1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দূর্গোৎসবে সাতক্ষীরার মন্ডবে মন্ডবে আলোর বিচ্ছুরন ॥ স্বাস্থবিধি, উৎসব এবং আনন্দ্রস্রোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সাগরে গভীর নিম্নচাপ, ভারী বর্ষণ-জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা খুলনায় জুট মিলের ভেতর শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা কালিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ১২শত’ ইয়াবাসহ গ্রেফতার-৫ শোভনালীর বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিত মন্ডল পারুলিয়ায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর সমাধীতে জিএম সৈকতের শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দূর্বিপাকে বাংলাদেশ দূর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে দেবহাটা প্রেসক্লাব বিদায়ী নির্বাহী অফিসার কে সম্মাননা জানালেন

সবজি চাষ ও পশু পালনে আত্মনির্ভরশীল অনেক গৃহিনী

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

জি,এম আল ফারুক ঃ আশাশুনির গৃহিনীরা সংসারের কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে বাড়ির মধ্যে পশু পালন ও সবজী চাষে আত্মনিয়োগ করে জীবন মান উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে এগিয়ে এসেছে। ফলে সংসারে নিজের কর্মের গুরুত্ব অপরিহার্য করার পাশাপাশি সামাজিক ভাবে পরিবারকে দিন বদলের যাত্রায় সংযুক্ত করে সম্মানজনক পর্যায়ে নিতে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। আশাশুনি উপজেলা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় লবণাক্ততায় ভরা। এখানের জীবন যাত্রা এখন লবণপানির মাছ চাষ ও কৃষি নির্ভর হলেও অনেক ভূমি এখনো পতিত থাকে। মানুষের একটি বড় অংশ কর্মহীন এবং অধিকাংশ গৃহিনীরা সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এসব গৃহিনীদের মধ্যে প্রতাপনগর ইউনিয়নের নাকনা গ্রামের রঞ্জন মন্ডলের স্ত্রী মলিনা এনজিও ফ্রেন্ডশিপের সহযোগিতায় বাড়ির আঙিনায় সবজীচাষ করে সংসারের চাহিদা পুরন করে ৫/৬ হাজার টাকা সবজী বিক্রয় করেছেন। এই টাকা থেকে ১১টি হাঁসের বাচ্চা ও ২টি রাজ হাঁস ক্রয় করে ফার্ম করেছেন। ফ্রেন্ডশিপের দেওয়া ছাগল লালন পালন করে গাভীন হয়েছে। খুব শীঘ্রই তিনি ছাগলের বাচ্চা পাবেন। সবজী বিক্রয়ের টাকা ও হাঁসের ডিম বিক্রয় করে তিনি সংসার খরচ নির্বাহসহ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি টাকা সঞ্চয় করছেন। একই গ্রামের নিরঞ্জন মন্ডলের স্ত্রী তাপসী গৃহস্থলীকাজের পাশাপাশি ফেন্ডশিপের দেওয়া ছাগল পুশে ২ বাচ্চা হয়েছেন। একটি বিক্রয় করে জামাইকে স্বর্ণের আংটি দিয়েছেন। সবজী চাষ করে সংসারের চাহিদা পুরণের পর ৭০০০ টাকার সবজী বিক্রয় করেছেন। এই টাকা দিয়ে ২৩টি হাঁস-মুরগি কিনেছেন। প্রতিদিন ৬টি করে ডিম দিচ্ছে, সামনের সপ্তাহ থেকে আরও ৬/৭টি ডিম বেশি আসবে বলে তিনি জানান। আনুলিয়া ইউনিয়নের ঘাসটিয়া গ্রামের রাজু রানী সবজী চাষ করে সংসার চাহিদা পুরন করে ৯০০০ টাকার সবজী বিক্রয় করেছেন। একটি ছাগল পুশে ৪টি বাচ্চা হয়েছে। ছাগল আবার গাভীন হয়েছে। অনুপমা রানী হালদার ১টি ছাগল পুশে ৫টি বাচ্চা পেয়েছে। আরও একটি ছাগল তিনি ক্রয় করেছেন। সবজী চাষ করে ৫০০০ টাকা সবজী বিক্রয় করে পেয়েছেন। তারা বলেন, আমরা মেয়ে হিসাবে সংসারে স্বামী মুখাপেক্ষী হয়ে ছিলাম। প্রয়োজনীয় কিছু পেতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। আজ আমরা নিজেরা আয় করছি, সংসার চালানোয় অংশীদার হয়েছি। নিজেদের প্রয়োজন মেটাচ্ছি, সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোয় ব্যয় করছি। আমরা সবাই ফার্ম তৈরি করতে আগ্রহী। মেয়েরা এখন সংসারে বোঝা নয়, তারাও সংসারের হাল ধরতে পারে এ আত্মবিশ্বাস সংসার ও সমাজে প্রমাণিত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে অলাভজনক ও অরাজনৈতিক বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ চর ও উপকূলীয় এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে সমমর্যাদাসহ পূর্ণ জীবনমান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব মানুষদের নিয়ে কাজ করছে। ঞৎধহংরঃরড়হ ঋঁহফ চৎড়লবপঃ (অঝউ) এর মাধ্যমে এনজিওটি আনুলিয়া ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের ঘাসটিয়া, ভোলানাথপুর, নয়াখালী, নাকনা, দরগাতলা আইট গ্রামে প্রত্যেক কমিটিতে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট ৬টি ডিএমসি কমিটি গঠন করেছে। এদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে একটি করে মিটিং হয়। পশু পালন, সবজী চাষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব অসহায় দুস্থ সদস্যদের প্রত্যেককে একটি করে ছাগী ছাগল বা ভেড়া এবং মৌসুম ভিত্তিক উন্নতমানের ২১ প্রকারের বীজ, কীটনাশক ফাঁদ ও ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। আয় রোজগার নিয়মিতকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্পদবৃদ্ধি এবং সমাজে সুশাসন যেমন- বাল্য বিবাহ, যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন বন্দ, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সম্পর্কে ধারণা, জিডি করার নিয়মসহ বিভিন্ন শিক্ষা মূলক আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণে উপজেলা কৃষি অফিসার ও মৎস্য কর্মকর্তাবৃন্দ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রজেক্ট ম্যানেজার শহীদুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় প্রজেক্টের ফ্যাসিলেটেটর আঃ মান্নান, আসাদুল হাসানের সহযোগিতায় আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ইউনুস আলীর তত্ত্বাবধনে এলাকার ১৮০ জন সদস্য পারিবারিক শিক্ষা প্রহণ এবং পশু পালন ও সবজী চাষ করে নিজেদের খাদ্য চাহিদা ও পুষ্টি পুরণে সক্ষম হয়েছেন। সাথে সাথে আর্থিক লাভবান হয়ে নিজের ও পরিবারের জন্য ভিত তৈরিতে এগিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাদেখি এলাকার অনেক পরিবারের নারীরা একাজে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। ফলে এলাকায় সংসার উন্নয়নে নারী জাগরণের জয়জয়াকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41