1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৬ অপরাহ্ন

গৃহ পরিচারিকার অবৈধ গর্ভপাত \ নবজাতকের পরিচয় নিয়ে ধু¤্রজাল

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

একে সোহাগ কেশবপুর (যশোর) থেকে \ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য কেশবপুরে সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারের বাড়ীর গৃহ পরিচারিকা মহিলা পারভীনার অবৈধ গর্ভপাতের ফসলের পিতৃ পরিচয় নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ঘৃণিত এই ঘটনাটি ঘটেছে কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া বাজারস্থ নিকারী পাড়ায়। বৃহস্পতিবার উপজেলার পাঁজিয়া বাজারস্থ নিকারীপাড়ায় সরেজমিনে পারভীনার বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে অবৈধ গর্ভপাতের বিষয় জানতে চাইলে পারভীনার জা নেহারজান এই প্রতিনিধিকে জানান, প্রায় ১৫/১৬ বছর আগে পারভীনার স্বামী কুবাদ আলী ওরফে মোকিম মারা যায়। এরপর সে আর বিয়ে করেনি। পারভীনার একমাত্র ছেলে যশোরে একটি গ্যারেজে কাজ করে। পাঁজিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ এমএম আফসার আলীর বাসায় ঝি’র কাজ করে পারভিনা। প্রতিদিন বোরকা পরে বাড়ী থেকে বের হয়ে ঝি এর কাজ করে রাতে বাড়ীতে ফেরে সে। বাকী সময়টুকু সে বাড়ীতে একাই কাটিয়ে দিত। হঠাৎ করে বুধবার দুপুরে পারভীনার গর্ভপাতের ঘটনা জানতে পেরে ছুটে যায় হাসপাতালে। সম্ভবত আফসার ডাক্তারের বাড়ীতে কাজ করার সময় বেদনা শুরু হলে সে পার্শ¦বর্তী নজরুল খাঁর বাড়ী সন্নিকটে আমবাগানে গোপনে নিজেই নিজের গর্ভপাত ঘটিয়ে ঐ নবজাতককে জীবন্ত মারতে একটি ব্যাগের মধ্যে ভরে ফেলে দেয়। পারভীনাকে একা বাগানে যেতে দেখে সন্দেহ হয় পাশের এক মহিলার। এরপর সেই মহিলা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় একটি ব্যাগ আর ব্যাগের মধ্যে দেখতে পায় একটি নবজাতক পুত্র সন্তান। নবজাতকটি জীবিত থাকায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঐদিন রাতে নবজাতকসহ মাকে কেশবপুর হাসপাতাল থেকে যশোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে বাচ্চা ও মা উভয় সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। এদিকে প্রায় ১৫ বছর ধরে যে মহিলা বিধবা জীবন যাপন করছে, এমনকি কারো সাথে তার বিয়ে পর্যন্ত হয়নি। একজন বিধবার গর্ভে সন্তান এলো কিভাবে? আবার অবৈধ গর্ভপাতের পর ঐ নবজাতককে মেরে ফেলার চেষ্টা কেন? তার গর্ভের সন্তানের কথা পরিবারের লোকজন, এমনকি সে ভোরবেলা থেকে রাত পর্যন্ত যে ডাক্তারের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে তারাও জানে না তার গর্ভের খবর। তাহলে তার গর্ভের বাচ্চার আসল পরিচয় কি? কি তার পিতৃপরিচয়-এইসব নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এলাকাবাসির মনে। এক পর্যায়ে পুলিশের প্রশ্নের জবাবে পারভীনার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে ভাসুর ইয়াকুবের নাম। তবে এটি মানতে নারাজ প্রতিবেশীরা। অনেকের মন্তব্য সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত কাজ করে যে বাড়ীতে গর্ভের খবর তো তাদের জানার কথা, কেনই বা ডাক্তার মুখ খুলছে না? এটি গৃহকর্তা ডাক্তারের কারসাজি নয়ত! এব্যাপারে ডাক্তার আফসার আলী এই প্রতিনিধিকে বলেন, পারভীনা তার বাড়ীর কাজের মেয়ে। সে সকালে আসে রাতে বাড়ী যায়। তার পেটের বাচ্চার বিষয় তিনিসহ তার বাড়ীর কেউ জানেন না। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক ঐ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই তাপস জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ হয়নি। সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তবে তিনি জানান, পারভীনা স্বীকার করেছে তার ভাসুরের সাথে গোপনে বিয়ে হয়েছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41