1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:১৮ অপরাহ্ন

সুফল পাচ্ছে না সরকার \ করোনা সংক্রমণ বাড়ছে হু হু করে

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

জি এম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে \ করোনা সংক্রমণ রোধে চলামান বিধি-নিষেধ এর তৃতীয় দিন ছিল গতকাল বুধবার। এ বিধি-নিষেধে সবকিছু খোলা রেখে সাধারণ মানুষকে ঘরে রেখে করোনা বিস্তার ঠেকিয়ে রাখার কৌশল ছিল সরকারের। কিন্তু কয়েকদিনের আক্রান্ত ও সংক্রমণের হার যেভাবে উর্দ্ধমুখী -এর থেকে নূন্যতম সুফল পায়নি সরকার বলে মনে করছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছে, উল্টো বলা যায় -হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। আগামী দুই সপ্তাহে আরও ভয়াবহ পরিস্থতি হতে পারে -এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় কোভিড মোকাবিলায় যে ভুলগুলো হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার এর চেয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। গতকাল আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬২৬ জন এবং মৃত্যু তিনজন কমে ৬৩ জন। সরকারের দেওয়া প্রতিবেদন বলছে, গণপরিবহন, গণজমায়েত, উপাসনালয় এবং বিনোদনকেন্দ্রগুলো থেকে বেশি ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল বুধবার দেশের সব সিটি এলাকায় গণপরিবহন চলাচল উন্মুৃক্ত করা হয়েছে। মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে এই পথ ধরলেও বিশেষজ্ঞদের অভিমতে করোনার বিস্তারে সহায়ক এই গণপরিবহন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলছে এই পাবলিক বাসগুলো। ফলে সোম-মঙ্গলবারে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষামান যাত্রীদের যে চাপ ছিল, -গতকাল কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। যাত্রীদের সংখ্যার তুলনায় দুপুরের দিকে বাসের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। দু-একজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুঁটেছে কিছু কিছু গণপরিবহন, যা আল মক্কা পরিবহনের রহিম নামে একজন কন্ডাক্ট্রটার এ প্রতিবেদককে জানান। বাসটি মিরপুর-১ ভায়া মহাখালী-গুলিস্তান-মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল করে। এদিকে শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে চলাচল করা গণপরিবহনে যাত্রী চাপ কম থাকলেও মূল সড়কের বাসগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতেও দেখা গেছে। আসাদগেট থেকে শ্যামলী যাত্রাপথে প্রজাপতি বাসে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ওই গাড়ির হেলপার বলেন, সকাল থেকে দুই ট্রিপ দেওয়ার পরেও তেলের দাম তুলতে পারি নাই এখনো। দুই একজন যাত্রী এক্সট্রা না নিলে আজ (গতকাল) গাড়ির জমাও পরিশোধ করা সম্ভব হইবো না। এই অবস্থায় আমরা কি করতে পারি আপনেরাই কন। বাস চালকেরা মনে করছেন, লকডাউনের কথা শুনে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। তাই এসব বাসে আজকে যাত্রী কম। উত্তরা থেকে মিরপুর-ঘাটারচর রোডে চলাচল করা পরিস্তান বাসের চালক জহিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, লকডাউন যে এত তাড়াতাড়ি খুইলা দিব সেইটা তো কেউ ভাবে নাই। তাই অনেকেই ঢাকা ছাইড়া বাড়ি গেছে। কেউ কেউ অফিস থাইকা এক সপ্তাহের ছুটি নিয়া বাড়ি গেছে। এই কারণে আজ যাত্রী কম। আশা করি আগামী রোববারের মধ্যে আবার আগের মতো যাত্রীচাপ হইব। করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ডা: বেনজীর আহমেদ বলেন, বর্তমানে সংক্রমণের যে হার এবং সরকারের নেওয়া এখন পর্যন্ত পদক্ষেপ থেকে কোন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এটা পেতে হলে সরকারকে অবশ্যই সমস্ত কিছু বন্ধ করে দিতে হবে। আধা-আধি কাজ করলে পরিণাম ভয়াবহ হবে। সরকারকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কি বললো, পরিবহন নেতারা কি বললো, দোকানদার কি বললো -এসব ভাবলে চলবে না। করোনা সংক্রমণ নিয়স্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। মানুষের জানমালের কথা ভাবতে হবে; তাহলেই তাৎপর্যপূর্ণ ফল আশা করা যায়। সাবেক এই পরিচালক গণপরিবহন উন্মুক্ত করায় কঠিন সমালোচনা করে বলেন, এতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। যাত্রীরা একসঙ্গে মিশবে। হেলপার ও যাত্রীর কোন সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকবে না। মাস্ক পড়লেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহন চালু থাকার সুযোগে সবই কাছাকাছি চলে আসবে। রাজধানীতে দুই কোটি মানুষের বসবাস। তাই সব খোলা রেখে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আর সব সিটি হিসাব করলে ৪-৫ কোটি মানুষের বসবাস। গণপরিবহনের কারণে এই মানুষগুলো ঝুঁকিতে থাকবে। তিনি বলেন, সব সিটিতে যে মানুষ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশে এই পরিমাণ জনসংখ্যা নেই। তাই সংক্রমণের উর্দ্ধমুখীর মধ্যে গণপরিবহন খুলে দেওয়া সরকারের যৌক্তিক কোন সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটা করায় বড় সমস্যায় পড়তে হবে। ডা. বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। কে মানবে, কে মানল না এসব বিবেচনা করলে চলবে না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানায় বাধ্য করতে হবে। হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা সংক্রমণ এখন সুনামীর মতো প্রচন্ডগতিতে আঘাত হেনেছে। কোন হাসপাতাল খালি নেই। এর আশপাশ দিয়ে সংক্রমিত রোগী ঘোরাফেরা করছে। গামেন্টস, দোকান এবং গণপরিবহন খোলা রেখে বিধিনিষেধ আরোপ -এটা সরকারের অভিনয় মাত্র। তিনি বলেন, সংক্রমণ রুখে দিতে চাইলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানায় বাধ্য করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পথে নামাতে হবে। পাড়া-মহল­ায় তদারকি বাড়াতে হবে। মাস্কবিহীন রাস্তায় কেউ যাতে নামতে না পারে মানুষকে সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। ডা: লেলিন চৌধুরী বলেন, সরকার প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছে। লকডাউন না থাকায় বড় শহর থেকে গ্রামে মানুষ চলে গেছে। এর ফলে আগে ৩১ জেলা করোনার ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখন বলা যায় সারাদেশ ঝূঁকিপূর্ণ। দেশে কমপক্ষে দুই সপ্তাহের লকডাউন দিতে হবে। সেটা না করলে নিদিষ্ট এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। ধর্মীয়, সামাজিকসহ সব ধরণের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। এসব না করতে পারলেও ৬ঘন্টা খোলা রেখে জরুরি অবস্থা (কারফিউ) জারি করতে হবে। নামকয়াস্তে বিধিনিষেধ দিয়ে -জগাখিঁচুড়ি পরিবেশ তৈরি করা হলে ভালোর চেয়ে মন্দই বেশি হবে বলে জানান এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41