1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

শ্যামনগরে অনাবৃষ্টির কারনে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষীরা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি \ শ্যামনগর উপজেলায় অনাবৃষ্টির কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তরমুজ চাষীরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টির কারনে উপজেলায় রসালো ফল তরমুজ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে, চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন। উপজেলার উৎপাদিত তরমুজের সুনাম রয়েছে জেলা ও জেলার বাইরেও। উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে ও ঈশ্বারীপুর ধূমঘাট গ্রাম উৎপাদিত তরমুজের স্বাদ সকলের অজানা নয়। বাজারে ক্রেতাদের মুখে শোনা যায়, কৈখালী ও ধূমঘাট তরমুজের গুণকীর্তনের কথা। সুস্বাদু রসালো ফল তরমুজ এবার খরায় স্বাদ ও সাইজে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খরার কারণে তরমুজ চাষিদের এবার উৎপাদন খরচ উঠবে কীনা এ নিয়ে চিন্তায় আছে তরমুজ চাষীরা। উপজেলার কৈখালী বোশখালী, পশ্চিম কৈখালী বেশি তরমুজ চাষ হয়। কৈখালী তরমুজ চাষী আলমগীর হোসেন জানান, আমি ১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি কিন্তু এ বছর প্রচন্ড খরার কারণে তরমুজের সাইজ ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং তরমুজ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে নিচের দিকে। খরার কারণে তরমুজে ভাইরাস লেগেছে। এরফলে তরমুজের ভিতরে গাড় লাল রং হচ্ছে না এবং মিষ্টি কমে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলী হাসান জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৬০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে কৈখালী ইউনিয়নে ও ঈশ্বারীপুর ইউনিয়নে। এছাড়া ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে তরমুজ চাষ হয়ে থাকে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোদাচ্ছের বিল্যাহ বলেন, উপজেলায় গতবার তরমুজ চাষ হয়ে ছিল মাত্র ৫০ হেক্টর এবং উৎপাদন ছিল ৩০ মে: টন। গতবার চাষিরা ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার তিনগুন জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে তরমুজ প্রতি কেজি বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া বলেন, অন্যান্য বছর বৃষ্টির কারণে তরমুজের ওজন ছিল ১০ থেকে ১২ কেজি। এবার বৃষ্টির অভাবে তরমুজের ওজন হয়েছে ৪ থেকে ৫ কেজি। তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় এবার তরমুজ বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, শুকিয়ে যাচ্ছে তরমুজ ক্ষেত। উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃতি নির্ভর বৃষ্টির উপর ভরসা করে উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কৈখালী, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় চাষিরা শতশত বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানি না পাওয়ায় চাষিরা নিজস্ব পুকুর বা জলাশয়ের পানির উপর নির্ভর করে তরমুজ সহ অন্যান্য ফসল চাষ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সেটিও শেষ হওয়ায় এখন চাষিদের অপেক্ষা এক পশলা বৃষ্টি। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফসল চাষের সুবিধার্তে মিষ্টি পানি সংরক্ষণার্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পুকুর খননের দাবী জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম বলেন, পানি সংকটের কারণে উপজেলার তরমুজের সাইজ ছোট হচ্ছে, বাঁকা হচ্ছে। আবার কোথাও পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন সরজমিনে কৈখালীর কয়েকটি তরমুজ চাষির ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তরমুজ ফসলের ক্ষেতে পানি সংকটের অভাব মেটাতে সন্ধ্যার পর পানি স্প্রে করতে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে ও মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাকড়নাশক থিওভিট সঠিক মাত্রায় স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাষিদের। উপজেলার তরমুজ চাষিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরা জানান, ফসলের ক্ষেতে একটু বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে উৎপাদিত ফসলের মাত্রা বেড়ে যেতো। সাথে সাথে তরমুজের স্বাদও বেড়ে যেতো। সবমিলিয়ে সকল প্রকার চাষিদের অপেক্ষা বৃষ্টির। উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম এনামুল ইসলাম ও চাষিরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউপির খালগুলিতে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা হলে কৃষি ফসল উৎপাদনে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে। সাথে সাথে উৎপাদিত খাদ্যে উপজেলার মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41