1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন

করোনা মহামারির এক বছর

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১

এফএনএস : দেশে করোনা মহামারির আজ একবছর। বছরজুড়েই এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে মানুষকে। গত বছরের ৮ই মার্চ দেশে প্রথম তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত সাড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার। এরমধ্যে ৬০ বছরের বেশি মানুষ রয়েছেন ৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪ হাজার ৭১২ জন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হবে। বিভিন্ন গবেষণায়ও তা দেখা গেছে। করোনা প্রতিরোধে দেশে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ এবং নিবন্ধন করে অপেক্ষায় আছেন আরো ১২ লাখ। এদিকে, প্রথম থেকেই করোনার থাবা ছিল ঢাকাতে। হটস্পটও ছিল রাজধানী। দিনে দিনে সারা দেশে করোনা ছড়ালেও রাজধানীতেই অর্ধেকের বেশি রোগী শনাক্ত হন। ফলে এলাকাভিত্তিক বড় পরিসরে লকডাউন দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটির পরামর্শতে কমই নজর নিয়েছে সরকার। দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের উপরে ছিল। এক পর্যায়ে শনাক্তের হার প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে তিন সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী। দেশে একদিনে গত বছরের ৩০শে জুন সর্বোচ্চ ৬৪ জন মারা যাওয়ার খবর দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। শনাক্তও উঠেছিল ৪ হাজারের কিছু বেশি। শুরুর দিকে করোনার নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা ছিল কম। পরীক্ষা করার ল্যাবও ছিল মাত্র একটি। ফলে হিমশিম খেতে হয়েছে সংশি−ষ্টদের। এখন দেশে ২১৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৬০৬ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে শনাক্ত হলেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার ৪৬২ জন। ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৭ জন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৩ হাজার ৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৪ হাজার ৫৪টি এবং নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯২টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ২০৫টি। দেশে বর্তমানে ২১৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ১১৮টি পরীক্ষাগারে, জিন-এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ২৯টি পরীক্ষাগারে এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে ৭২টি পরীক্ষাগারে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ জন এবং নারী ২ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৯৭ জন এবং নারী মারা গেছেন ২ হাজার ৬৫ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং নারী ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আছেন ১ জন। এদিকে এক বছরে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছে ৩৭ জন। শতকরা হিসাবে দশমিক ৪৪ শতাংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৬৪ জন (দশমিক ৭৬ শতাংশ), ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১৭৩ জন (২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ), ৩১ থেকে ৪০ বছরের রয়েছেন ৪২৪ জন (৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ), ৪১ থেকে ৫০ বছরের রয়েছেন ৯৫৮ জন (১১ দশমিক ৩২ শতাংশ), ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ৯৪ জন (২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ) এবং ৬০ বছরের উপরে রয়েছেন ৪ হাজার ৭১২ জন (৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ)। বিভাগ বিশে−ষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে আছেন ৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন এবং খুলনা বিভাগের আছেন ১ জন। তারা সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৪ হাজার ৭৩৫ জন। শতকার হিসাবে ৫৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৫৫৯ জন (১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ), রাজশাহী বিভাগে ৪৮১ জন (৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ), খুলনা বিভাগে ৫৬৩ জন (৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ), বরিশাল বিভাগে ২৫৪ জন (৩ শতাংশ), সিলেট ৩১১ জন (৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ), রংপুর বিভাগে ৩৬৩ জন (৪ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯৬ জন (২ দশমিক ৩২ শতাংশ)। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৩১৯ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৩১৪ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৫ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩১ হাজার ৮০০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৪৫ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৩৬ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯০৫ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৯১ হাজার ১৯১ জন। এখন আইসোলেশনে আছেন ৯ হাজার ৭১৪ জন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ই মার্চে। টিকা নিয়েছেন প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ: করোনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় গত ২৭শে জানুয়ারি। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গতকাল সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর ২৪তম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় নিয়েছেন ২২ হাজার ৭৭৬ জন। এ পর্যন্ত দেশে মোট টিকা নিয়েছেন ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ২০ হাজার ৮৫৩ জন এবং নারী ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৯ জন। টিকা নেয়ার পর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে মোট ৮৪৮ জনের। অন্যদিকে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৮০৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস’র গতকালের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে টিকা নিয়েছেন ১৬ হাজার ৪৬৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ হাজার ৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ হাজার ২৫০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১ হাজার ৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৯ হাজার ৫৯০ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ হাজার ৮৬৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৩ হাজার ৮০৬ জন এবং সিলেট বিভাগে টিকা নিয়েছেন ৪ হাজার ৩৬৪ জন। উলে−খ্য, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি টিকা আনার চুক্তি হয় গত বছরের ৫ই নভেম্বর। সবাইকে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে। যার মধ্যে ২৫শে জানুয়ারি দেশে ৫০ লাখ ডোজ হাতে পাওয়ার পর জেলায় জেলায় তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া আরো ২০ লাখ ডোজ টিকা আসে ২২শে জানুয়ারি। এ ছাড়া ফেব্র“য়ারি মাসে এসেছে কিনা টিকার আরো ২০ লাখ ডোজ। কোভ্যাক্স থেকেও আসবে প্রায় ৭ কোটি ডোজ টিকা। দেশের ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেযার সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে বলে সংশি−ষ্টরা জানিয়েছেন।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41