রাচীন। সড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়েছে গাছগুলোর বিশাল শাখা-প্রশাখা। শিকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। প্রাচীন ইতিহাস দর্শনার্থীদের জানানোর জন্য গাছগুলোর গোড়ায় টানানো নেই কোন সাইনবোর্ড। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য গাছগুলোর পাশে নেই কোন বসার ব্যবস্তা। জানা গেছে, এক সময়ে গাছগুলোর জৌলুস ছিল, কালের বিবর্তনে গাছগুলোর বয়স বেড়ে যাওয়ায় ডালপালা শুকিয়ে আগের সেই জৌলুস হারাতে বসেছে। তাই গাছগুলো এখন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কলিম গাজী বলেন, গাছ নানাভাবে মানুষের উপকার করে। একটি গাছ মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদন অক্সিজেন উৎপন্ন করে। পাশাপাশি গাছপালা মায়ের আঁচলের মতো মানুষকে আগলে রেখে রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। গাছগুলো প্রাচীন গাছকে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা আশু প্রয়োজন। ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বদ্রু বলেন, গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। গাছ পরিবেশের সৌন্দর্য্য বর্ধনসহ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, ক্ষয়রোধ, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকে। তাই এ ধরনের প্রাচীন বৃক্ষ পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা আছাফুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের গাছগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন এটি করতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল এর নিকট গাছগুলোর বিষয়টি জানানে তিনি বলেন, সরেজমিনে যেয়ে দেখে জানাশোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41