1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
যোগ্যতা দিয়ে নারীদের অধিকার আদায় করতে হবে -প্রধানমন্ত্রী পাটকেলঘাটায় বড় ভাইয়ের দাঁয়ের কোপে ছোট ভাই খুন সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপিত হবে প্রস্তুতি সভায় রবি এমপি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারীদের ভূমিকা প্রশংসনীয় নারী দিবসের সভায় রবি এমপি প্রায় ১০ মাস পর লবণ পানি মুক্ত প্রতাপনগর কলকাতায় ভয়াবহ আগুনে নিহত ৭ আনন্দঘন পরিবেশে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের দায়িত্বভার হস্তান্তর গ্রাম বাংলার চিরায়ত খেলা হাডুডু কলারোয়ার নিষ্ঠুরতার চার হত্যা মামলা \ আজ দশম দিনের মত সাক্ষ্য গ্রহন করবেন বিজ্ঞ আদালত প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সম্পাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজের অবস্থান নিয়ে সতর্ক সরকার

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১

এফএনএস : ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, নতুন বছরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হবে। সব দলের ঐক্যের মাধ্যমে গণ অভ‚্যস্থান ঘটানো হবে এবছরই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন এটা তার দিবা স্বপ্নর বহিঃপ্রকাশ। এখন পর্যন্ত বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে তেমন কার্যকর কোন কিছু দেখাতে পারে নি। বরং সারাদেশে বিক্ষোভ বা সমাবেশ করতে তারা রাজপথে দাড়াতে পারেন না। তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় অধিকাংশ নেতা কোনো না কোনো মামলার আসামি। সেসব মামলায় তারা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে চান না। অন্যদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোন বিশেষ ইস্যুতে ঐক্য গড়ে ওঠার আপাতত সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি। তবে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের মত তৃণমূলের নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে পুরোপুরি ভিন্ন রূপ। একচেটিয়া ভোট পড়েছে নৌকায়। বিপরিতে ধানের শীষের প্রাথীরা জামানত হারাচ্ছেন। অবশ্য ভোটের এই ফলাফল বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা মেয়র পদে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। আবার বিএনপি প্রার্থীদের বেশিরভাগ নির্বাচনী প্রচারে যতটা তৎপর ছিলেন ভোট দিনে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নেওয়া, এজেন্ট রাখা এবং ভোটার আনার ব্যাপারে তাদের ততটা সক্রীয় দেখা যায়নি। গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হয়। এর মধ্যে ৪টি পৌরসভায় প্রতিদন্ধি না থাকায় মেয়র পদে ভোট হয় নি। বাকি ৫৬টি পৌরসভার মধ্যে ৩০টিতে জামানত হারিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। বিপরীতে বিপুল বিজয়ের মধ্যেও একটি পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী জানামন হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুয়ায়ী দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায়, মোট প্রদত্ত ভোটের ৬০ শাতাংশ পড়েছ নৌকায়। এর মধ্যে ১৪টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। মাত্র ৮ টি পৌরসভায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধে প্রতিদ্ব›দ্বীতা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ভোটের হার প্রথম ধাপের চেয়ে সামান্য কমেছে। এই ধাপে ভোট পড়েছে ৬১.৯২ শতাংশ। প্রথম ধাপে ভোট পড়েছিলো ৬৫ শাতংশ। প্রথম ধাপের নির্বাচনে আওয়মী লীগ পেয়েছিলো ৬৪ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পেয়েছিলো সারে ১৩ শতাংশ ভোট। এক সময় বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, গরিব রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিলো। এখন আর কেউ বাংলাদেশকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারে না। কিভাবে একটি রাষ্ট্রে উন্নয়ন করছে, দারিদ্র হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতে পারে, সে জন্য বিশ্বজুড়ে উদাহরন সৃষ্ঠি করছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের ধারা ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। ৬৭ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে, সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় সমপরিমাণ জায়গায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করে শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের উন্নয়নের অনুকরণীয়। ম্যাজিশিয়ান অফ ডেভলপমেন্ট। বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে দেশে দুর্নীতির মহোৎসব করছে। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে অনেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সবচেয়ে বড় তারা গণতন্ত্রের প্রধান অনুষঙ্গ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য। জয়ী হবার জন্য নয়। তাদের অপরাজনীতির করণে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে বিএনপি প্রকারান্তরে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুঠার মেরেছে। আওয়ামী লীগ মনে করে দেশে এখন কোন দুর্দিন নেই। ভয়াবহ দুর্দিন চলছে বিএনপর রাজনীতিতে। বিএনপি রাজনীতিক মনুস্তত্ব দুর্দশাগ্রস্ত। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশংসায় উদ্বেলিত আর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিং-সিটিং ও প্রকল্প উদ্বোধন করছেন তখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়র জেলেরঘানী টেনে ঘরে অসুস্থতায় চিকিৎসায় ব্যস্ত। কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি এ পর্যন্ত যোগদেন নি। যদিও সরকার বলছে, আইনগত ভাবে তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারবেন না। বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো কর্মসূচিতে তাকে সামনে আনতে পারেননি। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস তার পদের থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। এ বির্তকে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে তাপসের পক্ষে দুজন মানহানির মামলাও ঠুকে দিয়েছেন। তবে তাপস মামলা তুলে নেওয়ার আহŸান জানানোর পর সাঈদ খোকনও নিরব হয়ে গেছেন। সরকারদলীয় দুই নেতার মধ্যে এ বাগযুদ্ধ থেকে ফায়দা তুলতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, সাবেক ও বর্তমান দুই মেয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ একে অপরকে করছেন। দুদক কি করছে? তারা তদন্ত না করে কি তামাশা দেখছেন! কিন্তু না সাইদ খোকন ও শেখ ফজলে নূর তাপস নিরব হয়ে গেছেন। দলের মধ্যেও এনিয়ে কোন আলোচনা নেই। ফলে বিএনপিও এখন আর এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করছেন না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দলের সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই আবব্দুর কাদের মির্জার বিভিন্ন বক্তব্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড় চলছে। এ নিয়ে ওবায়দুল কাদের তার ভাইকে ধমক দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বের হলেও তার ছোট ভাই নিরব হননি। আব্দুল কাদের মির্জা ও তাপস-খোকনের বির্তকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মনে করেন ব্যক্তি স্বার্থ থেকেই এই ধরনের দ্ব›দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে কোনো ফায়দা নিতে পারবে না। বিএনপি কার্যকরী কার্যকরী সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে এ প্রযন্ত ব্যর্থ। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে যে সরকার বিরোধী মর্চ্চা গড়ে তোলার কথা বিএনপির মহাসচিব বলছেন, তার সম্ভাবনাও নেই। ছোট-বড় বেশকিছু দল শেখ হাসিনার মহাজোট ছায়ায় আছেন। তারাও সরকারের সমালোচনা করছেন না। জাতীয় পার্টির অবস্থাও তথৈবচ অন্যদিকে সরকার যথেষ্ট সতর্ক। কোনোভাবেই সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে দেবেনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকার বিরোধী ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা প্রচার প্রপাগান্ডা চললেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকলে তা আটকে দেয়া হচ্ছে। স¤প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক, দলের অঙ্গ-সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপর হতে বলেছেন এবং যে কোন অভিযোগের জবাব দিতে আহŸান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকারি সব গোয়েন্দা সংস্থা ও যথেষ্ঠ তৎপর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার ব্যক্তিগন উদ্যগে দলিও নেতা কর্মিদের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখছেন। আর গোয়েন্দারা সরকার বিরোধী কোনো তৎপরতার গন্ধ পেলেই সজাগ দৃষ্টি রাখছেন। কাজেই বিএনপি যদি রাজপথে শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করতে না পারে তার সরকারে ভিত নাড়াতে পারবে না।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41