1. admin@dainikdrishtipat.com : admin :
  2. driste4391@yahoo.com : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাজার ব্যবস্থাপনায় জনবল সঙ্কটের অভাব আলু শূন্য সাতক্ষীরার বাজার ॥ চরম বিপাকে নি¤œআয়ের মানুষ ॥ ২৩ লক্ষ মানুষ অসহায় আলু সিন্ডিকেটের কাছে ভারী যান চলার উপযোগী করে গ্রামের রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ দলিত পরিষদ উদ্যোগে শারর্দীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সিমাই চিনি বিতারন দাকোপে ওয়াপদার রাস্তা নদী গর্ভে ॥ বিলিন, শত শত হেক্টর জমির ফসল পানির তলে রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতি বিজড়িত জাহাজ ঘাটা নৌদূর্গ অস্তিত্ব সংকটের পথে শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক খাস সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ ॥ প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ উপনির্বাচনে জেলা পরিষদ ৯ নং ওয়ার্ডে মাকসুদুর ও নূরনগর ৮ নং ওয়ার্ডে আলমগীর বিজয়ী কেরালকাতা ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনে ॥ চেয়ারম্যান পদে ভিপি মোরশেদের জয় নিরঞ্জন ঘোষ ছোট্ট ফ্যান প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত

প্রবাল দ্বীপের জীব-বৈচিত্র্য হুমকিতে

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

জি এম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে ॥ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জলজ ও উভয়চর (শৈবাল, কচ্ছপ, লাল কাকড়া, শামুক, ঝিনুক) প্রাণী এবং পাখিসহ নানা জীববৈচিত্র্য আজ হুমকিরমুখে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছে, এসব প্রাণীকুল বিলুপ্ত হবার পথে। কারণ হিসেবে বলছে, অতিরিক্ত পর্যটনের চাপ, যথেচ্ছারভাবে হোটেল-মোটেল নির্মাণ. নির্বিচারে গাছ কর্তন করে বন উজাড়, মানুষের মলসূত্রসহ নানা বর্জ্য ও প্লাস্ট্রিক সামগ্রীর বর্জ্যে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে প্রতিনিয়ম সেন্টমার্টিন স্তরের মিষ্টি পানি উত্তোলন, ২০০ ইট কংক্রিটের হোটেল, বহুতল নির্মাণ, ভবনের পয়:নিষ্কাসন ব্যবস্থা এবং খোলা পায়খানা নির্মাণসহ নানা পরিবেশ বিধবংসী কর্মকান্ডের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে কোরালসহ জীববৈচিত্র্য। এসব নানা অনিয়ম ও মানুষের বিরুপ আচরণের কারণে একমাত্র প্রবাল দ্বীপ রক্ষায় সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে গত বছরের ৩ মার্চ পরিবেশ ও জলবায়ূ মন্ত্রণালয় একটি সভা করেছিল। কিন্তু দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনো আশানুরুপ কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, টেলি-যোগাযোগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া এ বিষয়ে যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ওই কর্মকর্তা। এদিকে, পরিবেশ, জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের পর সম্প্রতি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীবভৈচিত্র্য রক্ষায় একটি কর্ম-পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র সচিব মোহাম্মদ আবু জাফর হাওলাদার স্বাক্ষরিত পত্রে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষে বিষয়টি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়েল সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন চৌধুরীকে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠায়। সেখানে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণকারী পর্যটকসহ সর্বসাধারণের সচেতন করার জন্য প্রচার, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ ছয়ধরণের সর্তকমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কঠিন তরল বা যে কোন বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে ফেলা নিষেধ সংক্রান্ত নিদের্শনা জারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মূল ভূখন্ড হতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ, লঞ্চে পর্যাপ্ত সংখ্যাক বীন স্থাপন ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করা। পানি বা অন্য স্থলজ বা জলজ প্রাণীকে চিপস্ বা যে কোন ধরনের খাবার পরিবেশন করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রতিটি জাহাজ বা নৌযানে কমপক্ষে ২-৩ জন স্টাফকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মূল ভূখন্ড থেকে দ্বীপে ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অনলাইন নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করা। আর মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিরুৎসাহিত করা; যদি কোন পর্যটক একান্তই সেখানে থাকতে চান তাহলে জাহাজে বা নৌযানে অবস্থান করা এবং টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নৌরুট এবং সেন্টমার্টিন এলাকাকে অথনৈতিক সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় দুর্যোগকালিন পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের জন্য আরোহন ও অবরোহনের জন্য আন্তজার্তিক মানের জেটি স্থাপন করা, যা বিআইডব্লিউটিএ করে থাকে। প্রবাল দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএর দেয়া প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়েল সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। কিন্তু প্রকৃতগত কারণে এবং পর্যটকদের অসচেতনার কারণে আজ এই প্রবল দ্বীপটি হুমকির মুখে। এই কাজটি যদিও পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের কাজ। তবুও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কিছু করণীয় আছে। সেই দিক বিবেচনায় আমরা পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণে একটি স্বল্প. মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি বাস্তবায়নে কিভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়, সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপদ দ্বীপে উঠার জন্যও কিছু পদক্ষেপ রয়েছে এই কর্মপরিকল্পনায় বলে জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ৮.৩ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপটিতে স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে আরও ৯ হাজার পর্যটক সেখানে অবস্থান করে। এতে ১৮ হাজার মানুষের চাপ নিতে হয় দ্বীপটিকে। তাই দ্বীপটি এতেটাই শংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে যে, হারাতে বসেছে তার প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য। চারদিকের বাতাস দুগর্ন্ধ। বলতে গেলে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন তার জীববৈচিত্র্য খোয়াতে এখন মুমুর্ষ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যমতে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীফকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ( ইসিএ) ঘোষনা করে সরকার। স্বচ্ছ পানি ও চারপাশ জুড়ে প্রবাল পাথরবেষ্টিত মনোলোভা পুরো দ্বীপটিই যেন নৈস্বর্গিক। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের পার্শ্ববর্তী ৮.৩ বর্গকিলোমিটারজুড়ে এটির অবস্থান। দেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনদেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্রও। সূত্র জানায়, সেন্টমার্টিনে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি-জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৫ প্রজাতির ডলফিন, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২ প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির বসবাস ছিল। এসব প্রজাতির অনেকটাই এখন বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন সময়ে তার উপর আবার দূষণের কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এসব জীববৈচিত্র্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, অতিরিক্ত পর্যটক এ দ্বীপের ভারসাম্যের জন্য হুমকি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে বলেও পরিবেশ সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পাশে ছেঁড়া দ্বীপ। এ দ্বীপের চারদিকে রয়েছে প্রবাল, পাথর, ঝিুনক, শামুকের খোলস, চুনা পাথরসহ প্রায় কয়েক শত প্রজাতির সামুদ্রিক জীব। এখন জনশূন্য এই ছেঁড়া দ্বীপের অপরূপ দৃশ্য দেখতেও কাঠের অথবা স্পিডবোটে ছুটে যাচ্ছে পর্যটকরা। এতে দিন দিন এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এবং সংবেদনশীল এই দুটি দ্বীপকে পরিবেশগত বির্পয় থেকে রক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুদেদাহা জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ আরও আগে থেকেই শুরু করা উচিত ছিল। কারণ ইতিমধ্যে হুমকি শুরু হয়ে গেছে। সেই অর্থে বলা যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই প্রবাল দ্বীপ বাঁচাতে হলে রাতে পর্যটকরা সেখানে থাকতে পারবে কি না কিংবা বছরের কোন মৌসুমে পর্যটকদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে -সেগুলোর আগে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু পর্যটক নন; সেখানে যারা স্থায়ী বাসিন্দা রয়েছে তারও পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। কারণ স্থায়ীবাসিন্দাদের প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এই দ্বীপের ধারণ ক্ষমতা কতটুকু সেটাও গবেষণা করে নির্ধারণ করে দিতে হবে। অন্যথায় স্থায়ীবাসিন্দাদের মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়ে তারাও এই দ্বীপটির জন্য সবসময় হুমকি হয়ে কাজ করবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি হলে বাড়তি জনবসতিকে স্থানান্তরের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। পরিবেশ বিষয়ে অভিজ্ঞ এই পরামর্শক বলেন, জীববৈচিত্য রক্ষায় শুধু আইন করলে হবে না, সেটার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকবে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি করতে হবে, যাতে এই দ্বীপের এখন পর্যন্ত যা ক্ষতি হয়েছে, আগামীতে আর ক্ষতি বাড়তে না পারে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41